ইরানে গোপনে হামলা চালিয়েছে আমিরাত
ছবি: সংগৃহীত
০৩:৩৯ এএম | ১৩ মে, ২০২৬
ইরানের বিরুদ্ধে সংযুক্ত আরব আমিরাত গোপনে সামরিক হামলা চালিয়েছে—এমন তথ্য প্রকাশের পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেলে উপসাগরীয় অঞ্চল বড় ধরনের সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানের হামলার জবাবে সংযুক্ত আরব আমিরাত গোপনে পাল্টা আক্রমণ চালায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার ঠিক আগে গত ৭ এপ্রিল ইরানের লাজান দ্বীপে হামলা চালানো হয়েছিল।
এদিকে কুয়েত জানিয়েছে, তাদের উপকূলীয় বুবিয়ান দ্বীপে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করার সময় ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) অন্তত চার সদস্যকে আটক করা হয়েছে। তারা মাছ ধরার নৌকায় করে দ্বীপে ঢোকার চেষ্টা করেছিল বলে দাবি করেছে কুয়েতি কর্তৃপক্ষ। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইরান।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতা না হলে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। তার এই বক্তব্যের পর আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
অন্যদিকে পেন্টাগন জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় বেড়ে প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। মাত্র দুই সপ্তাহে এই ব্যয় প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানানো হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরেই ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা ছিল। এবার সেই দ্বন্দ্ব সরাসরি সামরিক পর্যায়ে পৌঁছেছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আমিরাত পরিচালিত ফরাসি মিরাজ যুদ্ধবিমান এবং চীনা উইং লং ড্রোন ইরানের আকাশসীমায় সক্রিয় ছিল বলে স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে। এর আগে ইরান অভিযোগ করেছিল, আমিরাত ও কুয়েত তাদের বিরুদ্ধে হামলায় সহযোগিতা করছে।
তবে উপসাগরীয় দেশগুলোর অবস্থান এক নয়। সৌদি আরব ও কাতার এখনো সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়াতে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে। সৌদি আরবের সাবেক রাষ্ট্রদূত তুর্কি আল-ফয়সাল সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হলে গোটা অঞ্চল ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।
তিনি বলেন, সৌদি আরব যুদ্ধে জড়ালে দেশটির তেল স্থাপনা, পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্র ও হজ ব্যবস্থাপনা বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়বে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে সৌদির উচ্চাভিলাষী ভিশন ২০৩০ প্রকল্পও।
এদিকে ইসরাইলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি জানিয়েছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা জোরদারে ইসরাইল সেখানে আয়রন ডোম ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সেনা সদস্য পাঠিয়েছে।
সাম্প্রতিক ইরানি হামলায় আমিরাতের বৃহত্তম গ্যাস প্ল্যান্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানা গেছে। প্রতিষ্ঠান অ্যাডনক গ্যাস জানিয়েছে, প্ল্যান্টটি পুরোপুরি সচল হতে ২০২৭ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
ইউটি/টিএ