© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

৪০ মাইল দূর থেকে কীভাবে শনাক্ত করে পাইলটকে উদ্ধার করেছিল সিআইএ?

শেয়ার করুন:
৪০ মাইল দূর থেকে কীভাবে শনাক্ত করে পাইলটকে উদ্ধার করেছিল সিআইএ?

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১১:৩৫ পিএম | ০৯ এপ্রিল, ২০২৬
মাইলের পর মাইল দূর থেকে নিখুঁতভাবে মানুষের হৃদস্পন্দন শনাক্ত করতে সক্ষম একটি অত্যাধুনিক গোয়েন্দা প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইরানে বিধ্বস্ত মার্কিন বিমানের সেই পাইলটকে উদ্ধার করেছিল সিআইএ। 

নিউইয়র্ক পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে।  প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিআইএ ‘গোস্ট মারমার’ নামক একটি অতি গোপনীয় সিস্টেম প্রথমবারের মতো কোনো সরাসরি অভিযানে ব্যবহার করেছে। ইরানে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর সেই পাইলট দুর্গম পাহাড়ে আত্মগোপন করেছিলেন। ফলে তাকে খুঁজে পেতেই এই ‘ফিউচারিস্টিক’ বা ভবিষ্যৎমুখী প্রযুক্তিটি ব্যবহার করা হয়। 

প্রযুক্তিনির্ভর এই অনুসন্ধান সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেন, ‘এটি অনেকটা হাজারো দর্শকের চিৎকারে ভরা স্টেডিয়ামের ভেতর থেকেও নির্দিষ্ট কারো কণ্ঠস্বর শোনার মতো। আপনার হৃদপিণ্ড যদি সচল থাকে, তবে আমরা আপনাকে খুঁজে পাবোই।’

প্রতিবেদন অনুসারে, এই সিস্টেমটি ‘লং-রেঞ্জ কোয়ান্টাম ম্যাগনেটোমেট্রি’ ব্যবহার করে মানুষের হৃদস্পন্দনের ইলেকট্রোম্যাগনেটিক সিগন্যাল বা তড়িৎচৌম্বকীয় সংকেত শনাক্ত করে। এরপর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে চারপাশের যাবতীয় শব্দ থেকে সেই নির্দিষ্ট সংকেতটিকে আলাদা করে ফেলা হয়।

উদ্ধার অভিযানের সময় কর্মকর্তারা পাইলটের ‘সারভাইভাল বিকন’ থেকে সংকেত পেলেও তার সঠিক অবস্থান চিহ্নিত করতে পারছিলেন না। অবশেষে ‘গোস্ট মারমার’ প্রযুক্তির মাধ্যমে তার সঠিক অবস্থান এবং তিনি যে জীবিত আছেন, তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। 

হোয়াইট হাউসে এক ব্রিফিংয়ে সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ এই অভিযান সম্পর্কে বলেন, ‘আমাদের অন্যতম সেরা ও সাহসী এক সন্তান জীবিত আছেন এবং একটি পাহাড়ের খাঁজে লুকিয়ে ছিলেন-যা শত্রুর চোখে অদৃশ্য হলেও সিআইএ-র কাছে নয়।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই প্রযুক্তির প্রশংসা করে সাংবাদিকদের বলেন, সিআইএ প্রায় ৪০ মাইল দূর থেকে ওই পাইলটের অবস্থান শনাক্ত করেছে। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘এটি অনেকটা খড়ের গাদায় সুঁই খুঁজে পাওয়ার মতো বিষয়; সিআইএ অবিশ্বাস্য কাজ করেছে।’

নিউইয়র্ক পোস্টের তথ্যমতে, এই প্রযুক্তিটি লকহিড মার্টিনের অত্যন্ত গোপনীয় ‘স্কাঙ্ক ওয়ার্কস’ বিভাগে তৈরি করা হয়েছে। ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারসহ বিভিন্ন সামরিক প্ল্যাটফর্মে এটি ইতোমধ্যে পরীক্ষা করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানেও এটি যুক্ত করা হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের জনমানবহীন মরুভূমি এলাকাটি এই প্রযুক্তির প্রথম ব্যবহারের জন্য ‘আদর্শ’ ছিল, কারণ সেখানে অন্যান্য সংকেতের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। একজন কর্মকর্তা জানান, প্রযুক্তিটির নাম ‘গোস্ট’ রাখা হয়েছে কারণ এটি এমন কাউকে খুঁজে পেতে সক্ষম যে দৃশ্যত পৃথিবী থেকে ‘উধাও’ হয়ে গেছে। 

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে 

আরআই/টিকে

মন্তব্য করুন