ইবির বাসে মারধরের জেরে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ
ছবি: সংগৃহীত
০১:৩৯ এএম | ১৮ মে, ২০২৬
কথা কাটাকাটিকে কেন্দ্র করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বাসে জুনিয়রকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে সিনিয়রের বিরুদ্ধে। পরে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিনিয়র ও জুনিয়রের সংশ্লিষ্ট দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
রোববার (১৭ মে) বিকাল ৫টায় মারধরের ঘটনার পর রাত সাড়ে ৮টায় ঝিনাইদহ থেকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা প্রধান ফটকে পৌঁছালে লোক প্রশাসন ও বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় বায়োটেকনোলজি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাগরসহ কয়েকজন আহত হন। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামানও আঘাতপ্রাপ্ত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, বিকেল ৪টার দিকে ক্যাম্পাস থেকে ঝিনাইদহগামী বাসে করে কয়েকজন শিক্ষার্থী রওনা হন। বাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হৃদয়সহ তার কয়েকজন বন্ধু উচ্চস্বরে গান ও কথাবার্তা বলছিলেন। এতে বিরক্ত হয়ে বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের অন্তর বিশ্বাসের পাশের সিটে বসা এক শিক্ষার্থী তাদের থামতে বলেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির সূত্রপাত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, একপর্যায়ে পরিচয় ও সেশন জানতে চাওয়াকে কেন্দ্র করে বাগ্বিতণ্ডা বাড়তে থাকে। এসময় অন্তর বিশ্বাস হৃদয়ের কাছে তার সেশন জানতে চাইলে হৃদয় ক্ষুব্ধ হন। পরে উভয়ের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এক ভিডিও ফুটেজে হৃদয়কে অন্তরকে মারধর করতে দেখা যায়। তবে হৃদয়ের দাবি, প্রথমে অন্তরই তার হাতে আঘাত করেন। ঘটনার পর উভয় পক্ষের শিক্ষার্থীরা বাস থেকে নেমে যায়।
পরে, রাত সাড়ে ৮টার বাসে করে ফিরে আসছিলেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যদিকে এই ঘটনার পর বাস ফিরে আসার সময় দুই বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকে অবস্থান নেন। সেসময় ঝিনাইদহ থেকে বাসে করে উভয় পক্ষের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ফিরে এলে আবারও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন তারা। এ সংঘর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডায়না চত্বর ও প্রধান ফটকের উভয় পাশে ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিকিউরিটি সেল ও প্রক্টরিয়াল বডি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পরে লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থীরা মীর মশাররফ হোসেন ভবন চত্বরে এবং বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থীরা ফলিত রসায়ন ও প্রযুক্তি অনুষদ ভবনের ভিতরে জড়ো হন। এসময় আবারও উত্তেজনা সৃষ্টি হলে প্রযুক্তি অনুষদ ভবনের জানালার কাচ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানান, লোক প্রশাসন বিভাগের ৭ থেকে ৮জন শিক্ষার্থী আমাদের বন্ধুকে তুচ্ছ কারণে সম্মিলিত ভাবে মারধর করে। এই ঘটনা জানার পর আমরা আমাদের বন্ধুকে নিরাপদে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রধান ফটকে আসি। সেই সময় তাদের বিভাগের তামিম আমাদের দিকে তেড়ে আসে। এসময় আমরা আমাদের বিভাগের শিক্ষার্থীদেরকে থামানোর চেষ্টা করি। কিন্তু তারা আবার আমাদের উপর আক্রমণ করে।
লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানান, প্রথম ঘটনায় আমাদের ভুল ছিলো। এজন্য পরে আমরা সিনিয়র হিসেবে এই ঘটনার মীমাংসা করতে প্রধান ফটকে যাই। সেখানে আমাদের ৫ জনের বিপরীতে তারা ৪০ থেকে ৫০ জন অবস্থান নেয়। সেসময় তারা আমাদের উপর সরাসরি হামলা করে। সেখানে শিক্ষকরা ছিলো, তাদেরকেও ধাক্কা দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় আমরা সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক উপযুক্ত বিচার দাবি করছি।
এ বিষয়ে লোকপ্রশাসন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা দুই বিভাগের সভাপতি, শিক্ষার্থী ও প্রক্টরিয়াল বডি একসাথে বসেছি৷ এটাকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। প্রশাসন এসব বিষয় নিয়ে খুবই সিরিয়াস। কাউকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।’
অন্যদিকে বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সভাপতি ড. আবু হেনা মোস্তফা জামালকে একাধিকবার কল করলেও পাওয়া যায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ‘আমরা উভয় বিভাগের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে বসেছি। প্রশাসন আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবে।’
আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সংঘর্ষের সময় আমার উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের নির্বৃত্ত করা। তখন আঘাত পাওয়ার বিষয়টি মাথায় ছিল না।’
এসকে/এসএন