© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

হারের পর বড় ভুলের কথা স্বীকার ইংল্যান্ড অধিনায়কের

শেয়ার করুন:
হারের পর বড় ভুলের কথা স্বীকার ইংল্যান্ড অধিনায়কের

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:৪৭ এএম | ০৬ মার্চ, ২০২৬
জোফরা আর্চারের ফুলার লেন্থের বল। মিড অনে তুলে দিলেন সাঞ্জু স্যামসন। ক্যাচ নেওয়ার যথেষ্ট সময় পেয়েছিলেন হ্যারি ব্রুক। কিন্তু বল লাগল আঙুলে, তারপর পড়ে গেল মাটিতে। হাঁটুতে হাত রেখে সামনের দিকে ঝুঁকে পড়লেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। প্রচণ্ড জোরে জোরে চুইংগাম চিবুচ্ছিলেন। তাকে এমন একজন মানুষের মতো দেখাচ্ছিল, যেন নিজে ঠিক কী করলেন বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না!

রানবন্যার রাতে প্রথম ছয় বলে ১৫ রান করেন স্যামসন। ওখানেই তার ইনিংস শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। নিজের সপ্তম বলে যে ক্যাচটা তুললেন তিনি, তা ১০০ বারের মধ্যে ৯৯ বারই ধরার কথা ব্রুকের। কিন্তু কোনোভাবে গড়বড় লেগে গেল।

আগের ম্যাচে ৯৭ রান করে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বিদায় করা স্যামসনের এই ক্যাচ ফেলা যে কত বড় ভুল হয়েছে, তা তখনই বুঝতে পেরেছিলেন ব্রুক। শেষ পর্যন্ত ভারতীয় ওপেনার সেটা প্রমাণও করলেন ৮৯ রানের ম্যাচ সেরা ইনিংস খেলে। পরের ৩৫ বলে আরও ৭৪ রান যোগ করেছেন স্যামসন। তাতে ভারতের স্কোরবোর্ডে জমা পড়েছে আড়াইশর বেশি রান।

উইল জ্যাকসের বলে ডিপ কাভারে ফিল সল্টের ক্যাচ হয়ে স্যামসন ফিরলে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেন ব্রুক। ইংল্যান্ড অধিনায়ক পরে সরাসরি হিটে শিবম দুবেকে রান আউট করেন। কিন্তু এরপরই হার্দিক পান্ডিয়ার কঠিন ক্যাচটি নিতে পারেননি টম ব্যান্টন। লং অন থেকে দৌড়ে সামনে ডাইভ দিয়েছিলেন তিনি। ৭ রানের হারে ম্যাচ শেষে এই ভুলগুলোই গড়ে দিয়েছে পার্থক্য।

ব্রুক বললেন, ‘আমি নিজের ভুল স্বীকার করছি এবং বলছি যে, স্যামসনের ক্যাচ মিস করে আমি বড় একটা ভুল করেছি।’ তার আরও কথা, “ক্যাচই তো ম্যাচ জেতায়, তাই না? দুর্ভাগ্যবশত, সেটি আমার হাতে থাকেনি... স্বাভাবিকভাবেই, এটি সারাক্ষণ আপনার মনের ভেতরে ঘুরপাক খায়। আমি বারবার স্কোরবোর্ডের দিকে তাকাচ্ছিলাম আর সে (স্যামসন) রান পাহাড় গড়ছিল। আমি ভাবছিলাম, ‘আজ রাতে আমাকেও ৮৯ রান করতে হবে’।”



কিন্তু ব্রুক মাত্র ৭ রান করেন। জসপ্রীত বুমরাহর বলে অক্ষর প্যাটেলের চোখ ধাঁধানো ক্যাচে থামতে হয় তাকে। চাপের মধ্যে থেকে দুই দলের ক্যাচিং সম্ভবত ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেয়। শুধু ওটাই নয়, জ্যাকব বেথেল ও জ্যাকস যখন ম্যাচ কেড়ে নেওয়ার আভাস দিচ্ছিলেন, তখন অবিশ্বাস্য ক্যাচে অবদান রাখেন অক্ষর। ডিপ পয়েন্টে ২১ মিটার দৌড়ে আসেন, তারপর বাউন্ডারির বাইরে যাওয়ার আগে ভারসাম্য ধরে রেখে বল ছাড়লেও তা সামনের দিকে ছুড়ে দেন। দুবে বলে লুফে নেন। জ্যাকসের বিদায়ে ভাঙে ৭৭ রানের জুটি।

ব্রেন্ডন ম্যাককালাম, ইংল্যান্ডের প্রধান কোচের মতে ক্যাচিং দক্ষতাই ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। বিশেষ করে অক্ষরের দুটি ক্যাচ! ব্রুকের ক্যাচ ফেলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তারা যে দুটি ক্যাচ নিয়েছে, আমি সম্ভবত সেদিকেই আলোকপাত করব, সত্যিই তাই। এখানে ফিল্ডিং করা সহজ নয়, বিশেষ করে দর্শকদের চিৎকার এবং বল যেভাবে সবদিকেই যাচ্ছিল... অক্ষর প্যাটেল ওই ক্যাচগুলো যেভাবে নিলো, দুই দলের মধ্যে এটাই ছিল পার্থক্য (জয়-পরাজয়ে)।’

তার ব্যাখ্যা, ‘ওই দুটি ক্যাচের মধ্যে একটি, যেটি বাউন্ডারির সামনে হলো। সেটি যদি সীমানা ছাড়াতো... পার্থক্য ছিল সাত রানের, তখন সেটা ছয় হতো। বড় মুহূর্তে ওই দুজন খেলোয়াড় দাঁড়িয়ে গেল। তাদের ফিল্ডিং টুর্নামেন্টজুড়ে খুব একটা ভালো ছিল না, কিন্তু আজ রাতে তাদের ফিল্ডিং আমাদের দৃষ্টিকোণ থেকে হতাশাজনক ছিল। তাদের কৃতিত্ব দিতেই হয়।’

টিজে/এসএন 

মন্তব্য করুন