© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

মহেশের সাথে প্রণয়, অকাল মৃত্যু সব মিলে পারভীনের জীবন এক অসমাপ্ত সিনেমা

শেয়ার করুন:
মহেশের সাথে প্রণয়, অকাল মৃত্যু সব মিলে পারভীনের জীবন এক অসমাপ্ত সিনেমা

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৬:০৪ পিএম | ০৫ এপ্রিল, ২০২৬
সত্তর দশকে একাধিক হিট ছবি দিয়ে নজর কেড়েছিলেন অভিনেত্রী ও মডেল পারভীন বাবি। আবেদনময় অভিনয় ও লাস্যময় উপস্থিতির জন্য সেসময় তিনি প্রত্যেক পরিচালকের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে ছিলেন। অভিনয়ের জন্য তিনি যেমন লাইমলাইটে ছিলেন তেমনি তার ব্যক্তিগত জীবনও ছিল চর্চায়। পরিচালক মহেশ ভাটসহ একাধিক তারকার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক, শেষ বয়সে মানসিক ভারসাম্যহীনতা, অকাল মৃত্যু সব মিলে পারভীন ববির জীবন ছিল রহস্যের চাদরে ঘেরা।

১৯৭২ সালে মডেলিং দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেন পারভীন। তখনই সুযোগ পান অভিনয়ের। এরপরের বছর মুক্তি পায় তার প্রথম চলচ্চিত্র ‘চরিত্র’। অমিতাভ বচ্চন, শশী কাপুর এবং ধর্মেন্দ্রর মতো অভিনেতাদের বিপরীতে বহু সফল চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন তিনি। ‘দিওয়ার’ ছবিতে যৌন কর্মী চরিত্রে তার অভিনয় সেসময় ঝড় তুলেছিল।



অভিনয় জগতে তিনি নিজের এক স্বতন্ত্র পরিচিতি তৈরি করেছিলেন। এমনকি প্রথম বলিউড তারকা হিসেবে ১৯৭৬ সালে টাইম ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে জায়গা করে নেন পারভীন বাবি।

তবে গ্ল্যামারাস এই ডিভার শেষ জীবন ছিল খুবই কষ্টের। মৃত্যুর তিনদিন পর উদ্ধার হয় তার নিথর দেহ। কিন্তু কেন এমন করুণ পরিণতি হয় পারভিন বাবির।

নাম জড়িয়েছিল একাধিক তারকার সঙ্গে। অভিনেতা ড্যানি, কবির বেদি এমনকি অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে তার প্রেমের খবর চাউর হয়েছিল। তবে পরিচালক মহেশ ভাটের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল সবচেয়ে আলোচিত। যদিও মহেশ সেসময় বিবাহিত, তবু নিঃসঙ্গ পারভীনের প্রেমে পড়েন।

মহেশ ভাট ও পারভীনের প্রেমের সম্পর্ক এতই গভীর ছিল যে সেসময় মহেশ ভাট তাদের প্রেম কাহিনী নিয়ে ‘আর্থ’ নামে একটি চলচ্চিত্র তৈরি করেন। ১৯৮২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই ছবিতে অভিনয় করেন স্মিতা পাটেল।

তবে ছবিটি পারভীনের জীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলেছিল। এমনকি শোনা যায়, ১৯৮৩ সালের দিকে ভারত ছেড়ে বিভিন্ন দেশে তীর্থ করেন এ অভিনেত্রী।



এরপর একাধিক সাক্ষাৎকারে এমন সব দাবি করেন যা শুনে সকলের হুশ উড়ে যায়। অমিতাভ বচ্চন, বিল ক্লিন্টন, প্রিন্স চার্লস সহ একাধিক হাই প্রোফাইল ব্যক্তিত্বদের বিরুদ্ধে তাকে মেরে ফেলার অভিযোগ আনেন। এমনকি সেই অভিযোগে আদালতে পিটিশন জমা দেন পারভীন। কিন্তু, উপযুক্ত প্রমাণ না থাকায় শেষ পর্যন্ত আর কিছু হয়নি।

ততদিনে কারো বুঝতে বাকি রইলো না মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছে পারভীন বাবি। শোনা গিয়েছিল তিনি প্যারানয়েড স্কিৎজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত। সেসময় বাড়ির বাইরে পা রাখাও বন্ধ করে দিয়েছিলেন তিনি। শেখর সুমনের সাথে তার জীবনের শেষ সাক্ষাৎকার ও দিয়েছিলেন নিজের বাড়িতে। ডিম দুধ ছাড়া প্রায় সব খাবার খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন।

মানসিক অবস্থা এতই খারাপ হয়ে গিয়েছিলো যে সমস্ত সম্পত্তি মৃত আত্মীয় স্বজনের নামে লিখে দিতে চাইতেন। কিছুই মনে করতে পারতেন না । একসময়ের লাস্যময়ী পারভীন সেসময় মৃত প্রায় অবস্থা

তার অসুস্থতা একটা সময় চরমে পৌঁছে যায়। ২০০৫ সালে মাত্র ৫৬ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান প্রতিভাবান এ অভিনেত্রী। মৃত্যুর দিন তিনেক পর পচন ধরা নিথর দেহটা উদ্ধার করা হয়েছিল।

মৃত্যুর পর তার দেহ নিতে কেউ না এলেও সম্পত্তি দাবি করতে লোকের অভাব ছিল না। কিন্তু পারভীন তার সম্পত্তি আগে থেকেই ভাগ করে দিয়েছিলেন। সম্পত্তির ৮০ শতাংশ তিনি দিয়েছিলেন ববি কমিউনিটির সুবিধাবঞ্চিত মহিলা ও শিশুদের জন্য। আর বাকি ২০ শতাংশ মামা মুরাদ খান ববিকে যার মধ্যে ১০ শতাংশ খরচ করার কথা ছিল একটি কলেজের জন্য।

পরিবারের লোক যদিও এই উইল মানতে চাননি। টানা ১১ বছর এ নিয়ে কেস ও চলে। অবশেষে ২০১১ সালে বম্বে হাইকোর্ট এই উইল খারিজ করে দেন।

অবাক করা বিষয় হলো মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায়ও পারভীন ববি সমাজের জন্য ভেবে গেছেন। অভিনয় শৈলী আর সৌন্দর্যে সত্তর ও আশি দশকের হিন্দি ছবির দর্শকের মনে আজও পারভীন ববি অমলিন।

পিআর/এসএন

মন্তব্য করুন