© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

আর্থিক অনিয়ম ও চুক্তিভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে নির্মাতা অনিকের বিরুদ্ধে

শেয়ার করুন:
আর্থিক অনিয়ম ও চুক্তিভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে নির্মাতা অনিকের বিরুদ্ধে

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৫:২২ পিএম | ১৯ মে, ২০২৬
ঢাকাই সিনেমার চলতি সময়ের নির্মাতা রাইসুল ইসলাম অনিকের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, চুক্তিভঙ্গ, পাওনা অর্থ পরিশোধ না করার একাধিক অভিযোগ উঠেছে। শিল্পী, কলাকুশলী, টেকনিশিয়ান ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, একাধিক চলচ্চিত্র ও মিডিয়া প্রজেক্টে কাজের নামে অর্থ গ্রহণ, সময়ক্ষেপণ এবং আর্থিক ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে।

প্রথমদিকে বিগ সিটি এন্টারটেইনমেন্ট-এর করা একটি ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে পরিচালক রাইসুল ইসলাম অনিককে ঘিরে বিতর্ক প্রকাশ্যে আসে। শোনা যায়, প্রতিষ্ঠানটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন তিনি। পরবর্তীতে বিভিন্ন অনিয়ম ও অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে প্রতিষ্ঠান থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একইসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক পোস্টে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ভবিষ্যতে তিনি আর কোনোভাবেই বিগ সিটি এন্টারটেইনমেন্ট-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত নন এবং তার সঙ্গে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন না করার জন্যও সতর্ক করা হয়। এর পরপরই বেরিয়ে আসতে থাকে তার বিরুদ্ধে আরো নানা অভিযোগ। ‘আমাকে বিশ্বাস করেন ভাই’ চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তিও পরিচালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন।

অভিনয়শিল্পী আইমন শিমলা অভিযোগ করেন, চলচ্চিত্রটির কাজ শুরু করার পর হঠাৎ করেই তাকে বাদ দেওয়া হয়। তার কথায়, আগের দিন ভোর রাত পর্যন্ত শুটিং করেছি তার সেটে। সিন সব শেষ শুধু কয়েকটা শর্ট বাকি ছিল। পরের দিন সকালে শুটিং ছিল, আমিও বলেছি মাইগ্রেন নিয়ে এত সকালে আমার পক্ষে যাওয়া সম্ভব নয়। পরে শুনি আমাকে বাদ দিয়ে কাজটি করা হয়েছে। দুই ঘণ্টার ব্যবধানে তারা কীভাবে নতুন কাউকে কাস্ট করে? আর কাজের জন্য কোনো সম্মানী দেওয়া হয়নি এবং তার সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তিপত্রও করা হয়নি। তিনি জানান, ওই শিডিউলের কারণে অন্য কাজও হারাতে হয়েছে তাকে।

গ্রাফিক্স ডিজাইনার এমকে এ তুষার অভিযোগ করে জানান, ‘ইতি চিত্রা’ সিনেমায় কাজের পর অনেক ঘুরিয়ে পারিশ্রমিক দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘চারুলতা সিনেমায় মাত্র ১৫ হাজার টাকা পেয়েছি, যেখানে পাওয়ার কথা ১ লাখ ৩৩ হাজার। তাও এক বছর ঘুরে এটা পেয়েছি। আমি আসলে জানি না এই টাকা সে আদৌ দিবে কিনা?'



কিছুদিন আগেই সংগীত পরিচালক আহমেদ হুমায়ূনও পাওনা টাকা নিয়ে একটি ফেসবুক পোস্টে ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট দেন অনিককে নিয়ে। আহমেদ হুমায়ূনের কথায়, 'অনেক ঝামেলা আছে। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক করে পেমেন্ট দেয় না। প্রায় ১ বছর হয়ে গেছে এখন পর্যন্ত প্রথম একবার ১৫ হাজার টাকা দিয়েছিল। আর সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে সামাজিকমাধ্যমে কথা বলার পর ২০ হাজার টাকা দিয়েছে।'

অন্যদিকে, সাদামাটা এন্টারটেইনমেন্টের নির্বাহী প্রযোজক ইমদাদুল ইসলাম যিকরান জানান, কাজের সূত্রে পরিচালক রাইসুল ইসলাম অনিকের সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়। পরবর্তীতে ৩০ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে ‘চারুলতা’ নামের একটি চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য একটি চুক্তিপত্র স্বাক্ষরিত হয়। অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে চলচ্চিত্রটির কাজ নিয়ে নানা জটিলতা ও সময়ক্ষেপণের কারণে ২১ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে পূর্বের চুক্তি বাতিল করে নতুনভাবে সময় এবং অর্থ বৃদ্ধি করে আরেকটি চুক্তি করা হয়।

তিনি আরও জানান, এর আগেই ৩০ মার্চ ২০২৪ তারিখে ‘ইতি চিত্রা’ নামের আরেকটি চলচ্চিত্র তাদের কাছে বিক্রির চুক্তি করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে তারা জানতে পারেন, উক্ত চলচ্চিত্রের কোনো বৈধ মালিকানা পরিচালক রাইসুল ইসলাম অনিকের ছিল না। সাদামাটা এন্টারটেইনমেন্টের অভিযোগ, তথ্য গোপন ও প্রতারণামূলক উপায়ে চলচ্চিত্রটি তাদের কাছে বিক্রি করা হয়েছিল।

সাদামাটা এন্টারটেইনমেন্টের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়, ‘চারুলতা’ চলচ্চিত্রের জন্য পূর্ণ অর্থ প্রদান, শুটিং সহায়তা ও বিভিন্ন প্রযোজনাগত সহযোগিতা দেওয়ার পরও প্রকল্পটির কাজ সম্পূর্ণ বুঝিয়ে দিতে পারেননি পরিচালক। এক পর্যায়ে পরিচালক নিজেই চলচ্চিত্রটি সম্পন্ন করতে অপারগতা বলে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানকে জানান।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতিতেও চলচ্চিত্র ‘চারুলতা’ হতে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ানো, অসমাপ্ত অবস্থায় হস্তান্তর ও ক্ষমা প্রার্থনা প্রসঙ্গে চিঠি দিয়েছেন তিনি। সেখানে প্রযোজকের নিকট থেকে সিনেমার সম্পূর্ণ বাজেট ও তার পারিশ্রমিক গ্রহণ করার পরও সিনেমাটি সম্পন্ন করতে পারেননি বলে জানিয়েছেন। একইসঙ্গে ওয়াদা ভঙ্গ, অপচয়, অভিনয়শিল্পী, কলাকুশলী, টেকনিক্যাল টিমের প্রাপ্য পারিশ্রমিক বাকি রাখাসহ উপরোক্ত সকল ব্যর্থতা, ত্রুটি ও জটিলতার সম্পূর্ণ দায়ভার ব্যক্তিগতভাবে স্বীকার করছেন অনিক। তবে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের দাবি, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট আর্থিক ক্ষতির বিষয়ে এখন পর্যন্ত সন্তোষজনক কোনো সমাধান বা অর্থ ফেরতের উদ্যোগ পাওয়া যায়নি।

এ সকল অভিযোগের বিষয়ে পরিচালক রাইসুল ইসলাম অনিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, 'বিগ সিটির ইস্যুটা ভিন্ন, অলরেডি সেটেল বিষয়টা।'

আইমন শিমলার অভিযোগের বিষয়ে এই নির্মাতা বলেন, 'দুইদিন শুটিং করার পর তৃতীয় দিন সকালে তার বাসার নিচে গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকলেও সে আসেনি, আমার সহকারী ফোন করলেও ধরেননি। দেড়টায় কল দিয়ে বলে আমি আসব? আমার বাজেট কম আগেই বলা ছিল শুটিং ফাঁসলে লস হয়ে যাবে। এ কারণে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে।'

এদিকে, সাদামাটা এন্টারটেইনমেন্টের পক্ষ থেকে আনা অভিযোগ নিয়ে নির্মাতা অনিক বলেন, "নির্ধারিত সময়ে ‘চারুলতা’র কাজ শেষ করতে পারিনি। সেই জায়গা থেকে সামান্য মনোমালিন্য হয়েছে। তবে চেষ্টা করছি কাজটি শেষ করতে। আর যে বাজেট দিয়েছিল সেই বাজেটের চেয়েও বেশি খরচ হয়েছে। এরপর তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। কাজটি নির্ধারিত সময়ে করতে পারিনি তবে শুটিং শেষ করেছি, এডিটিংও এখন সম্পন্ন।"


এসএ/টিএ

মন্তব্য করুন