অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহসী কণ্ঠস্বর ছিলেন কারিনা: আসিফ মাহমুদ
ছবি: সংগৃহীত
০৮:৪৬ এএম | ১৬ মে, ২০২৬
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সহযোদ্ধা ও সংস্কৃতিকর্মী কারিনা কায়সারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
শুক্রবার (১৫ মে) দিবাগত রাতে এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, কারিনা কায়সারের এই চলে যাওয়া দেশের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন, সংস্কৃতি ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।
শোকবার্তায় আসিফ মাহমুদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কারিনা কায়সারের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামে তার দৃঢ় অবস্থান আমাদের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি কেবল একজন সংস্কৃতিকর্মীই ছিলেন না, বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে নৈতিক অবস্থান গ্রহণকারী এক সাহসী কণ্ঠস্বর ছিলেন।
কঠিন ও দমনমূলক সময়েও কারিনা কায়সার গণমানুষের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন উল্লেখ করে এনসিপির মুখপাত্র বলেন, তিনি সাংস্কৃতিক প্রতিরোধকে আন্দোলনের শক্তিশালী অংশে পরিণত করতে অনন্য অবদান রেখেছেন। তার সাহস, প্রতিশ্রুতি এবং সংগ্রামী চেতনা নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া কারিনা কায়সারের রূহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব করার জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন। একই সঙ্গে তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবার, সহযোদ্ধা এবং শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।
এর আগে শুক্রবার দিবাগত রাতে ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কারিনা কায়সার মারা যান। লিভার–সংক্রান্ত জটিলতায় উত্তত চিকিৎসার জন্য তাকে চেন্নাই নেয়া হয়। সামাজিক মাধ্যমে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাবা ও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় কায়সার হামিদ।
ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে আমার প্রাণপ্রিয় আদরের মেয়ে কারিনা কায়সার একটু আগে চেন্নাইতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমাদের ছেড়ে ওপারে চলে গেছে। আমার মেয়ের কোন ভুল-ত্রুটি হয়ে থাকলে কিংবা কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকলে আপনারা তাকে ক্ষমা করে দিবেন।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘যারা এই দুঃসময়ে আমাদের পাশে ছিলেন, দোয়া করেছেন, সহযোগিতা করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। দোয়া করবেন সবাই, আল্লাহ তাকে বেহেশত নসিব করুক।’
গণমাধ্যমকে কায়সার হামিদ বলেন, ‘ফুসফুসে অ্যান্টিবায়োটিক দেয়ার সময় হঠাৎ ওর প্রেশার অনেক নিচে নেমে যায়। এরপর ডাক্তাররা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওকে আর বাঁচানো গেল না।’
কয়েক দিন ধরেই লিভার–সংক্রান্ত জটিলতায় সংকটাপন্ন ছিলেন কারিনা কায়সার। প্রথমে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ভারতের চেন্নাই নেয়া হয়। সেখানে ভেলোরের খ্রিষ্টান মেডিক্যাল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছিল। চিকিৎসকেরা প্রথমে তার ফুসফুসের চিকিৎসা শুরু করেন। পরে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রস্তুতিও চলছিল।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে জ্বরে আক্রান্ত হন কারিনা। পরে তার শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে। একই সঙ্গে হেপাটাইটিস এ ও ই-জনিত জটিলতায় তার লিভার ফেইলিউর দেখা দেয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হয় এবং পরে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।
প্রসঙ্গত, কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিতি পেলেও সাম্প্রতিক সময়ে অভিনয় ও চিত্রনাট্য লেখার কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন কারিনা কায়সার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার প্রাণবন্ত উপস্থাপনা ও জীবনঘনিষ্ঠ কনটেন্ট তরুণ দর্শকদের কাছে তাঁকে জনপ্রিয় করে তোলে। পরে ওটিটি ও নাটকের জগতেও ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও কাজ করেছেন। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘ইন্টার্নশিপ’ ও ‘৩৬-২৪-৩৬’। কারিনা কায়সারের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করছেন তার সহকর্মী, নির্মাতা ও ভক্তরা।
কেএন/টিএ