সিংহাসনের উত্তরাধিকারের তালিকা থেকে বাদ পড়তে যাচ্ছেন প্রিন্স অ্যান্ড্রু
ছবি: সংগৃহীত
০৫:২৭ পিএম | ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক প্রয়াত জেফরি এপস্টেইন কেলেঙ্কারিতে রাজসিংহাসনের উত্তরাধিকারের তালিকা থেকে বাদ পড়তে যাচ্ছেন ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের ছোট ভাই সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রু। তার ব্যাপারে পুলিশি তদন্ত শেষ হলেই নতুন আইন আনার বিষয়ে বিবেচনা করছে ব্রিটিশ সরকার।আর আইন পাস হলে কখনোই রাজা হতে পারবেন না রাজা অ্যান্ড্রু। খবর বিবিসির।
বর্তমানে রাজার অষ্টম উত্তরাধিকারীতে থাকা অ্যান্ড্রুর পুলিশি তদন্ত শেষ হওয়ার পর পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। আইন কার্যকর হলে স্থায়ীভাবে সিংহাসনের বাইরে চলে যাবেন তিনি। এর আগে গত অক্টোবর জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের বিতর্কে প্রিন্সসহ একাধিক উপাধি হারান অ্যান্ড্রু।
এদিকে পুলিশকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে দিতে হবে, বলছেন লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতারা। তবে সময়মতো পার্লামেন্টকে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর বিষয়টি বিবেচনার কথা বলেন এবং প্রয়োজন হলে আইনটির পক্ষে ভোটও দেবেন তারা। আর কিছু লেবার এমপি মনে করছেন, অ্যান্ড্রুর রাজা হওয়ার সম্ভাবনা শেষ, তাই নতুন আইন প্রয়োজনেরও সংশয় রয়েছে।
মার্কিন বিচার বিভাগ সম্প্রতি এপস্টেইন সম্পর্কিত যেসব নথি প্রকাশ করেছে, তাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের প্রভাবশালী অনেক ব্যক্তির মধ্যে ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের ছোট ভাই প্রিন্স অ্যান্ড্রুর নামও রয়েছে। নথিগুলোর মধ্যে এমন কিছু ইমেইল রয়েছে, যাতে এপস্টেইনকে বাকিংহাম প্যালেসে নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানানোর কথা উল্লেখ রয়েছে।
একই সঙ্গে এপস্টেইন তার ওই যোগাযোগকারী ব্যক্তিকে ২৬ বছর বয়সি এক রুশ নারীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়ার প্রস্তাব দেন বলেও নথিতে বলা হয়েছে। এছাড়া প্রকাশিত কিছু ছবিতে এমন দৃশ্য দেখা যায়, যেখানে অ্যান্ড্রু বলে ধারণা করা একজন ব্যক্তি মেঝেতে শুয়ে থাকা এক অজ্ঞাত ব্যক্তির ওপর হাঁটু গেড়ে বসে আছেন।
এসব নথি প্রকাশের পর আবারও প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সঙ্গে এপস্টেইনের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। শুরু হয় বিতর্ক ও সমালোচনা। এমন পরিস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। তিনি বলেন, জেফরি এপস্টেইন সংক্রান্ত নথি ও কর্মকাণ্ডের তদন্তে যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সহযোগিতা করা উচিত।
এরপর বড় ভাই রাজা তৃতীয় চার্লসও তদন্তে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। গত ৯ ফেব্রুয়ারি এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, অভিযোগগুলো টেমস ভ্যালি পুলিশ খতিয়ে দেখলে বাকিংহাম প্যালেস সহায়তা করতে প্রস্তুত।
রাজপ্রাসাদের একজন মুখপাত্র বলেন, অ্যান্ড্রুকে নিয়ে ক্রমাগত অভিযোগ সামনে আসায় রাজা চার্লস গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। যদিও অভিযোগগুলোর জবাব দেয়ার দায়িত্ব অ্যান্ড্রুর নিজের। তবে টেমস ভ্যালি পুলিশ যদি যোগাযোগ করে, তবে রাজপরিবার সহায়তা করতে প্রস্তুত।
পাবলিক অফিসে অসদাচরণের সন্দেহে গত বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) অ্যান্ড্রুকে গ্রেফতার করা হয়। যদিও ১১ ঘণ্টা পর তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। তবে তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্য পুলিশ। অ্যান্ড্রু তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন।
এমআর/টিকে