© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

নিজেদের চাকরি নেই, খাবার নেই, তবু তারকার মুখ দেখে ভোট দেন জনগণ : শ্রীলেখা মিত্র

শেয়ার করুন:
নিজেদের চাকরি নেই, খাবার নেই, তবু তারকার মুখ দেখে ভোট দেন জনগণ : শ্রীলেখা মিত্র

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৩:৩৭ পিএম | ০৮ এপ্রিল, ২০২৬
বিধানসভা ভোট ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক আবহ যখন ক্রমেই গরম হচ্ছে, তখন তারকাদের অবস্থান ও মতামতও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসছে। সেই আবহেই নিজের স্পষ্টভাষী মন্তব্যে নতুন করে আলোচনায় এলেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। ভোট, প্রার্থী নির্বাচন, রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে শুরু করে তারকাদের নির্বাচনী ব্যবহার একাধিক প্রশ্নে নির্দ্বিধায় নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কেমন মানুষকে দেখতে চান এমন প্রশ্নে শ্রীলেখা বলেন, তিনি প্রকৃত শিক্ষিত ও গুণী কাউকে দায়িত্বে দেখতে চান। উদাহরণ হিসেবে তিনি আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য-এর নাম উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, শুধু রাজনৈতিক পরিচয় নয়, নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তির বোধ ও শিক্ষার গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি।

ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে দল না প্রার্থী কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ, সে প্রশ্নে অভিনেত্রীর বক্তব্য, একটিকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। তাঁর মতে, দল সঠিক না হলে প্রার্থীর ভালো হওয়ার সম্ভাবনাও প্রশ্নের মুখে পড়ে। তাই দুটিকেই সমান গুরুত্ব দিয়ে বিচার করা প্রয়োজন।

প্রার্থী বাছাইয়ের আগে পরীক্ষা এবং নির্বাচিত হওয়ার পর প্রশিক্ষণের বিষয়েও স্পষ্ট মত দেন তিনি। শ্রীলেখার মতে, রাজনীতি একটি পেশা, আর যে কোনও পেশার মতো এখানেও দক্ষতা জরুরি। তাঁর অভিযোগ, বহু নির্বাচিত প্রতিনিধি দায়িত্বে থাকলেও মানুষের প্রয়োজনে তাঁদের পাওয়া যায় না। তাই আইনসভায় যাওয়ার আগে বাস্তব প্রশিক্ষণ প্রয়োজন বলেই মনে করেন তিনি।

নিজে কখনও নির্বাচনে অংশ নিতে চান কি না এমন প্রশ্নে অভিনেত্রী জানান, তাঁর ব্যক্তিগতভাবে কোনো রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেই। তবে কাল্পনিকভাবে সুযোগ পেলে তিনি মানুষের মানসিকতা বদলাতে চাইতেন বলেই মন্তব্য করেন।

চলচ্চিত্র অঙ্গনের সমস্যা নিয়েও কথা বলেন শ্রীলেখা। তাঁর অভিযোগ, শিল্পীদের ওপর ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কাজের ক্ষেত্রে বিভিন্ন চাপের কারণে নির্মাতাদের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হচ্ছে। কম বাজেটের পরিচালকদেরও নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে, ফলে অনেকে গোপনে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। এই পরিস্থিতিকে তিনি শিল্পের জন্য অস্বস্তিকর বলে মনে করেন।

নির্বাচনকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে সততার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাস্তবে ভোটের দিন বহু অনিয়মের অভিযোগ শোনা যায়। নির্বাচন পরিচালনায় যারা দায়িত্বে থাকবেন, তাঁদের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করাও জরুরি বলে মত দেন অভিনেত্রী।

দলবদল প্রসঙ্গে তাঁর অবস্থান আরও কঠোর। অর্থ বা ক্ষমতার লোভে আদর্শ বদলে বারবার দল পরিবর্তনকারীদের দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার পক্ষে মত দেন তিনি। তাঁর মতে, আদর্শহীন রাজনীতি শেষ পর্যন্ত মানুষের আস্থা নষ্ট করে।

রাজনীতিতে ভাষার অবনতি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন শ্রীলেখা। যুক্তির বদলে হুমকি ও কটূক্তির ব্যবহারকে তিনি গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির জন্য ক্ষতিকর বলে মনে করেন। তাঁর ভাষায়, মতের বিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু তা শালীনতার ভেতরে হওয়া উচিত।

উন্নয়ন, সমঅধিকার ও সংস্কৃতির মধ্যে কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, প্রকৃত উন্নয়ন ছাড়া সমতা সম্ভব নয়। সমাজের নিচু স্তরের মানুষকে শিক্ষা ও কাজের সুযোগ না দিলে বৈষম্য দূর হবে না।



ভাতা নির্ভর রাজনীতির বিরুদ্ধেও অবস্থান জানান এই অভিনেত্রী। তাঁর মতে, অল্প অর্থ দিয়ে সাময়িক সন্তুষ্টি দেওয়া যায়, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে প্রয়োজন কাজ, শিল্প ও শিক্ষা বিস্তার। তা না হলে মানুষ কর্মসংস্থানের জন্য বাইরে চলে যেতে বাধ্য হবে।

প্রায় বিরোধীশূন্য রাজনৈতিক পরিবেশকে তিনি অস্বাস্থ্যকর বলে বর্ণনা করেন। সরকারের ওপর কার্যকর চাপ না থাকলে জবাবদিহি কমে যায় বলেই তাঁর বিশ্বাস।

সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে তারকাদের ভোটে ব্যবহার নিয়ে তাঁর মন্তব্য। শ্রীলেখার ভাষায়, এখনও সাধারণ মানুষ তারকার মুখ দেখেই ভোট দেন। নিজেদের জীবনের কষ্ট, বেকারত্ব, খাদ্যসংকট সবকিছুর মাঝেও তারকাখ্যাতি ভোট টানার বড় হাতিয়ার হয়ে ওঠে। তাই রাজনৈতিক দলগুলো সচেতনভাবেই পরিচিত মুখকে প্রার্থী করে।

সবশেষে প্রিয় রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু-র নাম।

পিআর/এসএন

মন্তব্য করুন