© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

বৈষম্য দূরীকরণে স্বাস্থ্য সেবার বিকেন্দ্রীকরণে কাজ শুরু করেছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

শেয়ার করুন:
বৈষম্য দূরীকরণে স্বাস্থ্য সেবার বিকেন্দ্রীকরণে কাজ শুরু করেছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৪:০৯ পিএম | ১৮ এপ্রিল, ২০২৬
বৈষম্য দূরীকরণে স্বাস্থ্য সেবার বিকেন্দ্রীকরণে সরকার কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বর্তমানে বিশেষজ্ঞ হাসপাতাল, উন্নত ল্যাব সবকিছু রাজধানী কেন্দ্রীক। এ ধারণা থেকে বের হয়ে আমরা জেলা-উপজেলা কেন্দ্রীক হাসপাতালগুলোকে আধুনিকায়ন করতে চাই। এ লক্ষ্যে সরকার নানান পদক্ষেপ বাস্তবায়ন শুরু করেছে।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডাক্তাররা মানুষের পরম বন্ধু হয়ে উঠেন যখন মানুষ অসুস্থ হয়ে উঠে। এটি আমার নিজের ঘর দিয়ে বুঝতে পারি। একজন ডাক্তারের উপদেশ, সুন্দর ব্যবহার একজন রোগীর কাছে ঔষধের মতো কাজ করে। ফলে একজন চিকিৎসকের জন্য পেশাগত উৎকর্ষের পাশাপাশি একজন মানবিক মানুষ হিসেবেও গড়ে ওঠা একান্ত জরুরি।

উন্নত দেশ হয়েও ব্রিটেন এনএইচকে দিয়ে স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে হিমশিম খাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আমরা বাংলাদেশ থেকে স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে বিদেশে উচ্চ শিক্ষা নিতে গেলে দেশের অধিকাংশ মানুষ ইউকেতে যান। রাজনৈতিক কারণে আমাকে অনেকগুলো বছর ইউকেতে থাকতে হয়েছে। ইউকের স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে এনএইচএসকে খুব কাছ থেকে আমার দেখার সুযোগ হয়েছে। অবশ্য ব্রিটেন আমাদের থেকে অনেক ধনী একটি রাষ্ট্র। কিন্তু সেখানেও সরকার এনএইচকে চালাতে বা এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে।

অনুষ্ঠানের একটি বইয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে আবর্জনা পড়ে থাকার একটি ছবি দেখার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ময়লা পরিষ্কার করার জন্য খুব বেশী রিসোর্সের প্রয়োজন নেই। এটিকে পরিষ্কার করার জন্য একটি ইচ্ছাশক্তির প্রয়োজন। এটিকে পরিষ্কার রাখার জন্য একটি মন মানসিকতার প্রয়োজন। যেহেতেু রিসোর্স যে পরিমাণ আছে আপানারা ইচ্ছে করলেই পরিস্থিতি পরিবর্তন করা সম্ভব। আমি যদি রোগীদের শেখাই ময়লা কম করো তাহলেই ময়লা কম হবে।

বগুড়াতে একটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের স্মৃতি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বগুড়াতে একটি পোগ্রামে আমি কয়েকদিন আগেই চলে গিয়েছিলাম। যেহেতু আমার নিজের জেলা। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে নেতাকর্মীরা আসবে সেখানে তো ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্থা থাকতে হবে। আমরা সমাবেশের জন্য একটা স্কুল মাঠ নিয়েছিলাম। সেখানে নেতাকর্মীদের অযু গোসলের জন্য একটা ব্যবস্থা রেখে মাঠের যেন ক্ষতি না হয় সেজন্য বালির উপর ইট দিয়েছিলাম। যাদের কে এই কাজের দায়িত্ব দিয়েছিলাম সকালে তাদেরকে নির্দেশনা দিয়ে আমি অন্য কাজে চলে যাই। রাতে এসে দেখি ইট ইটের জায়গাতেই আছে। আমি বললাম বিছানো হলো না কেন? তখন আমাকে বলল লেবার যারা আসার কথা ছিলো ওরা আসেনি। তখন আমি নিজেই ইটের স্তূপ থেকে ইট নিয়ে বিছানো শুরু করি। তখন সব নেতাকর্মী ইট নিয়ে বিছানো শুরু করলো। এক-দেড় ঘণ্টার মধ্যে পুরো কাজটা কমপ্লিট হয়ে গেল।

সাম্প্রতিক সময়ে গৃহপরিচারিকা ফাতেমার আত্মীয়ের অসুস্থতার ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফাতেমা আম্মার সাথে জেলেও ছিলেন। দু-দিন আগে তার এক আত্মীয় অসুস্থতায় হাসপাতালে ছিলো। তাকে ঢাকায় রেফার করা হচ্ছে। আমি বাসায় যাওয়ার পর আমার স্ত্রীর কাছে শুনলাম সামান্য বেসিক জিনিসটাও সেখানে দেওয়া হচ্ছে না, ঢাকায় সাথে সাথে পাঠিয়ে দিচ্ছে। ফাতেমা আমার ওয়াইফকে বলেছে, স্বাভাবিকভাবে তার আত্মীয়ের বেটার চিকিৎসা হয়েছে। কিন্তু সবাই তো আর ফাতেমা না, সবাই ফাতেমার আত্মীয় না। একটা মেশিন ছিলো না সেখানে একটা মেশিন পাঠানো হয়েছে। এখন অনেক শিশু বেটার চিকিৎসা পাবে।

এসএস/টিএ

মন্তব্য করুন