হরমুজে এবার ইন্টারনেট কেবলেও ‘টোল’ বসাতে চায় ইরান
ছবি: সংগৃহীত
০৯:৫৫ পিএম | ১৭ মে, ২০২৬
হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধকালীন অবরোধ সফলভাবে কার্যকর করার পর এবার বৈশ্বিক অর্থনীতি ও ইন্টারনেট যোগাযোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করছে ইরান। ইউরোপ, এশিয়া ও উপসাগরীয় অঞ্চলকে সংযুক্ত করা সমুদ্রতলের ইন্টারনেট কেবল ব্যবহারের জন্য বিশ্বের বৃহৎ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে অর্থ আদায়ের পরিকল্পনা করছে তেহরান।
ইরানের রাষ্ট্রীয় ও রাষ্ট্র-সমর্থিত গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির নিচ দিয়ে যাওয়া সাবমেরিন কেবল ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিদেশি কোম্পানিগুলোকে ইরানি আইন মেনে চলতে হবে এবং লাইসেন্স ফি দিতে হবে। একইসঙ্গে কেবল রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শুধুমাত্র ইরানি প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
ইরান হুমকি দিয়ে বলেছে, অর্থ পরিশোধ করা না হলে তথ্য আদান-প্রদানে বিঘ্ন ঘটানো হতে পারে।
ইরানের সামরিক মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাঘরি গত সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, ‘আমরা ইন্টারনেট কেবলের ওপর ফি আরোপ করব।’
ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ডসের (আইআরজিসি) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি থেকে রাজস্ব আদায়ের যে পরিকল্পনা তেহরান করেছে, তার অধীনে গুগল, মাইক্রোসফট, মেটা ও অ্যামাজনের মতো কোম্পানিগুলোকে ইরানি আইন মেনে চলতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রতলের এসব কেবল বৈশ্বিক ইন্টারনেট ব্যবস্থার মূল ভিত্তি। এগুলোর মাধ্যমে বিশ্বের অধিকাংশ ডাটা, আর্থিক লেনদেন, সামরিক যোগাযোগ, ক্লাউড সেবা এবং আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং তথ্য আদান-প্রদান হয়। ফলে এসব কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হলে শুধু ইন্টারনেটের গতি কমবে না, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আল হাবতূর রিসার্চ সেন্টারের গবেষক মোস্তফা আহমেদের মতে, ডুবুরি, ক্ষুদ্র সাবমেরিন ও পানির নিচের ড্রোন ব্যবহার করে এসব কেবলের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে আইআরজিসি। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘বড় ধরনের হামলা ঘটলে তা ডিজিটাল বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে।’
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের পাশাপাশি ভারত, পূর্ব আফ্রিকা ও ইউরোপ-এশিয়ার আর্থিক যোগাযোগ ব্যবস্থাও এতে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কারণ হরমুজ প্রণালি বর্তমানে সিঙ্গাপুরসহ এশিয়ার ডাটা হাব এবং ইউরোপের বিভিন্ন সংযোগকেন্দ্রের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল করিডর হিসেবে কাজ করছে।
তবে টেলিযোগাযোগ গবেষণা প্রতিষ্ঠান টেলিজিওগ্রাফি বলছে, হরমুজ প্রণালির কেবলগুলো বৈশ্বিক আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথের ১ শতাংশেরও কম বহন করে। ফলে বৈশ্বিক ইন্টারনেট পুরোপুরি অচল হওয়ার ঝুঁকি কম হলেও মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার কিছু অঞ্চলে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
এদিকে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যমান কেবলগুলোর ক্ষেত্রে ইরানকে আগের চুক্তি মেনে চলতে হবে। তবে নতুন কেবল স্থাপনের ক্ষেত্রে নিজেদের আঞ্চলিক জলসীমায় শর্ত আরোপের অধিকার ইরানের থাকতে পারে।
ইউটি/টিএ