বাংলাদেশে ফিফা বিশ্বকাপ সম্প্রচারে অনিশ্চয়তা
ছবি: সংগৃহীত
০৫:১০ এএম | ১০ মে, ২০২৬
আর মাত্র ৩৩ দিন পর শুরু হচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬। তবে এখনো বাংলাদেশে কোনো টেলিভিশন চ্যানেল বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম টুর্নামেন্টটির সম্প্রচার স্বত্ব কেনেনি। ফলে দেশের দর্শকদের জন্য বিশ্বকাপ দেখা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। সম্প্রচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সম্প্রচার স্বত্বের উচ্চ মূল্য, সীমিত বিজ্ঞাপন আয় এবং বাংলাদেশের সময় অনুযায়ী ম্যাচের সময় অনুকূলে না থাকায় সম্প্রচারকারীরা আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।
২০২২ বিশ্বকাপে স্থলভিত্তিক সম্প্রচার স্বত্ব পেয়েছিল বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)। এছাড়া ‘টি-স্পোর্টস’ ও ‘জিটিভি স্যাটেলাইট’ সম্প্রচার স্বত্ব কিনে সবগুলো ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচার করে। আর ডিজিটাল স্ট্রিমিং স্বত্ব কিনেছিল ‘টফি’। তবে এবার এখনো কোনো প্রতিষ্ঠানই সম্প্রচার স্বত্ব কিনেনি।
জানা গেছে, বাংলাদেশ অঞ্চলের মিডিয়া স্বত্ব পেয়েছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক কোম্পানি ‘স্প্রিংবক প্রাইভেট লিমিটেড’। তারা সম্প্রচার স্বত্বের জন্য বাংলাদেশি সম্প্রচার মাধ্যমগুলোর কাছে বিপুল অর্থ দাবি করছে।
বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকার এতো দামে সম্প্রচার স্বত্ব কিনতে আগ্রহী নয় বলে দেশের একটি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, ‘আগের চুক্তি ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে। গতবার যে অর্থ খরচ করা হয়েছিল, তার ১০ ভাগের এক ভাগও উঠে আসেনি।’

দেশের একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিটিভির কাছে সম্প্রচার স্বত্বের জন্য ১ কোটি ২৩ লাখ ডলার বা প্রায় ১৫০ কোটি টাকা দাবি করা হয়েছে।
এর সঙ্গে কর ও ভ্যাট যোগ হলে ২০০ কোটিতে পৌঁছাতে পারে। চুক্তি অনুযায়ী মে মাসের ১০ তারিখের মধ্যে অর্ধেক এবং ১০ জুনের মধ্যে বাকি টাকা পরিশোধ করতে হবে। এই অর্থের মধ্যে উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠানসহ ১০৪টি ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার ও হাইলাইটস অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তবে বাংলাদেশের বাজার বিবেচনায় এই দামকে ‘অবাস্তব’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বেসরকারি সম্প্রচারকারীরা।
বিশ্বকাপের সূচি নিয়েও রয়েছে উদ্বেগ। সময়সূচি অনুযায়ী, ১০৪ ম্যাচের মধ্যে ৫২টি ম্যাচ বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টার আগে শেষ হবে এবং বাকি ৫২টি শুরু হবে ভোর ৪টার পর। ফলে সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিজ্ঞাপন আয়ের সম্ভাবনাও কম।
ভারত-চীনেও একই সংকট
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ সম্প্রচার নিয়ে বাংলাদেশ একা নয়, ভারত এবং চীনেও চরম অনিশ্চয়তা ও অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ও ডিজনির যৌথ উদ্যোগে (জিওস্টার) এই ইভেন্টের জন্য প্রায় ২ কোটি মার্কিন ডলারের একটি প্রস্তাব দিয়েছিল, কিন্তু ফিফা তা নাকচ করে দিয়েছে।
তবে সনি গ্রুপ এখন পর্যন্ত ফিফাকে এ বিষয়ে কোনো প্রস্তাব দেয়নি।
চীনেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানের নাম ঘোষণা করা হয়নি। যদিও ২০২২ বিশ্বকাপে বৈশ্বিক ডিজিটাল ভিউয়িংয়ের প্রায় ৪৯.৮ শতাংশ এসেছিল এই চীন থেকে। চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভির কাছে ২৫০-৩০০ মিলিয়ন ডলারের যে প্রস্তাব দিয়েছিল ফিফা, তা সিসিটিভির বাজেটের (৬০-৮০ মিলিয়ন ডলার) তুলনায় অনেক বেশি।
এমআর/টিএ