© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

প্যারিস-সুইজারল্যান্ড যাওয়া বন্ধের বার্তা দিলেন কমল হাসান

শেয়ার করুন:
প্যারিস-সুইজারল্যান্ড যাওয়া বন্ধের বার্তা  দিলেন কমল হাসান

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:৪৮ এএম | ১৬ মে, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ঘিরে যখন বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়ছে, তখন তার প্রভাব ধীরে ধীরে এসে পড়ছে ভারতীয় বিনোদন জগতেও। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, পরিবহণ খরচের ঊর্ধ্বগতি এবং সামগ্রিক আর্থিক চাপে এবার সিনেমা শিল্পকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার বার্তা দিলেন অভিনেতা তথা রাজ্যসভার সাংসদ কমল হাসান।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশবাসীকে অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর কমানো এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের আহ্বান জানান। সেই প্রসঙ্গেই সামাজিক মাধ্যমে দীর্ঘ এক বিবৃতি প্রকাশ করে ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের বিলাসবহুল জীবনযাপন এবং বিদেশে শুটিংয়ের প্রবণতা নিয়ে সরব হয়েছেন কমল হাসন।

তাঁর বক্তব্য, বলিউডে যেন এক অলিখিত নিয়ম তৈরি হয়ে গিয়েছে-  প্রেম মানেই প্যারিস, আর মধুচন্দ্রিমা মানেই সুইজারল্যান্ড। এই মানসিকতার বিরুদ্ধেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। কমলের কথায়, রোম্যান্স দেখাতে বিদেশি মুদ্রা খরচ করার কোনও প্রয়োজন নেই। বরং ভারতীয় সিনেমার উচিত নিজেদের দেশ, সংস্কৃতি এবং লোকেশনের ওপর আরও বেশি আস্থা রাখা।

অভিনেতার মতে, বড় ক্যানভাস দেখানোর নামে বর্তমানে সিনেমায় যে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে, তার অনেকটাই অপ্রয়োজনীয়। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, অতীতে বহু কালজয়ী সিনেমা তৈরি হয়েছে সীমিত বাজেটে, কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা, শৃঙ্খলা এবং দূরদর্শিতার মাধ্যমে। শুধু বিদেশে শুটিং বা বিলাসবহুল আয়োজনই কোনও ছবিকে বড় করে তোলে না বলেই মনে করেন তিনি।



একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কমল হাসান। তাঁর আশঙ্কা, বিশ্ব অর্থনীতির মন্দা এবং মূল্যবৃদ্ধির কারণে আগামী দিনে দর্শকরা বিনোদনের জন্য খরচ কমিয়ে দিতে পারেন। ফলে চলচ্চিত্র শিল্পকে টিকে থাকতে হলে বাজেট নিয়ন্ত্রণ এবং আর্থিক সংশোধনের পথে হাঁটতেই হবে।

তবে সেই আর্থিক কাটছাঁটের বোঝা যেন সাধারণ কর্মীদের কাঁধে না পড়ে, সে ব্যাপারেও কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি। স্পষ্ট ভাষায় কমল জানিয়েছেন, সিনেমার অর্থনীতি বাঁচানোর নামে কখনও টেকনিশিয়ান, শ্রমিক বা নিম্ন আয়ের কর্মীদের মজুরি, নিরাপত্তা, খাবার, যাতায়াত বা মানবিক পরিবেশে আঘাত করা উচিত নয়। কারণ তাঁর মতে, এই মানুষগুলিই সবচেয়ে বেশি পরিশ্রম করেন এবং শিল্পকে সচল রাখেন।

কমল হাসানের এই বক্তব্য ইতিমধ্যেই সিনেমা মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কেউ তাঁর বাস্তববাদী অবস্থানকে সমর্থন করছেন, আবার কেউ মনে করছেন, আন্তর্জাতিক লোকেশন এবং বড় বাজেটও আজকের বাণিজ্যিক সিনেমার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে এতটুকু স্পষ্ট, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে শুরু করেছেন প্রবীণ এই অভিনেতা।

এসএ/টিএ

মন্তব্য করুন