শি জিনপিং একজন দক্ষ ও বন্ধুসুলভ নেতা : ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত
০৯:৪৫ এএম | ১৫ মে, ২০২৬
দীর্ঘ সাত বছর পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে চীন সফর শেষ করতে চলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (১৫ মে) বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসেন তিনি।
দুই নেতার এই বৈঠকে বড় ধরনের ব্যবসায়িক চুক্তি হলেও তাইওয়ান ইস্যুতে উত্তেজনা ও সতর্কবার্তা প্রকাশ পেয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন নির্বাচনের আগে নিজের জনপ্রিয়তা বাড়াতে ট্রাম্পের এই চীন সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈঠকের পর ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, আশা করি চীনের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আগের চেয়ে আরো শক্তিশালী ও উন্নত হবে। ফক্স নিউজের এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প শি জিনপিংয়ের প্রশংসা করে বলেন, ‘তিনি যেমন বন্ধুবৎসল, তেমনি কাজের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত দক্ষ।’
এই সফরে দুই দেশের মধ্যে বড় ধরনের বাণিজ্যিক অগ্রগতি হয়েছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, চীন ২০০টি বোয়িং বিমান কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা গত ১০ বছরে প্রথম। এ ছাড়া চীন মার্কিন কৃষিপণ্য ও গরুর মাংস কেনার চুক্তিও চূড়ান্ত করেছে। তবে গত বছর শুরু হওয়া বাণিজ্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হবে কি না, তা নিয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
বৈঠকে ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে এবং ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চীনের সহযোগিতা চেয়েছেন। বিশেষ করে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে দুই নেতাই একমত হয়েছেন।
আলোচনার মাঝেও তাইওয়ান ইস্যুতে শি জিনপিং কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, তাইওয়ান বিষয়টি সঠিকভাবে সমাধান না করলে দুই দেশের সম্পর্ক খারাপ হতে পারে। অন্যদিকে, ট্রাম্প হংকংয়ের কারারুদ্ধ গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব জিমি লাইয়ের মুক্তির বিষয়টিও শি জিনপিংয়ের কাছে তুলে ধরেছেন।
২০১৭ সালের পর এই প্রথম কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট চীন সফরে গেলেন। একদিকে বাণিজ্য যুদ্ধ থামানো এবং অন্যদিকে বিশ্ব রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখা-এই দুই চ্যালেঞ্জ নিয়ে দুই বিশ্বনেতা এবারের শীর্ষ সম্মেলনে মুখোমুখি হলেন।
সূত্র : রয়টার্স
কেএন/এসএন