© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

পর্তুগালে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে চলছে ভোটগ্রহণ

শেয়ার করুন:
পর্তুগালে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে চলছে ভোটগ্রহণ

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৪:৩৪ পিএম | ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬
ইউরোপের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দেশ পর্তুগালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বর্তমান প্রেসিডেন্ট মার্সেলো রেবেলো দে সোসা সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতার কারণে টানা দুই মেয়াদ শেষে এবার আর নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না। ফলে দেশটি একজন নতুন রাষ্ট্রপতি বেছে নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আজ সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া ভোট চলবে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত। এবারের নির্বাচনে মোট ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ১০ জন পুরুষের পাশাপাশি রয়েছেন একজন নারী প্রার্থীও।

এই নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বামপন্থি, ডানপন্থি, মধ্যপন্থি ও উদারপন্থি– সব ধরনের রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রতিনিধিত্ব থাকায় নির্বাচনটি হয়ে উঠেছে বহুমাত্রিক ও অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ। ভোটারদের সামনে রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রতিশ্রুতি।

নির্বাচনী প্রচারণায় দেশের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সমস্যা বিশেষভাবে উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে বাড়িভাড়া ও আবাসন সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, অভিবাসন ও সীমান্ত নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সামগ্রিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। প্রার্থীরা এসব ইস্যুতে ভিন্ন ভিন্ন সমাধানের কথা তুলে ধরে ভোটারদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন।

পর্তুগালের সংবিধান অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী যদি প্রথম দফার ভোটে মোট ভোটের ৫০ শতাংশের বেশি অর্জন করতে না পারেন, তাহলে শীর্ষ দুই প্রার্থীকে নিয়ে দ্বিতীয় দফার ভোট অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে দ্বিতীয় দফায় ভোট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা নির্বাচনকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলছে।

উল্লেখ্য, পর্তুগালের রাষ্ট্রপতি পদটি প্রধানত সম্মানসূচক হলেও এর সাংবিধানিক ক্ষমতা রয়েছে। রাষ্ট্রপতি সংসদ ভেঙে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন, আইনে ভেটো দিতে পারেন এবং রাজনৈতিক সংকটের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ফলে এই নির্বাচন দেশটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভারসাম্য ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সবমিলিয়ে পর্তুগালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন শুধু একটি সাংবিধানিক পদে নেতৃত্ব পরিবর্তনের বিষয় নয়, বরং এটি দেশটির রাজনৈতিক দিকনির্দেশ ও জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

এসকে/এসএন

মন্তব্য করুন