© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

গুজরাটের সঙ্গে দিল্লি ক্যাপিটালসের নাটকীয় হার

শেয়ার করুন:
গুজরাটের সঙ্গে দিল্লি ক্যাপিটালসের নাটকীয় হার

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০২:৩১ এএম | ০৯ এপ্রিল, ২০২৬
জয়ের জন্য দিল্লি ক্যাপিটালসের প্রয়োজন ৩ বলে ৮ রান। প্রাসিধ কৃষ্ণার স্লটে করা ডেলিভারি সোজা স্টেডিয়ামেরই বাইরে পাঠিয়ে দিলেন ডেভিড মিলার। স্ক্রিনে ভেসে উঠল, ১০৬ মিটার ছক্কা! সমীকরণ নেমে এলো ২ বলে ২ রানে।

পরের বলে ফাইন লেগের দিকে খেললেও, রান নিলেন না মিলার। ফলে শেষ বলে বাকি থাকল ২ রান। ঝুঁকি মাথায় রেখেই স্লোয়ার বাউন্সার করলেন কৃষ্ণা। ব্যাটে লাগাতে পারলেন না মিলার। রানের জন্য ছুটলেন কুলদিপ যাদব। তবে তিনি ক্রিজে ঢোকার আগেই স্টাম্প এলোমেলো করে দিলেন জস বাটলার। 



রান আউটের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিলেন লেগ আম্পায়ার। তবে এর মাঝেই আবার ওয়াইডের জন্য রিভিউ নিলেন মিলার। রিপ্লেতে দেখা গেল, বাউন্সারের উচ্চতা ছিল তার মাথার নিচেই। তাই মাঠের সিদ্ধান্তই বহাল রাখলেন থার্ড আম্পায়ার। নিশ্চিত হারের মুখ থেকে জিতে গেল গুজরাট টাইটান্স।

শেষের এই নাটকীয়তার আগে দিল্লিকে জয়ের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন মিলারই। শেষ ২ ওভারে ৩৬ রানের সমীকরণে মোহাম্মদ সিরাজের বলে দুই ছক্কার মাঝে চার মেরে দেন প্রোটিয়া তারকা। ওই ওভার থেকে দিল্লি পেয়ে যায় ২৩ রান। শেষ ওভারে বাকি থাকে ১৩ রান।

ক্রিজে তখন ১৭ বলে ৩৫ রান করা মিলার থাকায় মনে হচ্ছিল, সহজেই জিতে যাবে গুজরাট। এর মাঝে প্রথম বলে বাউন্ডারি মেরে দেন ভিপরাজ নিগাম। তবে দ্বিতীয় বলে আউট হয়ে যান তিনি। চতুর্থ বলে স্ট্রাইক পেয়েই মিলারের সেই বিশাল ছক্কা।

পরে শেষ দুই বলের হিসেবে তালগোল পাকিয়ে হিরো হওয়ার বদলে ভিলেনই হয়ে গেলেন কিলার মিলার খ্যাত এই ব্যাটার। নিজেদের সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ড গড়ার সম্ভাবনা জাগিয়েও তাই শেষ পর্যন্ত পারল না দিল্লি।

অরুন জেটলি স্টেডিয়ামে বুধবার রাতের এই ম্যাচটিতে গুজরাটের জয় মাত্র ১ রানে। আগে ব্যাট করে তারা পায় ২১০ রানের পুঁজি। জবাবে লোকেশ রাহুল ও মিলারের ঝড়ের পরও ২০৯ রানের বেশি করতে পারল না স্বাগতিক দল।

তিন ম্যাচে গুজরাটের এটি প্রথম জয়। অন্য দিকে প্রথম দুই ম্যাচ জেতার পর তৃতীয়টিতে এসে হারের স্বাদ পেল দিল্লি। ম্যাচটিতে আগে ব্যাট করা গুজরাটকে দুইশ ছাড়ানো পুঁজি এনে দেন অধিনায়ক শুবমান গিল, বাটলার ও ওয়াশিংটন সুন্দর। ৪ চার ও ৫ ছক্কায় ৪৫ বলে ৭০ রানের ইনিংস খেলেন গিল। সুন্দরের ব্যাট থেকে আসে ৬ চার ও ২ ছক্কায় ৩২ বলে ৫৫ রান।

দুজনের মাঝে নেমে ৩ চার ও ৫ ছক্কায় ২৭ বলে ৫২ রান করেন বাটলার। এই ৫ ছক্কার সৌজন্যে স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে ৬০০ ছক্কার মালিক হয়েছেন ইংলিশ তারকা ব্যাটার।

রান তাড়ায় দিল্লিকে একাই বাঁচিয়ে রাখেন রাহুল। ১৭তম ওভারে আউট হওয়ার আগে ১১ চার ও ৪ ছক্কায় ৫২ বলে ৯২ রান করেন অভিজ্ঞ ওপেনার। তার উদ্বোধনী সঙ্গী পাথুম নিসাঙ্কার ব্যাট থেকে আসে ৬ চার ও ১ ছক্কায় ২৪ বলে ৪১ রান।

প্রথমে দশম ওভারে ক্রিজে গিয়ে হাতের চোটে উঠে গিয়েছিলেন মিলার। পরে আবার ব্যাটিংয়ে নেমে তিনিই জাগান জয়ের আশা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পারেননি নায়ক হতে। ৩টি করে চার-ছক্কা মেরে ২০ বলে ৪১ রানে অপরাজিত থাকেন মিলার। রান বন্যার ম্যাচে ৪ ওভারে মাত্র ১৭ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন রশিদ খান। 

আরআই/টিকে

মন্তব্য করুন