রাহুলের মৃত্যুর প্রতিবাদে টলিপাড়ায় কর্মবিরতি, অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ শুটিং
ছবি: সংগৃহীত
০৯:২৪ পিএম | ০৫ এপ্রিল, ২০২৬
রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুকে ঘিরে টলিপাড়ায় তীব্র ক্ষোভের আবহে এবার অনির্দিষ্ট কালের জন্য শুটিং বন্ধের সিদ্ধান্ত নিল অভিনেতা সংগঠন। শিল্পী ও কলাকুশলীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মবিরতি চলবে বলে জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে বড়পর্দা ও ছোটপর্দার সব ধরনের শুটিং বন্ধ থাকবে।
রবিবার টেকনিশিয়ানস স্টুডিয়োয় অভিনেতাদের সংগঠনের জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়, অঞ্জনা বসু, যিশু সেনগুপ্ত, রূপাঞ্জনা মিত্র, বিদীপ্তা চক্রবর্তীসহ টলিপাড়ার বহু পরিচিত মুখ। বৈঠকের পর শিল্পীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাহুলের মৃত্যুর ঘটনায় শুধু শোক প্রকাশ নয়, এবার নিরাপত্তা নিয়ে বাস্তব পদক্ষেপের দাবিতেই এই আন্দোলন।
শান্তিলাল মুখোপাধ্যায় জানান, শিল্পী, কলাকুশলী এবং প্রযুক্তিকর্মীদের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তাহীনতার অভিজ্ঞতা থেকেই এই সিদ্ধান্ত এসেছে। তাঁর কথায়, শুটিংয়ে বেরিয়ে সবাই কাজ করেন, কিন্তু নিরাপদে ফিরতে পারবেন কি না সেই নিশ্চয়তা থাকে না। রাহুলের মৃত্যু সেই প্রশ্নটিকেই সামনে এনে দিয়েছে।
শিল্পী সংগঠনের সঙ্গে প্রযুক্তিকর্মীদের বৃহৎ অংশও এই সিদ্ধান্তে একমত হয়েছে। অভিনেতা সংগঠনের সদস্যদের পাশাপাশি প্রযুক্তিকর্মীদের বড় অংশও কর্মবিরতিতে শামিল হবে বলে জানানো হয়েছে। ফলে কার্যত পুরো শিল্প অঙ্গনই অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, কাজের জায়গায় শিল্পী থেকে কলাকুশলী সবার জন্য নিরাপত্তা বাধ্যতামূলক হওয়া প্রয়োজন। কারণ সাম্প্রতিক এই ঘটনার পর শিল্পী মহলে গভীর আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তও বলেন, রাহুলের চলে যাওয়া গোটা শিল্পমহলকে একত্র করেছে, আর সেই শোকই এখন নিরাপত্তার দাবিতে পরিণত হয়েছে।

ফেডারেশনের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, শুটিংয়ের সময় ন্যূনতম নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বাধ্যতামূলক করতে হবে। প্রত্যেক শুটিং সেটে একটি করে অ্যাম্বুল্যান্স রাখার দাবিও উঠেছে। দুর্ঘটনা কখন ঘটবে তা আগে থেকে বোঝা যায় না, কিন্তু জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি থাকা জরুরি বলেই মত সংশ্লিষ্টদের।
মঙ্গলবার সকাল দশটায় টেকনিশিয়ানস স্টুডিয়োয় আবারও একত্র হবেন শিল্পী, প্রযুক্তিকর্মী, প্রযোজক ও পরিচালকেরা। সেখানেই পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হবে। এই অবস্থায় যেসব ধারাবাহিকের আগে থেকে ধারণ করা অংশ মজুত নেই, সেগুলোর সম্প্রচার নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
পিআর/এসএন