গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম, আশার কোন রেকর্ড আজও কেউ ভাঙতে পারেননি?
ছবি: সংগৃহীত
০৯:২৪ পিএম | ১২ এপ্রিল, ২০২৬
সুরের জগতে এক বিস্ময়ের নাম আশা ভোসলে। সাত দশকেরও বেশি দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি শুধু জনপ্রিয়তার শিখরেই পৌঁছাননি, গড়েছেন এমন এক রেকর্ড যা আজও অধরা রয়ে গেছে বিশ্বের বহু শিল্পীর কাছে।
মাত্র দশ বছর বয়সে সংগীতজগতে যাত্রা শুরু। ১৯৪৩ সালে প্রথম প্লেব্যাক, আর তারপর থেকে যেন থামেননি তিনি। একের পর এক ভাষা, একের পর এক গান নিজের কণ্ঠে ভরিয়ে তুলেছেন উপমহাদেশের সুরভাণ্ডার। তাঁর গাওয়া গানের সংখ্যা বারো হাজারেরও বেশি, যা তাঁকে নিয়ে গেছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের পাতায়। সংগীতের ইতিহাসে এত বিপুল সংখ্যক গান রেকর্ড করার নজির এখনও বিরল, প্রায় অপ্রতিদ্বন্দ্বী।
শুধু সংখ্যার দিক থেকেই নয়, বৈচিত্র্যের দিক থেকেও তিনি ছিলেন অনন্য। হিন্দি, বাংলা, মারাঠি, গুজরাটি, তামিলসহ ২০টিরও বেশি ভাষায় গান গেয়ে নিজেকে ছড়িয়ে দিয়েছেন ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতির ভেতরে। কখনো প্রেমের সুর, কখনো বিরহের ব্যথা, আবার কখনো উচ্ছ্বাসে ভরা আধুনিক গান সব ক্ষেত্রেই তাঁর কণ্ঠে ছিল আলাদা জাদু।
সংগীত পরিচালক রাহুল দেব বর্মন-এর সঙ্গে তার সৃষ্টিশীল যুগলবন্দি তৈরি করেছিল নতুন ধারা। ‘দম মারো দম’ বা ‘পিয়া তু আব তো আজা’র মতো গান আজও শ্রোতাদের মনে তাজা। পাশাপাশি ও পি নায়্যার ও শচিন দেব বর্মন-এর সুরেও তিনি উপহার দিয়েছেন অসংখ্য কালজয়ী সৃষ্টি। কিশোর কুমার-এর সঙ্গে তাঁর দ্বৈত গান প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সমান জনপ্রিয়।
শুধু হিন্দি নয়, বাংলা গানেও তার অবদান গভীর। ‘নাচ ময়ূরী নাচ রে’ কিংবা ‘মহুয়ায় জমেছে আজ’ এমন বহু গানে তিনি জায়গা করে নিয়েছেন বাঙালি শ্রোতার হৃদয়ে।

অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত এই শিল্পী পেয়েছেন দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার, পদ্মভূষণসহ একাধিক স্বীকৃতি। তবু তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয় থেকে যায় অসামান্য কণ্ঠশিল্পী হিসেবে, যিনি সংখ্যার দিক থেকেও গড়েছেন ইতিহাস।
গিনেসে নাম ওঠার সেই রেকর্ড ২০টিরও বেশি ভাষায় বারো হাজারের বেশি গান আজও প্রায় অক্ষত। সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু বদলেছে, নতুন প্রজন্ম এসেছে, প্রযুক্তি বদলেছে, কিন্তু এই এক রেকর্ড যেন এখনও দাঁড়িয়ে আছে অটুট এক মাইলফলক হয়ে।
পিআর/টিএ