© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

অ্যাশেজ ধাক্কার পর বদলের ইঙ্গিত দিলেন স্টোকস

শেয়ার করুন:
অ্যাশেজ ধাক্কার পর বদলের ইঙ্গিত দিলেন স্টোকস

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৭:২০ পিএম | ১৭ এপ্রিল, ২০২৬
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ৪-১ ব্যবধানে অ্যাশেজ বিধ্বস্ত হওয়ার ক্ষত এখনো দগদগে। যে সিরিজকে পাখির চোখ করে গত তিন বছর ধরে এগোচ্ছিল ইংল্যান্ড, সেখানে এমন ভরাডুবির পর প্রশ্ন উঠেছিল ব্রেন্ডন ম্যাককালাম আর বেন স্টোকসের সেই আক্রমণাত্মক ‘বাজবল’ তত্ত্ব নিয়ে। এবার অধিনায়ক বেন স্টোকসই ইঙ্গিত দিলেন, সামনে ইংল্যান্ডের খেলার ধরনে আসতে যাচ্ছে বড় পরিবর্তন।

ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্টোকস জানান, গ্রীষ্মকালীন মৌসুমে ভক্তরা হয়তো এক ভিন্ন ইংল্যান্ড দলকে দেখতে পাবেন। স্টোকসের এই মন্তব্য ক্রিকেট মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে—তবে কি ‘বাজবল’ যুগের সমাপ্তি ঘটতে চলেছে?

২০২২ সালে ব্রেন্ডন ম্যাককালাম কোচের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ‘জেতার জন্য খেলো, ড্রয়ের কথা ভাবো না’—এই মন্ত্রে দীক্ষিত হয়েছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার পেস ও বাউন্সের সামনে সেই অতি-আক্রমণাত্মক কৌশল মুখ থুবড়ে পড়ে।
স্টোকস বলেন, ‘ব্রেন্ডন (ম্যাককালাম) আর আমার কাজের ধরনে আমি ভীষণ আত্মবিশ্বাসী। তবে গত চার বছর একসঙ্গে কাজ করার পর এখন হয়তো আমাদের পরিচালনার ধরনটা কিছুটা ভিন্ন দেখাবে। আমাদের মূল লক্ষ্য দলকে সেরা অবস্থানে নিয়ে যাওয়া, সেটা একই আছে। তবে জেতার পথটা হয়তো এবার একটু অন্যরকম হবে।’

অ্যাশেজ চলাকালীন গুঞ্জন উঠেছিল, স্টোকস ও ম্যাককালামের মধ্যে কৌশলগত মতের পার্থক্য তৈরি হয়েছে। মাঠের বিপর্যয়ে স্টোকস যখন রক্ষণাত্মক হয়ে লড়াই করতে চেয়েছিলেন, ম্যাককালাম নাকি তখনো আগ্রাসী মেজাজ ধরে রাখার পক্ষে ছিলেন। এ প্রসঙ্গে স্টোকস খোলাখুলিই বললেন, ‘কেউ যদি মনে করে আমরা সব বিষয়ে একমত হবো, তবে সেটা অসম্ভব। সব বিষয়ে 'হ্যাঁ' বলাটা স্পোর্টিং পরিবেশের জন্য স্বাস্থ্যকর নয়। আমাদের মধ্যে বিতর্ক দরকার, আলোচনা দরকার। আমরা ৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রে একমত থাকি, কিন্তু বাকি ৫ শতাংশে ভিন্নমত থাকতেই পারে।’

মজার ব্যাপার, গত মাসে ইংল্যান্ড ক্রিকেটের পরিচালক রবিন কি জানিয়েছিলেন, দলের দর্শনে বড় কোনো পরিবর্তন আসছে না। তিনি বলেছিলেন, ম্যাককালামকে তাঁর সহজাত স্টাইলের বাইরে গিয়ে কাজ করতে বলা হবে না। কিন্তু স্টোকসের সাম্প্রতিক বক্তব্য বলছে ভিন্ন কথা। অধিনায়ক যখন বলছেন ‘জিনিসগুলো এখন আলাদা দেখাবে’, তখন ভক্ত-সমর্থকেরা দ্বিধায় পড়তেই পারেন।

২০১৫ সালের পর থেকে অ্যাশেজ পুনরুদ্ধার করতে পারেনি ইংল্যান্ড। আগামী বছর ঘরের মাঠে আবারও অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে তারা। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই নিজেকে এবং দলকে নতুন করে সাজাতে চান স্টোকস। ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার অঙ্গীকার করে বলেন, ‘আমরা ভুল করেছি এবং সেই ভুল থেকে শিখেছি। আমি অধিনায়কত্ব করতে ভালোবাসি, এই দলটাকে ভালোবাসি। ২০২৭ সাল পর্যন্ত আমরা এভাবেই সফল হতে চাই।’

নিউ জিল্যান্ড ও পাকিস্তান সিরিজে ইংলিশদের রণকৌশল কেমন হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। শেষ পর্যন্ত মাঠের পারফরম্যান্সই বলে দেবে—বাজবল কি সত্যিই মরে গেছে, নাকি নতুন কোনো রূপে পুনর্জন্ম নিতে যাচ্ছে।

এবি/টিএ

মন্তব্য করুন