এখন হরমুজ প্রণালি কার নিয়ন্ত্রণে, জানাল আইআরজিসি
ছবি: সংগৃহীত
০৩:৪৯ এএম | ০২ এপ্রিল, ২০২৬
হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রেখে যুদ্ধ পরিস্থিতি বদলে দিয়েছে ইরান। এ প্রণালিতে যাতায়াত স্বাভাবিক করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি তিনি ইরানের নৌবাহিনী ধ্বংস হয়ে গেছে বলেও দাবি করেন। কিন্তু দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) বলছে ভিন্ন কথা।
বুধবার এক বিবৃতিতে দেশটির বিপ্লবী এই বাহিনী বলেছে, হরমুজ প্রণালি ইরানের শত্রুদের জন্য বন্ধই থাকবে। প্রণালিটি তাদের নৌবাহিনীর দৃঢ় ও কর্তৃত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ইরানের নৌবাহিনী এখনও শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত রেখেছে।
আইআরজিসি আরও বলেছে, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এখন পুরোপুরি এবং চূড়ান্তভাবে ইরানের নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বুধবার ভোর থেকে ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অংশে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্রতা তেল আবিব ও ওয়াশিংটনের দাবিকে ভুল প্রমাণ করেছে।
বুধবার ভোর থেকে নৌবাহিনী ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’-এর ৮৯তম পর্যায়ের অংশ হিসেবে পাঁচটি বড় ধরনের এবং ব্যাপক অভিযান চালিয়েছে।
এসব অভিযানে কাদির ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং আত্মঘাতী ড্রোন ব্যবহার করে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে।
আইআরজিসি আরও জানিয়েছে, পারস্য উপসাগরের মধ্যাঞ্চলে ‘অ্যাকুয়া ১’ নামের অবৈধ ইহুদিবাদী শাসকগোষ্ঠীর একটি তেলবাহী ট্যাংকারকে সুনির্দিষ্টভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ওই ট্যাংকারে আগুন ধরে যায়।
তবে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ছাড়া বাকিদের জন্য হরমুজে চলাচলের অনুমতি দিচ্ছে ইরান। উদাহরণস্বরূপ, হরমুজ প্রণালি দিয়ে আটকেপড়া বাংলাদেশের ছয়টি জাহাজ পার হওয়ার বিষয়ে অনুমতি দিয়েছে ইরানের নিরাপত্তা কাউন্সিল।
বুধবার (১ এপ্রিল) মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়ে ঢাকায় ইরানের দূতাবাসে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহীমি জাহানাবাদী।
রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের আটকে থাকা ৬টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার বিষয়ে অনুমতি দিয়েছে ইরানের নিরাপত্তা কাউন্সিল। ৬টি বাংলাদেশি জাহাজ ফেরত আনার বিষয়ে কাজ করছে উভয়পক্ষ।
এমআর/টিএ