নাটকীয় হারের পর মিরাজ বললেন, ‘মাঝে মাঝে এমনটা হতেই পারে’
ছবি: সংগৃহীত
০৮:৪৮ পিএম | ১৭ এপ্রিল, ২০২৬
নিউজিল্যান্ডের ২৪৭ রানের জবাবে বাংলাদেশ ২৫তম ওভারেই টার্গেটের অর্ধেক রান করে ফেলেছিল। একটু দেখেশুনে খেললেই জয় সহজেই ধরা দেয়। কিন্তু অনেক ডটবল দিয়ে নিজেদের ওপর চাপ তৈরি করতে থাকে বাংলাদেশ। লেনক্সের বল খেলা কঠিন হয়ে পড়ছিল। ফক্সক্রফট ও নাথান স্মিথ আগেই ছন্দ তৈরি করেছিলেন। রান রেট আস্তে আস্তে ৫ থেকে ৬, তারপর সাতে উঠতে থাকে।
ওই চাপের মধ্যে বাংলাদেশ উইকেট হারাতে থাকল। ২২ গজে একমাত্র ব্যাটার হিসেবে লড়ছিলেন তাওহীদ হৃদয়। অপর প্রান্ত থেকে কোনো একজনের ভালো সমর্থন তিনি চাচ্ছিলেন। তার শট নির্বাচন ছিল প্রশ্নবিদ্ধ, অন্যদিকে যোগ্য সমর্থনের অভাবে তার ওপর থাকা দায়িত্ব বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। নিউজিল্যান্ডের গোছানো বোলিংয়ে শেষ পর্যন্ত ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইন এবং তিন ম্যাচের সিরিজ শুরু করতে হলো ২৬ রানে হেরে। ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে হার প্রসেঙ্গ মেহেদী হাসান মিরাজ বললেন, ‘হ্যাঁ, মাঝে মাঝে এমনটা হয়। সব খেলোয়াড়ই খুব উত্তেজিত ছিল এবং সবাই জিততে চেয়েছিল, কিন্তু মাঝে মাঝে এমনটা হতেই পারে।’
বোলারদের পারফরম্যান্স নিয়ে উচ্ছ্বসিত অধিনায়ক, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই। আমার মনে হয় আমরা খুব ভালো বোলিং করেছি। এই উইকেটে ২৭০ রান তাড়া করা খুব একটা কঠিন কাজ নয়। উইকেটটা বেশ ভালো ছিল এবং আমাদের বোলাররা (তাদের আটকে রাখতে) দারুণ কাজ করেছে। আমরা যদি দুইটা ক্যাচ নিতে পারতাম, তাহলে নিশ্চিতভাবেই ওদের ২০০ রানের নিচে আটকে রাখতে পারতাম। এটা আমাদের দলের ছোট একটা ভুল ছিল। তবে আমি মনে করি আমাদের অনেক ইতিবাচক দিকও আছে।’
শেষ মুহূর্তে শরিফুল ইসলামের সুযোগ পাওয়া নিয়ে মিরাজের কথা, ‘বেশ কিছু ইতিবাচক দিকের মধ্যে একটি ছিল আশীর্বাদের মতো— তা হলো শেষ মুহূর্তে শরিফুলের দলে অন্তর্ভুক্তি। এটা ওর জন্য অনেক বড় একটা সুযোগ ছিল। একদম শেষ মুহূর্তে মুস্তাফিজুর ইনজুরিতে পড়ায় যে কারো জন্য কাজটা কঠিন ছিল, কারণ প্রস্তুতির দিক থেকে ও জানত না যে এই ম্যাচটি ও খেলছে। ভাগ্যক্রমে ও সুযোগ পেয়েছে এবং অনেকদিন পর ফিরেও খুব ভালো বোলিং করেছে।’
৩৭ রানে শেষ ৬ উইকেট হারালেও ব্যাটিং নিয়ে ইতিবাচক তিনি, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই। আমার মনে হয় পরপর দুটি উইকেট পড়ে যাওয়া সব সময় প্রতিপক্ষ দলের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করে দেয়। তবে লিটন ও তাওহীদ যেভাবে ব্যাটিং করেছে তা দুর্দান্ত ছিল। এরপর তাওহীদ ও আফিফও ভালো খেলেছে। আমাদের অবশ্যই ম্যাচটা ভালোভাবে শেষ করা উচিত ছিল, অন্যথায় জয় পাওয়া সম্ভব নয়। কারণ রান তাড়া করার সময় বড় পার্টনারশিপ গড়া খুব জরুরি। আমরা যদি একটা বড় পার্টনারশিপ গড়তে পারতাম, তাহলে নিশ্চিতভাবেই ম্যাচটা জিততাম।’
এবি/টিএ