সাজপোশাকেই রাজনীতিতে আসার আগাম বার্তা জু’র
ছবি: সংগৃহীত
০৩:১৩ পিএম | ০৯ মে, ২০২৬
প্রায় সাড়ে তিন বছর আগের কথা। সালটি ছিল ২০২২ সালের নভেম্বর মাস। উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন গিয়েছিলেন একটি ব্যালিস্টিক মিসাইল করাখানায়। তার পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন এক সুন্দরী কিশোরী। নাম জু আয়ে। ব্যতিক্রমী ফ্যাশন ও ভিন্নধর্মী সাজপোশাকে সবার নজর কেড়েছিলেন তিনি।
এর পর থেকেই আলোচনায় আসেন কিমকন্যা জু। সাদা প্যাডেড জ্যাকেট, কালো প্যান্ট আর পেছনে ঝুঁটি করে বাঁধা চুল। ৯ বছর বয়সি সেই কিশোরীর আত্মপ্রকাশ ছিল রাজকীয়। এরপর থেকে যত সময় গড়িয়েছে, জু আয়ের পোশাক এবং চুলের স্টাইলে এসেছে আমূল পরিবর্তন। কখনো অভিজাত লেদার জ্যাকেট, কখনো দামি পশমি কোট, আবার কখনো পশ্চিমা ঘরানার আধুনিক পোশাক। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার মতে, এত অল্প বয়সেই জু আয়ের এই ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব এবং পরিপাটি উপস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, কিম জং উন তাকেই তার উত্তরসূরি হিসাবে বেছে নিয়েছেন। বিবিসি।
বর্তমানে ১৩ বছর বয়সি জু আয়েকে প্রায়ই তার বাবার সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, সামরিক কুচকাওয়াজ কিংবা বিদেশ সফরে দেখা যায়। কিন্তু সফরগুলোতে বারবারই নজরে এসেছে জু আয়ের পরনের পোশাক।
বিশ্লেষকদের মতে, তার পোশাক-আশাক আসলে উত্তর কোরিয়ার ‘প্রপাগান্ডা অ্যান্ড অ্যাজিটেশন ডিপার্টমেন্ট’ দ্বারা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে নির্ধারিত। সেজং ইনস্টিটিউটের ডেপুটি ডিরেক্টর চিয়ং সিয়ং-চ্যাং বলেন, ‘জু আয়ে এখনো অনেক ছোট। এই বয়সটা নেতৃত্বের ক্ষেত্রে দুর্বলতা হিসাবে দেখা দিতে পারে। তাই তাকে তার মা রি সল জুর মতো ফরমাল স্যুট বা স্কার্ট পরানো হচ্ছে, যাতে তাকে বয়সের তুলনায় বেশি পরিণত দেখায়।’
এছাড়াও জু যখন সামরিক ঘাঁটি সফর করেন, তখন তাকে তার বাবার মতো লেদার জ্যাকেট বা ট্রেঞ্চ কোট পরতে দেখা যায়। এই ‘টুইনিং’ বা বাবার সঙ্গে হুবহু মিল রেখে পোশাক পরা মূলত ক্ষমতার উত্তরাধিকার প্রমাণের একটি কৌশল।
পূর্বসূরিদের প্রতিচ্ছবি : উত্তর কোরিয়ার শাসকরা নিজেদের বৈধতা পাকাপোক্ত করতে ‘ইমেজ রেপ্লিকেশন’ বা পূর্বপুরুষদের অনুকরণ করার কৌশল দীর্ঘকাল ধরে ব্যবহার করে আসছেন। কিম জং উন নিজেও তার শাসনের শুরুতে তার দাদা কিম ইল সাং-এর মতো পোশাক পরতেন এবং চুল কাটতেন। এমনকি সাধারণ মানুষের মধ্যে এমন গুঞ্জনও ছড়িয়ে পড়েছিল যে, কিম ইল সাং বুঝি পুনর্জন্ম নিয়েছেন। জু আয়ের ক্ষেত্রেও একই কৌশলের পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে।
টিজে/টিএ