© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নিয়ে সংসদে যাবেন তরুণ বিএনপি নেতারা

শেয়ার করুন:
রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নিয়ে সংসদে যাবেন তরুণ বিএনপি নেতারা

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:৪৯ পিএম | ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে বিএনপির দ্বিতীয় প্রজন্মের একঝাঁক নেতা উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছেন। প্রবীণ রাজনীতিকদের উত্তরসূরিরা নিজ নিজ এলাকায় সংগঠনভিত্তিক রাজনীতির ধারাবাহিকতা কাজে লাগিয়ে সহজেই নির্বাচনি বৈতরণী পাড়ি দিয়েছেন, যা দলটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের দিকনির্দেশনা হিসেবেও দেখছেন বিশ্লেষকেরা।

ফরিদপুর–২ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে জয় পেয়েছেন শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু। তিনি এক লাখের বেশি ভোট পেয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে বড় ব্যবধানে হারান। মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও বিএনপির সাবেক মহাসচিব কেএম ওবায়দুর রহমানের কন্যা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই এই অঞ্চলে রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন তিনি। বাবার রাজনৈতিক ভিত্তিকেই শক্তিতে রূপ দিয়ে এবার নিজের অবস্থান পোক্ত করলেন।

পঞ্চগড়–১ আসনে সাবেক স্পিকার জমিরউদ্দিন সরকারের উত্তরসূরি হিসেবে মাঠে নামেন তার ছেলে মোহাম্মদ নওশাদ জমির। বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী সারজিস আলমকে পরাজিত করেন। উল্লেখযোগ্য ভোটার উপস্থিতির এই আসনে জয়টি দলটির জন্য কৌশলগত গুরুত্ব বহন করছে।

যশোর–৩ আসনে বিজয়ী হয়েছেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। বিএনপির প্রয়াত স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলামের ছেলে হিসেবে তিনি ইতোমধ্যেই বৃহত্তর খুলনা অঞ্চলে নিজের রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। বাবার রেখে যাওয়া সংগঠন ও সমর্থনভিত্তিই তাকে জয়ের পথ সুগম করে দেয়।

ঢাকা–৬ আসনে জয় পান ইশরাক হোসেন। সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে হিসেবে তিনি রাজধানীর রাজনীতিতে আগে থেকেই পরিচিত মুখ ছিলেন। ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে থেকে তিনি আসনটি বিএনপির ঘরে তোলেন।

চট্টগ্রামের রাজনীতিতে দ্বিতীয় প্রজন্মের উত্থান ছিল আরও স্পষ্ট। চট্টগ্রাম–৫ আসনে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়েই জয় পান। তার পিতা মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন দীর্ঘদিন দলের প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। চট্টগ্রাম–১০ আসনে তরুণ নেতা সাঈদ আল নোমান স্বল্প সময়ে সংগঠন গড়ে তুলে আলোচনায় আসেন এবং জয় নিশ্চিত করেন। অন্যদিকে চট্টগ্রাম–৭ আসনে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী বাবার রাজনৈতিক ঐতিহ্য ধরে রেখে বিজয়ী হন।

ফরিদপুর–৩ আসনে নায়াব ইউসুফ জয় পান উল্লেখযোগ্য ভোটে। সাবেক মন্ত্রী চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের কন্যা হিসেবে তিনি মহিলা দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে থেকেও মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। নাটোর–১ আসনে ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল এবং গাজীপুর–২ আসনে এম মঞ্জুরুল করিম রনিও পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যকে পুঁজি করে বিজয়ের মুখ দেখেন।

সব মিলিয়ে এই নির্বাচনে বিএনপির প্রবীণ নেতাদের সন্তানদের উত্থান শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়, বরং দলীয় রাজনীতিতে প্রজন্মান্তরের এক দৃশ্যমান পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

আইকে/টিএ

মন্তব্য করুন