© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

গভীর সমুদ্রে না গিয়েই অ্যাপে মিলবে উপকূলের তথ্য

শেয়ার করুন:
গভীর সমুদ্রে না গিয়েই অ্যাপে মিলবে উপকূলের তথ্য

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৫:২৮ পিএম | ২৭ এপ্রিল, ২০২৬
নৌযান নিয়ে গভীর সমুদ্রে না গিয়েই এখন উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য, পানির তাপমাত্রা, লবণাক্ততা ও প্লাস্টিক দূষণসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে। এমনই সাশ্রয়ী ও টেকসই একটি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) একদল গবেষক।

‘সিটিজেন ফর কোস্টাল ইকোসিস্টেম মনিটরিং (সিফোরসিইএম)’ নামের এই পদ্ধতিটি তৈরি করা হয়েছে সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সুব্রত সরকারের নেতৃত্বে ও ‘এনএফ-পোগো অ্যালামনাই নেটওয়ার্ক ফর দ্য ওশান (ন্যানো)’ এর সহযোগিতায়। পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হচ্ছে ‘ন্যানো-ডোপ সিফোরসিইএম’ নামের একটি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে।

অ্যাপটির উদ্ভাবক ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী কাজী মঈনুল ইসলাম।

গবেষকরা জানান, এই পদ্ধতিতে বিজ্ঞানভিত্তিক পর্যবেক্ষণ, গাণিতিক মডেল, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন, সাশ্রয়ী যন্ত্র এবং সিটিজেন সায়েন্সের সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। ফলে কম খরচে উপকূলীয় এলাকার জীববৈচিত্র্য, পানির তাপমাত্রা, লবণাক্ততা ও প্লাস্টিক দূষণ পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে। জিও-রেফারেন্সড ছবি সংগ্রহের কারণে তথ্যের আলাদা যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজনও পড়ে না।

গুগল প্লে স্টোর থেকে অ্যাপটি ডাউনলোড করে ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করলেই এটি ব্যবহার করা যায়। বাংলা ও ইংরেজি—দুই ভাষায় ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে এতে। মাছ, প্ল্যাঙ্কটনসহ বিভিন্ন জীববৈচিত্র্যের তথ্য সংগ্রহের আলাদা অপশন রয়েছে। ছবি তুললেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে অক্ষাংশ-দ্রাঘিমাংশসহ তথ্য সংরক্ষিত হয়।

ইন্টারনেট না থাকলেও তথ্য মোবাইলে জমা থাকে এবং সংযোগ পেলেই তা ডাটাবেজে আপলোড হয়।

পানির নমুনা থেকে প্ল্যাঙ্কটনের ছবি তুলতে ব্যবহার করা হচ্ছে ‘ফোল্ডস্কোপ’ নামের সাশ্রয়ী ও বহনযোগ্য কাগজের মাইক্রোস্কোপ। সংগৃহীত তথ্য ভবিষ্যতে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় ব্যবহৃত হবে। পাশাপাশি মাছের নাম, সংখ্যা, দৈর্ঘ্য ও ওজনসহ নানা তথ্যও এতে যুক্ত করা যাচ্ছে।

গবেষকরা জানান, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকা থেকে দেড় শতাধিক সিটিজেন সায়েন্টিস্ট এই অ্যাপ ব্যবহার করছেন।

২০২২ ও ২০২৩ সালে প্রায় ২০ হাজার ছবি-সংবলিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব বিশ্লেষণে উপকূলীয় ৫০ মিটার গভীরতা পর্যন্ত এলাকায় চার শতাধিক সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের প্রজাতি শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

অ্যাপটির বিষয়ে সহযোগী অধ্যাপক ড. সুব্রত সরকার বলেন, প্রচলিত পদ্ধতিতে নৌকা নিয়ে ডাটা সংগ্রহে প্রতিবার প্রায় ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা খরচ হয়। কিন্তু এই পদ্ধতিতে জেলেদের নৌকায় ডিভাইস বসিয়ে দিলে কম খরচে ঘরে বসেই তথ্য পাওয়া যায়।

তিনি আরো বলেন, গভীর সমুদ্রে ইন্টারনেট না থাকলেও জেলেদের অবস্থান পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিয়ে আগাম সতর্ক করাও যাচ্ছে, যা তাদের নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

এসএন 

মন্তব্য করুন