© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

জ্বালানি সংকটে ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যুৎকেন্দ্রের কয়লা পরিবহন, লোডশেডিং বাড়ার শঙ্কা!

শেয়ার করুন:
জ্বালানি সংকটে ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যুৎকেন্দ্রের কয়লা পরিবহন, লোডশেডিং বাড়ার শঙ্কা!

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৭:৩০ এএম | ২৭ মার্চ, ২০২৬
চট্টগ্রাম বন্দর থেকে লাইটার জাহাজের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পণ্য পরিবহন প্রয়োজনীয় জ্বালানির অভাবে চরম সংকটে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য কয়লা পরিবহনে নিয়োজিত লাইটার জাহাজগুলো। প্রতিদিন ৩ লাখ লিটার চাহিদার বিপরীতে মিলছে মাত্র এক লাখ লিটারেরও কম জ্বালানি। এই পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতেও কয়লা সংকট দেখা দিয়েছে, যার ফলে উৎপাদন বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি লোডশেডিং বাড়ার শঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশে বর্তমানে সচল কয়লাভিত্তিক ৬টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মধ্যে মাতারবাড়ি ছাড়া বাকি পাঁচটি কেন্দ্রেই লাইটার জাহাজের মাধ্যমে জ্বালানি হিসেবে কয়লা সরবরাহ করা হয়। মাসে যে পরিমাণ কয়লা নৌ পথে সরবরাহ করা হয়, তা অন্তত সাড়ে ৮ লাখ মেট্রিক টন। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে এই কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পৌঁছাতে প্রয়োজন হয় ৪০০ থেকে ৪২০টি লাইটার জাহাজের। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ডিজেলের অভাবে এই সরবরাহ কার্যক্রম ব্যাহত হয়ে পড়েছে।
 
বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট শফিকুল আলম জুয়েল বলেন, কয়লা যখন পরিবহনে ব্যাহত হবে, তখন বিদ্যুৎ উৎপাদনও ব্যাহত হবে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হলে স্বাভাবিকভাবেই লোডশেডিং শুরু হবে।
 
 
বন্দরগুলোর সীমাবদ্ধতা এবং বিশাল আয়তনের কারণে কিছু জাহাজে সরাসরি বার্থের সুযোগ নেই। এ কারণে এই জাহাজগুলো মূল বন্দরে না গিয়ে মহেশালী ও কুতুবদিয়ার নৌসীমায় অবস্থান নিয়ে লাইটারেজ জাহাজে পণ্য খালাস করে।
 
চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী লাইটারের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ২০০। এর মধ্যে বড় শিল্প গ্রুপগুলোর লাইটার জাহাজের সংখ্যা অন্তত ১৫০, বাকি ১ হাজার ৫০টি জাহাজ বিভিন্ন ধরনের পণ্য যেমন কয়লা ও জ্বালানি তেল পরিবহন করছে।
 
বাংলাদেশে নৌপথে জ্বালানি সরবরাহ প্রধানত চট্টগ্রাম-ঢাকা এবং মোংলা রুটের প্লোটিং জেটির মাধ্যমে লাইটারেজ জাহাজে করা হয়। প্রতিদিনের হিসাব অনুযায়ী, অন্তত ৩ থেকে ৪ লাখ লিটার জ্বালানি প্রয়োজন হয়। কিন্তু ডিলারদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পাওয়ায় সরকারের বিভিন্ন দফতরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এইভাবে প্রতিদিন প্রায় একশ লাইটার জাহাজ পণ্য নিয়ে বিভিন্ন গন্তব্যে চলাচল করে।
 
ইনল্যান্ড ভ্যাসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব চট্টগ্রামের প্রেসিডেন্ট শফিক আহমেদ বলেন, পদ্মা-মেঘনা-যমুনার ডিলাররা জানিয়েছেন, তারা জ্বালানি পাচ্ছে না, তাই আমরাও জাহাজে তেল দিতে পারছি না।
 
চট্টগ্রামের ইনল্যান্ড ট্রেড এজেন্সির ম্যানেজিং পার্টনার শেখ মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রতিদিন ৪ লাখ লিটার বরাদ্দ থাকলেও প্রাপ্য জ্বালানি কম পৌঁছায়। অনেক সময় জাহাজ লোড হতে কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হয়।
 
জ্বালানি সংকটের কারণে লাইটারেজ জাহাজগুলো যদি বর্হিনোঙ্গরে অবস্থানরত মাদার ভ্যাসেলের কাছে পৌঁছাতে না পারে, তাহলে পণ্য লোড-আনলোডে ধীরগতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহের জন্য বিপিসিকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
 
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, বিপিসিকে এরই মধ্যে জানানো হয়েছে; যেন লাইটার জাহাজগুলো তাদের চাহিদা অনুযায়ী দ্রুততম সময়ে জ্বালানি সরবরাহ পায়।
 
চট্টগ্রাম বন্দরে বর্তমানে ৯৬টি জাহাজের অবস্থান রয়েছে। এর মধ্যে বর্হিনোঙ্গরে অবস্থানরত ৭৮টি জাহাজের মধ্যে জেনারেল কার্গো বহনকারী ২০টি, খাদ্যপণ্য ২১টি, সিমেন্ট ক্লিংকার ২২টি, চিনি বহনকারী ৪টি এবং ৬টি অয়েল ট্যাংকার রয়েছে।

কেএন/এসএন

মন্তব্য করুন