‘দেবদাস’-এর সেটে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় একটানা নাচ, তবুও থামেননি মাধুরী
ছবি: সংগৃহীত
০৪:৪০ পিএম | ১৯ মে, ২০২৬
বলিউডের জনপ্রিয় নৃত্যশিল্পী ও অভিনেত্রী মাধুরী দীক্ষিতকে ঘিরে পুরনো একটি অভিজ্ঞতা নতুন করে সামনে এসেছে, যা ঘিরে আবারও আলোচনায় এসেছে সঞ্জয় লীলা বানসালির বহুল আলোচিত চলচ্চিত্র ‘দেবদাস’। এই ছবির ‘ডোলা রে ডোলা’ গানটি যেমন আজও দর্শকদের মনে গেঁথে আছে, তেমনি এর শুটিংয়ের পেছনের কঠিন বাস্তবতা নিয়েও নতুন তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।
জানা গেছে, এই গানের নৃত্যনির্মাণের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত ছিলেন প্রখ্যাত নৃত্যপরিচালক সরোজ খান, যিনি মাধুরী দীক্ষিতের ক্যারিয়ার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তাদের জুটির হাত ধরেই ‘তেজাব’ থেকে শুরু করে ‘কলঙ্ক’ পর্যন্ত একাধিক আইকনিক নাচের দৃশ্য তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি সরোজ খানের সহকারী রুবিনা খান এক সাক্ষাৎকারে ‘দেবদাস’-এর শুটিং ফ্লোরের এক কঠিন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, ‘ডোলা রে ডোলা’ গানের শুটিং সম্পন্ন করতে প্রায় সতেরো দিন সময় লেগেছিল, আর তার আগে এক মাস ধরে চলেছিল নিবিড় মহড়া। অভিনেতা-অভিনেত্রী ও কলাকুশলীরা আলাদাভাবে প্রস্তুতি নিলেও চূড়ান্ত দৃশ্যটি ধারণ করতে প্রচণ্ড পরিশ্রম করতে হয়েছে পুরো টিমকে।

রুবিনা খানের ভাষায়, গানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যে মাধুরী দীক্ষিতকে ঘুরে বসার একটি স্টেপ বারবার করতে হচ্ছিল, যা শারীরিকভাবে অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে উঠেছিল। তখন তিনি চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। সেই অবস্থায় দীর্ঘ সময় ধরে শুটিং চলায় তার মাথা ঘোরা ও শারীরিক অস্বস্তি দেখা দেয়। জ্বর থাকা সত্ত্বেও তিনি শুটিং চালিয়ে যান বলে জানা যায়।
এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও নৃত্যনির্মাতার নির্দেশনা মেনে কাজ চালিয়ে যান মাধুরী। সহকারীর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি কখনও স্টেপ পরিবর্তনের অনুরোধ করেননি এবং গুরু সরোজ খানের নির্দেশনাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতেন। তার এই পেশাদার মনোভাবই তাকে আলাদা করে তুলেছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালে আমেরিকান চিকিৎসক শ্রীরাম নেনেকে বিয়ের পর কিছু সময়ের জন্য অভিনয়জগত থেকে দূরে ছিলেন মাধুরী দীক্ষিত। পরে তিনি আবারও পর্দায় ফিরে আসেন। তবে ‘দেবদাস’-এর ‘ডোলা রে ডোলা’ আজও ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম স্মরণীয় নৃত্যদৃশ্য হিসেবে বিবেচিত হয়।
এসএ/এসএন