পাকিস্তান যে কোনো আগ্রাসী বাহিনীকে ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখে : শেহবাজ শরিফ
ছবি: সংগৃহীত
০২:৩২ পিএম | ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
যে কোনো আগ্রাসী বাহিনীকে ধ্বংস করার মতো ক্ষমতা পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর আছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। তিনি আরও বলেছেন, আফগানিস্তানে যে সামরিক অভিযান শুরু করেছে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাহিনী, তাতে পুরো জাতির সমর্থন আছেন।
আজ শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় শেহবাজ বলেন, “আমাদের সেনাবাহিনী যে কোনো আগ্রাসী বাহিনীর উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে ধ্বংস করার মতো পূর্ণ সক্ষমতা রাখে। আমাদের পুরো জাতি পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আছে।”
গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় পাক-আফগান সীমান্তবর্তী ডুরান্ড লাইন এলাকায় পাক সেনাচৌকিগুলো লক্ষ্য করে অতর্কিত হামলা চালিয়ে অন্তত ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনাকে হত্যা করে আফগানিস্তানের সেনাবাহিনী। সেই সঙ্গে আরও কয়েকজন সেনাকে ধরে নিয়ে যায় তারা।
হামলা চলাকালে এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, “আমাদের সেনারা নাইট ভিশন এবং লেজার নিয়ন্ত্রিত অস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে। এবার তাদের (পাকিস্তানি সেনাবাহিনী) আমরা নরকে পাঠাব।”
মুজাহিদ আরও জানান, ২১ ফেব্রুয়ারি আফগানিস্তানের নানগারহার ও পাকতিয়া প্রদেশে যে বিমান অভিযান চালিয়েছিল পাকিস্তানের বিমানবাহিনী, তার বদলা হিসেবে এই হামলা করা হয়েছে। পাকিস্তান বাহিনীর সেই অভিযানে নানগারহার ও পাকতিয়ায় নিহত হয়েছিলেন ৮০ জনেরও বেশি মানুষ।
হামলা শেষে রাত ১২টার দিকে আফগানিস্তান সেনাবাহিনী ফিরে যায়। তার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর রাত ৩টা ৪৫ মিনিটে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ শুরু করে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাহিনী। সেই অভিযানের অংশ হিসেবে রাজধানী কাবুল এবং পাকতিয়া ও কান্দাহার প্রদেশে ব্যাপক আকারে বিমান হামলা শুরু করে পাকিস্তানের বিমান বাহিনী (পিএএফ)। এতে এ পর্যন্ত নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ১৩৩ জন এবং আহত হয়েছেন আরও দুই শতাধিক।
আফগানিস্তানের সেনাবাহিনীর বেশ কিছু স্থাপনা ধ্বংসও করেছে পিএএফ। শেহবাজ শরিফের মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি আজ শুক্রবার ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় জানান, পিএএফের বোমাবর্ষণে ইতোমধ্যে আফগান সেনাবাহিনীর দু’টি সেনা হেডকোয়ার্টার, ৩টি ব্রিজ হেডকোয়ার্টার, দু’টি গোলাবারুদের ডিপো, একটি লজিস্টিক ঘাঁটি, ৩টি ব্যাটালিয়ন হেডকোয়ার্টার, ২টি সেক্টর হেডকোয়ার্টার, ৮০টিরও বেশি ট্যাংক এবং বিপুল সংখ্যক আর্টিলারি বন্দুক ও সাঁজোয়া যান ধ্বংস হয়েছে।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাহিনী ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ শুরুর পর এক্সে বার্তা পোস্ট করেন শেহবাজ শরিফ।
কেএন/এসএন