কানাডা থেকে সংগীতের কোন স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার কথা বললেন কুমার বিশ্বজিৎ?
ছবি: সংগৃহীত
০৪:৩৩ পিএম | ০৮ এপ্রিল, ২০২৬
একটি দুর্ঘটনা এলোমেলো করে দিয়েছে কুমার বিশ্বজিতের জীবন। ২০২৩ সালের ফেরুয়ারিতে কানাডায় ভয়াবহ এক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হন তাঁর একমাত্র সন্তান কুমার নিবিড়। সেই থেকে কুমার বিশ্বজিৎ তাঁর আত্মজের সুস্থতায় অগণিত দিন পড়ে ছিলেন সেখানকার একটি হাসপাতালে। সন্তানকে নিয়ে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠায় কাটছে শিল্পীর একেকটি দিন। আশার কথা হলো, গত বছর কুমার নিবিড় খানিকটা শঙ্কামুক্ত হওয়ায়, আবার শ্রোতাদের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক জুড়ে নিতে চাইছেন বিশ্বজিৎ। সেই ভাবনা থেকে গত বছর জুনে মঞ্চে ফেরেন এই শিল্পী। অংশ নেন কানাডার ড্যানফোর্ড এভিনিউর ডাকরিজ পার্কে আয়োজিত ‘কুমার বিশ্বজিৎ লাইভ ইন কনসার্ট’-এ।
কানাডায় শো করার পরই তিনি ছুটে যাবেন ওশেনিয়া অঞ্চলের সবচেয়ে বড় দেশ অস্ট্রেলিয়ায়। সেখানে ‘লিজেন্ড আনলিস্ট’ শিরোনামে আয়োজিত ধারাবাহিক কনসার্টে অংশ নেন তিনি।
পারফর্ম করেন অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন, সিডনি, ব্রিসবেন ও পার্থের আয়োজিত কনসার্টগুলোয়। পাশাপাশি শ্রোতাদের প্রত্যাশা পূরণে শুরু করেন নতুন গানের আয়োজন। এবার কুমার বিশ্বজিতের কাছ থেকে এলো নতুন বার্তা। জানালেন, গানের ভুবনে শুধু সরব হওয়া নয়, পাশাপাশি সংগীতের স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নতুন করে পথচলা শুরু করতে যাচ্ছেন তিনি।

কুমার বিশ্বজিতের কথায়, মানুষের অনেক স্বপ্ন থাকে, যার মধ্যে কিছু কিছু স্বপ্ন পূরণের জন্য মন ব্যাকুল থাকে। সংগীত জীবনে তাঁর বিচরণ চার দশকের বেশি সময় ধরে। এই দীর্ঘ সময়ে যা কিছু শিখেছেন এবং তা যত সামান্যই হোক, তা নতুন প্রজন্মকে কিছু দিতে চান। কুমার বিশ্বজিৎ বলেন, ‘আমার ইচ্ছা, আমরা সচরাচর যেভাবে প্রাতিষ্ঠানিক সংগীত শিক্ষা নিয়ে থাকি, সেখানে হয়তো ব্যাকরণগত বিষয়গুলো থাকে। ওস্তাদরা গান শেখান, গান তুলে দেন। কিন্তু আমি যখন ক্যারিয়ার শুরু করি, তখন থেকে অনেক নামি সংগীত পরিচালক এবং বড় সব শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। স্টুডিওতে তাদের গায়কি খুব কাছ থেকে দেখেছি। তখন মনে হয়েছে তফাৎটা কোথায়?
একজন শিল্পী হয়তো খুব নিখুঁত গাইছেন, কিন্তু গানটা প্রাণে লাগছে না। কিন্তু কেন?’ এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে যা আমার স্পষ্ট হয়েছে, তা হলো– পারফরম্যান্সের সময় গানের কথা ও সুরের সঙ্গে শিল্পীদের এক ধরনের অভিনয়ও করতে হয়। গানে আবেগ, অনুভূতির প্রকাশ যেমন থাকে, তেমনি বিরহ-বিচ্ছেদ থেকে শুরু করে দেশপ্রেম, বিদ্রোহ, প্রতিবাদী বক্তব্য নানা বিষয় উঠে আসতে পারে। তাই একজন শিল্পীর মূল কাজ হলো কথা ও সুরের সঙ্গে ‘অভিনয়’ করা। আর এই লিরিক্যালি অভিনয় করতে গেলে প্রয়োজন বাতাসের সঠিক ব্যবহার বা ‘বায়ু প্রক্ষেপণ’। কখনও পেট থেকে, কখনও বুক থেকে, কখনও কণ্ঠ, তালু কিংবা নাসিকা ব্যবহার করে আবেগ ফুটিয়ে তুলতে হয়। এটি ভীষণ কঠিন একটি শিল্প। যেমন আমার গাওয়া মা, প্রেম তো পরের জমি নয়, ছোট ছোট আশা, জন্মিলে মরিতে হবে– একটু ডিফরেন্ট ভয়েজ টোনের কাজ।’
নিজের স্বপ্নকে বিশ্লেষণ করা ও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা প্রসঙ্গে দেশের এই অন্যতম জনপ্রিয় সংগীতশিল্পীর ভাষ্য, ‘সব মিলিয়ে আমার বহুদিনের স্বপ্ন, নতুন প্রজন্মের জন্য ভয়েজ থ্রোয়িং শেখানোর একটি প্রতিষ্ঠান বা স্কুলিং করা। সেটি অনলাইন বা নির্দিষ্ট কোনো কেন্দ্রভিত্তিক হতে পারে। আমি যদি আমার এই ক্ষুদ্র অভিজ্ঞতাটুকু তাদের মাঝে বিলিয়ে দিতে পারি, তবেই নিজেকে সার্থক মনে করব। এর পাশাপাশি আমার আরেকটি স্বপ্ন আছে। সংগীত অত্যন্ত শক্তিশালী একটি মাধ্যম, যা মানুষের অনুভূতি ও উপলব্ধিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। সংগীত মানুষের হৃদয়ের দাহন কিংবা যাপিত জীবনের নানা কষ্ট অনেকটা লাঘব করে দেয়। তাই আমার ইচ্ছা, একটি ‘মিউজিক্যাল হিলিং সেন্টার’ করা।
যাকে বলে মিউজিক থেরাপি, যেটি মেডিকেল সায়েন্সে একটি খুব এপ্রোভ থিউরি। তবে এটি কোনো প্রথাগত মেডিকেল ট্রিটমেন্ট নয়; বরং একটি নন-মেডিকেল সাপোর্ট সেন্টার। যেখানে মানসিক অবসাদে থাকা মানুষ কিংবা বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিরা আসবে।
পিআর/এসএন