জাতির প্রত্যাশা পূরণে দল প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: সালাহউদ্দিন আহমদ
ছবি: সংগৃহীত
০৩:০৯ পিএম | ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জনগণ যে প্রত্যাশা নিয়ে বিএনপিকে নিরঙ্কুশ সমর্থন দিয়েছে, সেই প্রত্যাশা পূরণে দল প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বলেন, জুলাই সনদে যেসব অঙ্গীকার করা হয়েছে, তা বাস্তবায়নে সরকার গঠনের পর থেকেই কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হবে। গণতান্ত্রিক উপায়ে , বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ হবে সমস্ত বিষয়ে আলোচনার কেন্দ্র। আগে ছিল শুধুমাত্র বিন্দু এখন হবে কেন্দ্র বিন্দু জাতীয় সংসদ।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে জাতীয় সংসদে শপথের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে স্বাক্ষরিত এ সনদের প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে দল প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জনগণের রায়ের প্রতিফলন ঘটাতে এবং রাষ্ট্রকে নতুন ধারায় এগিয়ে নিতে সংসদ হবে প্রধান প্ল্যাটফর্ম। প্রয়োজনীয় আইন ও সংবিধান সংশোধনের মধ্য দিয়ে সেই প্রক্রিয়া এগোবে।
সংবিধানে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর কোনো সদস্যের শপথ পাঠ করানোর এখতিয়ার নেই। এ কারণে ওই ধরনের কোনো প্রক্রিয়াও হয়নি। আমরা সাংবিধানিক পদ্ধতি মেনেই এখানে এসেছি। আগামীতেও রাষ্ট্র পরিচালনা হবে পুরোপুরি সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে, বলেন তিনি।
এসময় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর শপথ, সরকার গঠন ও ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রপরিচালনা- সবকিছুই সংবিধান অনুযায়ী হয়েছে এবং হবে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমেদ। একইসঙ্গে জানান, সংসদীয় দলের বৈঠকে তারেক রহমানকে নেতা নির্বাচিত করে রাষ্ট্রপতির কাছে সরকার গঠনের চিঠি পাঠানো হয়েছে।
শপথ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন বলেন, গণভোটের রায় ও জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে হলে সংসদে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইন ও সংবিধান সংশোধন করতে হবে। সংশোধনের পর তৃতীয় তফসিলে শপথের ফরম সংযুক্ত করার বিষয়টি সংসদ নির্ধারণ করবে।
সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদের ২(ক) ধারার প্রসঙ্গ এনে বিএনপির এ নেতা বলেন, স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার শপথ পাঠ করাতে অপারগ হলে বা অনুপস্থিত থাকলে, তিন দিনের মধ্যে তাদের মনোনীত প্রতিনিধি শপথ পড়াবেন। সেটিও না হলে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার সাংবিধানিকভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে শপথ পাঠ করাবেন। সেই বিধান অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনারই শপথ পড়িয়েছেন।
শপথের পর অনুষ্ঠিত সংসদীয় দলের বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি জানান, বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে তারেক রহমানকে সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত করা হয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে তাকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। যারা শপথ নিয়েছেন, উপস্থিত সবাই ওই সিদ্ধান্তে স্বাক্ষর করেছেন।
সালাহউদ্দিন জানান, সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর তারেক রহমান দলের সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে দুটি নির্দেশ দিয়েছেন-
১. কোনো সংসদ সদস্য ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি নেবেন না। ২. সংসদ সদস্য হিসেবে সরকারি কোনো প্লট গ্রহণ করবেন না। আজ থেকে পরিবর্তনের শুরু। সংসদ সদস্য হলেই কেউ বিশেষ সুবিধাভোগী হবে- এ ধারণা বদলাতে হবে।
সকালে শপথ গ্রহণের আগে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ ফরম থাকলেও আমরা (বিএনপি) কেউ সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হইনি। এছাড়া সংবিধানে এটা এখনও ধারণ করা হয়নি। গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হলে সেটা সংবিধানে আগে ধারণ করতে হবে এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের কে শপথ নেবেন, সেটা বিধান করতে হবে।
সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথের বিধান সংবিধানে নেই। আমরা সংবিধান মেনে এ পর্যন্ত চলছি, সামনের দিনেও চলবো। দলীয় চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত জানাচ্ছেন বলেও জানান সালাহউদ্দিন।
গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি জোট ২১২টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে বিএনপির ষষ্ঠবারের মতো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আরোহণ। অন্যদিকে, ৬৮টি আসন নিয়ে সংসদে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় বসতে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী।
এসকে/টিকে