© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

গাইবান্ধার সবচেয়ে বড় গরু ‘লাল বাবু’

শেয়ার করুন:
গাইবান্ধার সবচেয়ে বড় গরু ‘লাল বাবু’

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১২:৫৪ এএম | ১৮ মে, ২০২৬
আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গাইবান্ধায় আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে বিশালাকৃতির গরু ‘লাল বাবু’। শাহিওয়াল জাতের এই গরুটির ওজন ৮০০ কেজি, দৈর্ঘ্য প্রায় আট ফুট এবং উচ্চতা পাঁচ ফুট দুই ইঞ্চি। 

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর বলছে, এটিই এখন পর্যন্ত জেলার সবচেয়ে বড় গরু। কোনো খামারে নয়, শখের বশে প্রায় চার বছর ধরে নিজের বাড়িতেই গরুটি লালন-পালন করেছেন ফুলছড়ি উপজেলার উদাখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ উদাখালি গ্রামের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী কিশোর কুমার।

শুক্রবার (১৬ মে) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, বাড়ির একটি দক্ষিণমুখী ঘরে বাঁধা রয়েছে বিশালাকৃতির লাল বাবু। পাকা মেঝেতে খড় ও পানির জন্য আলাদা পাত্রের ব্যবস্থা রয়েছে। দেখতে লাল এবং স্বভাবে অত্যন্ত শান্ত এই গরুটির আদুরে নামটি রেখেছেন মালিক কিশোর কুমার নিজেই।

স্থানীয়রা জানান, ওই এলাকা ও আশপাশে এত বড় গরু আগে কখনো দেখা যায়নি। গরুর মালিক কিশোর কুমার বলেন, এটি আমার নিজের গাভীর বাছুর। জন্মের সময় থেকেই অত্যন্ত হৃষ্টপুষ্ট ও আকর্ষণীয় ছিল। সেই থেকেই বড় করার শখ জাগে। তখন থেকেই যত্ন নিতে শুরু করি।

তিনি জানান, ধানের গুঁড়া, ভুট্টাভাঙা, ভুসি, খর, সিদ্ধ আলু, সবুজ ঘাস এবং বাড়িতে উৎপাদিত শাকসবজি খাইয়ে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে গরুটি বড় করা হয়েছে। কোনো কৃত্রিম খাবার বা ফিড দেওয়া হয়নি। প্রতিদিন গরুটির পেছনে খরচ হয় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। এবার কোরবানির ঈদে গরুটি বিক্রি করতে চান তিনি।

কিশোরের ছোট ভাই হৃদয় কুমার বলেন, আমরা লাল বাবুকে সন্তানের মতো আদর করে বড় করেছি। তরমুজ, কলা, আপেল- আমরা নিজেরা যা খেয়েছি, তার একটু ওকেও খাইয়েছি। এবার ঈদে বিক্রি করব। ন্যায্যমূল্য পাব বলে আশা রাখি।

স্থানীয় বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব মোহর আলী বলেন, এত বড় গরু জীবনে দেখিনি। কিশোর যেন উচিত মূল্য পায়, সেটাই চাই। প্রতিবেশী জীবন কুমার বলেন, চার বছর ধরে অনেক স্বপ্ন ও যত্ন নিয়ে গরুটি বড় করেছে কিশোর। এই এলাকায় বা আশপাশে এত বড় গরু কারো নেই- দেখিনি, শুনিওনি।

ফুলছড়ি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জহিরুল ইসলাম বলেন, কিশোরকে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণ, পরামর্শ, চিকিৎসা ও খাবার ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করা হয়েছে। তিনি একটি সরকারি প্রকল্পের সদস্য হিসেবেও কিছু সুবিধা পেয়েছেন। গরুটির বিপণনেও আমরা সহযোগিতা করছি এবং ঢাকার তথ্যকেন্দ্রেও বিষয়টি জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, জেলার সাতটি উপজেলার মধ্যে ওজনে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সুন্দরগঞ্জের সর্বানন্দ ইউনিয়নের আইয়ুব আলীর ৭৪০ কেজির গরু। এরপর রয়েছে সদর উপজেলার কুপতলায় জাহিদ হাসান বাবুর ৬০০ কেজি, গোবিন্দগঞ্জ পৌর এলাকার আবু জিহাদ রনির ৬০০ কেজি, সাদুল্লাপুরের রসুলপুরের সুমন প্রামাণিকের ৬০০ কেজি, সাঘাটার পদুমশহরের নজরুল ইসলামের ৬০০ কেজি এবং পলাশবাড়ীর পবনাপুরের মোস্তফার ৪৫০ কেজি ওজনের গরু।

আরআই/টিকে

মন্তব্য করুন