বিদ্যা তো নাচতেই পারেন না: ফারাহ খান
ছবি: সংগৃহীত
০৪:৩৯ পিএম | ২৬ মার্চ, ২০২৬
একসময় বলিউডের অন্দরেই বিদ্যা বালানের নাচের দক্ষতা নিয়ে ছিল স্পষ্ট সংশয়। এমনকি জনপ্রিয় নৃত্যপরিচালক ফারাহ খান সরাসরি মন্তব্য করেছিলেন, বিদ্যা নাচতেই পারেন না। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সেই মন্তব্যই ফিরে আসে প্রশংসায়, আর তার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ‘ভুল ভুলাইয়া’ ছবির বহুল আলোচিত ‘আমি যে তোমার’ গান।
দুই হাজার সাত সালে পরিচালক প্রিয়দর্শন নির্মিত এই ছবিতে মঞ্জুলিকার চরিত্রে বিদ্যা বালান যে আবহ তৈরি করেছিলেন, তা আজও দর্শকের স্মৃতিতে অমলিন। বিশেষ করে গানটির নৃত্যভঙ্গি ছবির রহস্যময়তা ও চরিত্রের গভীরতাকে এমনভাবে সামনে এনেছিল, যা ছবির অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে আছে। অথচ এই গানের প্রস্তুতির সময় অনেকেই বিশ্বাস করতেন, বিদ্যার পক্ষে শাস্ত্রীয় নৃত্যের মতো কঠিন উপস্থাপনা সম্ভব নয়।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে প্রিয়দর্শন জানান, শুরুতে বিদ্যার নাচ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। কারণ এর আগে বাণিজ্যিক ছবিতে অভিনয় করলেও নাচের ক্ষেত্রে তাঁকে খুব বেশি দেখা যায়নি।
কিন্তু বিদ্যা নিজেই বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলেন। শুধু একটি গানের জন্য টানা পঁয়ত্রিশ থেকে চল্লিশ দিন অনুশীলন করেছিলেন তিনি। নৃত্যগুরু চিন্নি প্রকাশের তত্ত্বাবধানে প্রতিটি ভঙ্গি আয়ত্তে আনতে যে পরিশ্রম তিনি করেছিলেন, সেটিই শেষ পর্যন্ত বদলে দেয় সব ধারণা।
এই গানে বিদ্যার সঙ্গে ছিলেন খ্যাতিমান নৃত্যশিল্পী রাধাকৃষ্ণন। একজন দক্ষ শাস্ত্রীয় নৃত্যশিল্পীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে পুরো উপস্থাপনা সম্পন্ন করা সহজ ছিল না, কিন্তু বিদ্যা সেখানে নিজস্ব উপস্থিতি দিয়ে আলাদা করে নজর কাড়েন। ছবিটি মুক্তির পর সেই নাচ দেখেই ফরাহ খান প্রিয়দর্শনকে ফোন করে বিদ্যার প্রশংসা করেছিলেন। যিনি একসময় তাঁর সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন, তিনিই পরে সেই অভিনয় ও নৃত্যনৈপুণ্যের স্বীকৃতি দেন।
বিদ্যাও পরে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এই গান তাঁর জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে। কারণ এর মধ্য দিয়েই তিনি নিজের সীমাবদ্ধতা নিয়ে তৈরি ধারণা ভেঙে দিতে পেরেছিলেন। পরবর্তীতে ‘দ্য ডার্টি পিকচার’-এ একাধিক নাচের গানে আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি এবং পরে ‘ভুল ভুলাইয়া ৩’-এ মাধুরী দিক্ষীত এর সঙ্গে সমান তালে নাচ সবকিছুর শুরু যেন সেই এক গানের মঞ্চ থেকেই।
পিআর/টিকে