© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

‘ব্যান কালচার’ তুলে দেওয়ার যোগ্যতা আমারও নেই: প্রসেনজিৎ

শেয়ার করুন:
‘ব্যান কালচার’ তুলে দেওয়ার যোগ্যতা আমারও নেই: প্রসেনজিৎ

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:১৫ পিএম | ১২ এপ্রিল, ২০২৬
টলিউডে ‘নিষিদ্ধ সংস্কৃতি’ ঘিরে চলমান বিতর্কে নতুন করে মুখ খুললেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। সহকর্মী দেব-এর ভাবনাকে সমর্থন জানালেও স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এই জটিল পরিস্থিতির সমাধান করা তাঁর পক্ষেও সম্ভব নয়।

ঘটনার সূত্রপাত টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োর এক বৈঠক থেকে, যেখানে দেব ঘোষণা করেছিলেন ইন্ডাস্ট্রিতে দীর্ঘদিন ধরে চলা ‘নিষিদ্ধ সংস্কৃতি’ দ্রুত তুলে নেওয়া উচিত। সেই ঘোষণার পেছনে ছিল রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া আবেগঘন পরিস্থিতি। শিল্পী-কলাকুশলীদের নিরাপত্তা ও কাজের পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেই এই উদ্যোগের সূচনা।



তবে বাস্তবতার মাটিতে দাঁড়িয়ে প্রসেনজিতের বক্তব্য, এমন সিদ্ধান্ত হুট করে নেওয়া যায় না। তাঁর কথায়, একটি শিল্পমাধ্যমের ভেতরে এত মানুষের কাজ, সম্পর্ক ও জটিলতা জড়িয়ে থাকে যে, তা সমাধান করতে সময় এবং সম্মিলিত আলোচনার প্রয়োজন। তিনি মনে করেন, এই ধরনের বিষয় আবেগে নয়, বরং সুপরিকল্পিত আলোচনার মাধ্যমেই মীমাংসা হওয়া উচিত।

দেবের সঙ্গে কোনও ব্যক্তিগত দূরত্ব বা অভিমান রয়েছে এমন ধারণাও উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। বরং জানিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে নিয়মিত কথা হয়। তবে একটি বিষয় তাঁকে কষ্ট দিয়েছে তাঁকে পাঠানো চিঠি সমাজমাধ্যমে প্রকাশ করা। তাঁর মতে, এ ধরনের বিষয় প্রকাশ্যে আনার আগে পারস্পরিক আলোচনা হওয়া উচিত ছিল।

একই সঙ্গে টলিউডের অভ্যন্তরীণ চিত্র নিয়েও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন এই বর্ষীয়ান অভিনেতা। তাঁর দাবি, সময় বদলালেও এখনও পরিবারতন্ত্রের ছাপ রয়ে গিয়েছে ইন্ডাস্ট্রিতে। পেশাদারিত্বের কথা বলা হলেও, বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই সেই কাঠামো গড়ে ওঠেনি। অতীতের এক অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তিনি, যেখানে শুটিং সেটে প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও কাজ করতে পারেননি, অথচ কেউ তাঁর খোঁজও নেননি।

এই প্রসঙ্গ টেনে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, শিল্পীদের মানসিক অবস্থার গুরুত্ব কতটা। রাহুলের মৃত্যুও সেই প্রশ্নকে আরও সামনে এনে দিয়েছে বলে মনে করেন তিনি। তাঁর বিশ্বাস, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও সম্মানজনক কর্মপরিবেশ গড়ে তোলাই এখন সবচেয়ে জরুরি।

সবশেষে আবারও দেবের উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়ে প্রসেনজিৎ বলেন, শুধু অনির্বাণ ভট্টাচার্য নন, আরও অনেক শিল্পী দীর্ঘদিন ধরে কাজের বাইরে রয়েছেন। তাঁদের প্রত্যেকের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাক এটাই তিনি চান। তবে সেই পথটি হতে হবে ধীরস্থির, আলোচনাভিত্তিক এবং সকল পক্ষের সম্মতিতে।

পিআর/টিএ

মন্তব্য করুন