© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

চট্টগ্রামে বিশেষ অভিযানে ১৪ দিনে গ্রেপ্তার ৭০৫

শেয়ার করুন:
চট্টগ্রামে বিশেষ অভিযানে ১৪ দিনে গ্রেপ্তার ৭০৫

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:৫৮ এএম | ১৭ মার্চ, ২০২৬
চট্টগ্রাম মহানগরীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে (এস ড্রাইভ অভিযান) এখন পর্যন্ত ৭০৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে নগর পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে অর্ধেকের বেশি ছিনতাইকারী। এ ছাড়া কিশোর গ্যাং সদস্য, মাদক কারবারি, জুয়াড়ি ও চাঁদাবাজও রয়েছে। অভিযানে প্রায় ২ লাখ ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার দিবাগত রাতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) এই তথ্য জানায়। সিএমপির মুখপাত্র সহকারী পুলিশ কমিশনার (সদর) মো. আমিনুর রশীদ বলেন, পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজের নির্দেশনায় ২ মার্চ থেকে নগরের বিভিন্ন এলাকায় ‘এস ড্রাইভ’ অভিযান শুরু হয়। অভিযানে সোমবার পর্যন্ত ৭০৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৬৭ জন ছিনতাইয়ের অভিযোগে, ১৪৮ জন কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে, ৯৭ জন মাদক কারবারে, ৬৯ জন জুয়া খেলার অভিযোগে এবং ২৪ জন চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন।

অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে একটি বিদেশি স্টেনগান, একটি বিদেশি সাবমেশিনগান, একটি ওয়ান শুটারগান, তিনটি বিদেশি পিস্তল, একটি বিদেশি রিভলবার ও একটি দেশীয় তৈরি পাইপগান। এ ছাড়া ৪৭৩টি পিস্তলের গুলি, ৭৬টি শটগানের কার্তুজ, সাবমেশিনগানের তিনটি ম্যাগাজিন, তিনটি পিস্তলের ম্যাগাজিন, বিভিন্ন ধারালো দেশীয় অস্ত্র এবং ৪০টি চোরাই মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, অভিযানে ১ লাখ ৯৮ হাজার ২৭৬ ইয়াবা ট্যাবলেট, ৩ কেজি ৬৮০ গ্রাম ও ১৭৮ পুরিয়া গাঁজা, ৪৮ ক্যান বিয়ার এবং ৮৪ লিটার চোলাই মদও উদ্ধার করা হয়েছে।

এর আগে ২ মার্চ মধ্যরাতে নগরের দামপাড়া সিএমপি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে অভিযান শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়। পরে দামপাড়া পুলিশ লাইন থেকে পুলিশের অর্ধশতাধিক গাড়ির বহর বের হয়ে নগরের বিভিন্ন থানায় অপরাধীদের সম্ভাব্য আস্তানায় অভিযানে নামে।

ঘোষণা দিয়ে অভিযান পরিচালনা নিয়ে তখন সমালোচনার মধ্যে পড়ে সিএমপি।

তবে তখন এই বিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী দেশের একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ঘোষণা দিয়ে অভিযান পরিচালনা, এটা অপরাধী ধরার একধরনের কৌশল। তিনি বলেন, ‘সাধারণত অপরাধ সংঘটনের পর অপরাধীরা বিভিন্ন আস্তানায় লুকিয়ে থাকে, কেউ কেউ ঘন ঘন স্থান পরিবর্তন করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখকে ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করে থাকে। এতে তারা সহজে ধরা পড়ে না। ওদের অনেক আস্তানার তথ্য আমরা পেয়েছি। সেগুলো ট্র্যাকিং করা হচ্ছে। 

এ ক্ষেত্রে অপরাধীরা আগেই যদি অভিযানের বিষয়ে জেনে যায়, তাহলে তারা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করবে কিংবা স্থান পরিবর্তন করবে। তারা যাতে নড়াচড়া করে থাকে, এ জন্যই এই ঘোষণা দেওয়া। তারা নড়াচড়া করলে আমরা নতুন নতুন আস্তানা বা সন্ত্রাসীদের অবস্থানের তথ্য ট্র্যাকিং করে তাদের সহজে আইনের আওতায় আনতে পারব। এমনকি এসব অপরাধীর সঙ্গে পুলিশের মধ্যেও যদি কোনো কানেকশন থাকে কিংবা পুলিশের তথ্য সন্ত্রাসীদের কাছে পৌঁছে দিলে সেগুলো ট্রাকিংয়ের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে। এ জন্য আমরা পুরো শহরে গোয়েন্দা ও প্রযুক্তিগত নজরদারি বাড়িয়েছি; যারা প্রতিনিয়ত সন্ত্রাসীদের কার্যক্রম বা গতিবিধির ওপর নজরদারি রাখছে।’


ইউটি/টিএ 

মন্তব্য করুন