ইউরেনিয়াম মজুত কমাতে রাজি ইরান
ছবি: সংগৃহীত
০৮:৫৫ এএম | ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
এক মাসের কিছু বেশি সময়ের ব্যবধানে ইরানে আবারও সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। শনিবার দেশটির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন। কোথাও কোথাও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সরকারপন্থীদের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।
ইরানের সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, তেহরানের শরিফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি–তে বিক্ষোভকারীরা সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি-এর বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। একইসঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত শাহের নির্বাসিত পুত্র রেজা পাহলভি–কে নতুন নেতৃত্ব গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থার প্রকাশিত ফুটেজে দেখা গেছে, বাসিজ-সমর্থিত স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করেন বিক্ষোভকারীরা।
এ ছাড়া বেহেশতি ইউনিভার্সিটি, আমির কবির ইউনিভার্সিটি এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মাশহাদ ইউনিভার্সিটি–তেও বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। পশ্চিমাঞ্চলের আবদানা শহরে বিক্ষোভকারীরা ‘স্বৈরাচারের মৃত্যু চাই’ স্লোগান দেন।
এর আগে গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী আন্দোলন জানুয়ারির প্রথমার্ধে সহিংস রূপ নেয়। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে বহু মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এটিকে সবচেয়ে ভয়াবহ অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এদিকে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনায় বসেছে তেহরান ও ওয়াশিংটন। একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ইরান জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষক সংস্থা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর তত্ত্বাবধানে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কমাতে রাজি হয়েছে। তবে প্রায় ৩০০ কেজি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রপ্তানিতে রাজি নয় তেহরান।
বর্তমানে ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা অস্ত্র-গ্রেডের কাছাকাছি। তবে সমৃদ্ধতার মাত্রা ২০ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার প্রস্তাব আলোচনায় থাকতে পারে বলে জানা গেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধের দাবি করেনি; বরং বিশুদ্ধতার মাত্রা কমানোর বিষয়েই জোর দিচ্ছে।
সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় দ্বিতীয় দফা বৈঠক হয়। দুই পক্ষই আলোচনা ইতিবাচক বলে জানালেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছেন এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চুক্তি না হলে হামলার হুমকি দিয়েছেন।
এমআর/টিকে