পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে রাজশাহীতে ১১ দলের জনসভা আজ
ছবি: সংগৃহীত
১১:১৯ এএম | ১৬ মে, ২০২৬
গণরায় বাস্তবায়ন ও ফারাক্কা চুক্তি অনুযায়ী পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে রাজশাহীতে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলের জনসভা আজ। শনিবার (১৬ মে) বেলা ২টায় ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে এ জনসভার আয়োজন করা হয়েছে।
জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন জামায়াতে ইসলামী আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত থাকবেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব) অলি আহমেদ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান।
আয়োজকরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে ভারত থেকে উজানের পানি প্রত্যাহারের কারণে পদ্মাসহ উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদীগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা নদীতে পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় কৃষি, মৎস্যসম্পদ, নৌ-চলাচল ও পরিবেশে ভয়াবহ প্রভাব পড়ছে। সেই সঙ্গে নদীভাঙন, মরুকরণ ও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়ার সমস্যাও প্রকট আকার ধারণ করেছে।
জনসভাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই রাজশাহী মহানগর ও আশপাশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করেছেন। মাদ্রাসা মাঠ ও আশপাশ এলাকায় বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি আয়োজক দলের স্বেচ্ছাসেবকরাও মাঠে কাজ করছেন।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, জনসভায় দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য রাখবেন। তারা ফারাক্কা ইস্যুতে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানাবেন এবং আন্তর্জাতিক নদীর পানিবণ্টনে বাংলাদেশের ন্যায্য অধিকার আদায়ে সরকারকে আরও কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার দাবি তুলবেন।
অভিযোগ রয়েছে, ফারাক্কা বাঁধ চালুর পর থেকে পদ্মা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এর প্রভাবে রাজশাহী অঞ্চলে নদী শুকিয়ে চরে পরিণত হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। অনেক এলাকায় সেচ সংকট দেখা দিচ্ছে। পানির অভাবে কৃষকরা উচ্চ ফলনশীল ফসল উৎপাদনে হুমকির মুখে পড়ছেন। পাশাপাশি নদীনির্ভর জেলেদের জীবন-জীবিকাও সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
জনসভায় “গণরায় বাস্তবায়ন” প্রসঙ্গও গুরুত্ব পাচ্ছে।
আয়োজকরা আরো বলছেন, জনগণের মতামত ও অধিকারকে প্রাধান্য দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যুতে রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হবে।
এদিকে জনসভাকে কেন্দ্র করে রাজশাহী নগরীতে বাড়তি যানজটের আশঙ্কা করছেন নগরবাসী। গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশকে তৎপর দেখা গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ফারাক্কার পানিবণ্টন ইস্যু বহু বছর ধরেই বাংলাদেশের জনগণের আবেগ ও জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে জড়িত একটি বিষয়। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের মানুষ সরাসরি এর প্রভাব অনুভব করেন। ফলে এ ধরনের জনসভা শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং আঞ্চলিক জনগণের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও প্রত্যাশারও বহিঃপ্রকাশ।
সব মিলিয়ে, গণরায় বাস্তবায়ন এবং ফারাক্কার পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে রাজশাহীর এই জনসভা রাজনৈতিক ও জনস্বার্থ-দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এছাড়া ১১ দলের শরিক আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ, খেলাফত মজলিশ, লেবার পার্টি, নেজামে ইসলাম পার্টি ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখবেন।
এদিকে, জনসভাকে ঘিরে শুক্রবার (১৫ মে) থেকেই মাদ্রাসা মাঠ প্রস্তুত করা হয়েছে। নিরাপত্তাব্যবস্থাও নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
কেএন/টিএ