© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ভূমিধস জয়ের দুই বছরের মধ্যেই নিজের পদ বাঁচানোর লড়াইয়ে স্টারমার

শেয়ার করুন:
ভূমিধস জয়ের দুই বছরের মধ্যেই নিজের পদ বাঁচানোর লড়াইয়ে স্টারমার

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৩:২২ এএম | ১৩ মে, ২০২৬
ব্রিটেনের রাজনীতিতে স্থিতিশীলতা ও বাস্তবমুখী সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা কিয়ার স্টারমার এখন পর্যুদস্ত নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে। ২০২৪ সালে বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ডাউনিং স্ট্রিটে পা রাখলেও, দুই বছর পার হতে না হতেই খোদ নিজের দলের ভেতরেই তার নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে। গত সপ্তাহের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসে লেবার পার্টির ভরাডুবি স্টারমারের প্রধানমন্ত্রিত্বকে গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

মঙ্গলবার (১২ মে) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স। 

দলীয় সূত্র ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্টারমার শাসনক্ষমতাকে কেবল ‘সম্ভাবনার শিল্প’ হিসেবে দেখেছেন, কিন্তু আগামীর ব্রিটেনের জন্য কোনো স্পষ্ট রোডম্যাপ বা ‘ভিশন’ দিতে পারেননি। এক সময়ের সফল এই আইনজীবীকে এখন অনেক ভোটার ‘সিদ্ধান্তহীন’ এবং ‘ক্যারিশমাহীন’ নেতা হিসেবে বিবেচনা করছেন তারা। বারবার নীতি পরিবর্তন এবং নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগে তার জনপ্রিয়তা এখন তলানিতে।

লেবার পার্টির এমপি ক্যাথরিন ওয়েস্ট সরাসরি স্টারমারের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তার মতে, ২০২৯ সালের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে স্টারমার দলের নেতৃত্ব দিলে কট্টর ডানপন্থি দল ‘রিফর্ম ইউকে’ এবং এর নেতা নাইজেল ফারাজের জয়ের পথ প্রশস্ত হবে। ফারাজকে আটকাতেই স্টারমারকে সরানো জরুরি বলে মনে করছেন তিনি। এরই মধ্যে রিফর্ম ইউকে-র সদস্য সংখ্যা ২ লাখ ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে, যা লেবার শিবিরের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ।

স্টারমারের সরকার ২০২৪ সালে ক্ষমতায় এসে কঠিন অর্থনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়। উচ্চ ঋণ, দুর্বল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং ভেঙে পড়া সরকারি সেবার পাশাপাশি নির্বাচনের আগে আয়কর ও ভ্যাট না বাড়ানোর প্রতিশ্রুতিও সরকারের জন্য চাপ তৈরি করে। যদিও তিনি স্বাস্থ্যসেবার ওয়েটিং লিস্ট কমানো এবং শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ উন্নতির দাবি করছেন, কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে তা খুব একটা দৃশ্যমান নয়।

এছাড়া মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে সাবেক লেবার নেতা পিটার ম্যান্ডেলসনকে নিয়োগ দেওয়া নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিন-এর সঙ্গে ম্যান্ডেলসনের পুরোনো সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এবং ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের পদত্যাগ তার অবস্থানকে আরও দুর্বল করেছে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইউক্রেন ইস্যুতে তার ভূমিকা প্রশংসিত হলেও, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। ইরানের সাথে যুদ্ধে জড়াতে অস্বীকৃতি জানানোর পর ট্রাম্প তাকে ‘উইনস্টন চার্চিল নন’ বলে খোঁচা দিয়েছেন।

তবে মঙ্গলবার (১২ মে) মন্ত্রিসভার বৈঠকে স্টারমার লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি তার সমালোচকদের আনুষ্ঠানিক চ্যালেঞ্জ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে বিশ্লেষক জন কার্টিসের মতে, ২০২৪ সালের জয়টি লেবার পার্টির নিজস্ব শক্তির চেয়ে কনজারভেটিভদের আত্মহননের ফলে বেশি এসেছিল। এখন সেই ভঙ্গুর ভিত্তি আরও আলগা হয়ে পড়েছে। নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ‘ফাইট অফ আওয়ার লাইভস’-এ স্টারমার শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারেন কি না, তা-ই এখন দেখার বিষয়।


ইউটি/টিএ

মন্তব্য করুন