খামেনির মৃত্যুর পর জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দক্ষিণ কোরিয়া প্রেসিডেন্টের
ছবি: সংগৃহীত
১২:৪৮ এএম | ০২ মার্চ, ২০২৬
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর খবরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার প্রেক্ষাপটে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং। সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে পূর্ণাঙ্গ জরুরি প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা সক্রিয় ও প্রস্তুত রাখতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
রোববার (১ মার্চ) প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র কাং ইউ-জং জানান, সিঙ্গাপুর ও ফিলিপাইনে চার দিনের সরকারি সফরে যাওয়ার সময়ই প্রেসিডেন্ট এই নির্দেশ জারি করেন। সফরকালীন অবস্থান থেকেই তিনি প্রধানমন্ত্রী কিম মিন-সিওক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে তদারকির নির্দেশ দেন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত দক্ষিণ কোরীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাৎক্ষণিক ও সমন্বিত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইরান ও বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিদেশে অবস্থানরত কোরীয় নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য বহুমাত্রিক ও বহু-স্তরীয় নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে দ্রুত সময়ের মধ্যে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠার আশাবাদও ব্যক্ত করা হয়।
প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং এর সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব সম্পর্কে নিয়মিত ও বিস্তারিত আপডেট দিতে। বিশেষ করে জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাঘাত এবং বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতার সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষণের ওপর জোর দেয়া হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, বিদেশে কোরীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই মুহূর্তে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে বিমান হামলার পর শনিবারই প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক আহ্বান করে। বৈঠকে ইরানসহ বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো তাদের প্রস্তুতি, গৃহীত পদক্ষেপ এবং সম্ভাব্য বিকল্প পরিকল্পনা উপস্থাপন করে।
জাতীয় নিরাপত্তা কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৈঠকে দক্ষিণ কোরিয়ার নিরাপত্তা ও অর্থনীতির ওপর চলমান পরিস্থিতির সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত কোরীয় নাগরিক ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও পুনর্মূল্যায়ন করা হয়েছে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত সহায়তা ও সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনাও প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
টিজে/টীএ