টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলতে বাংলাদেশের সামনে কোন সমীকরণ?
ছবি: সংগৃহীত
০৭:৪৪ পিএম | ২০ মে, ২০২৬
ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ জিতে নতুন ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। এই অভাবনীয় সাফল্যের পর টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সাত নম্বরে উঠে আসার পাশাপাশি আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের টেবিলে বড় লাফ দিয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ভারতকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশ এখন টেবিলের পঞ্চম স্থানে। আর এই দাপুটে পারফরম্যান্সের পরই দেশের ক্রিকেটপাড়ায় নতুন এক প্রশ্ন ডালপালা মেলতে শুরু করেছে—বাংলাদেশ কি পারবে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলতে?
চলমান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ২০২৫-২৭ চক্রে সিরিজ শুরুর আগে বাংলাদেশ ছিল তালিকার আট নম্বরে। মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জয়ের পর তারা উঠে আসে ছয়ে, আর সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় টেস্ট জিতে ভারতকে টপকে এখন পাঁচে অবস্থান করছে টাইগাররা। এই চক্রে এখন পর্যন্ত ৪টি টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। যার মধ্যে দুটিতে জয়, একটিতে হার এবং একটি ম্যাচ ড্র হয়েছে।
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের নিয়ম অনুযায়ী, মোট পয়েন্টের চেয়ে দলগুলো কত শতাংশ পয়েন্ট পাচ্ছে, তার ওপর ভিত্তি করেই র্যাঙ্কিং করা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশের শতকরা পয়েন্টের হার ৫৮.৩৩%। অন্যদিকে, বাংলাদেশের নিচে নেমে যাওয়া ভারতের সংগ্রহ এখন ৪৮.১৫% পয়েন্ট, ৯ ম্যাচে তাদের ৪ জয়, ৪ হার ও ১ ড্র। বর্তমানে টেবিলের শীর্ষে আছে অস্ট্রেলিয়া (৮৭.৫০%), দ্বিতীয় স্থানে নিউজিল্যান্ড (৭৭.৭৮%), তৃতীয় স্থানে দক্ষিণ আফ্রিকা (৭৫.০০%) এবং চতুর্থ স্থানে রয়েছে শ্রীলঙ্কা (৬৬.৬৭%)।
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের নিয়ম অনুযায়ী, চক্র শেষে টেবিলের শীর্ষ দুটি দল ফাইনাল খেলার সুযোগ পায়। তবে আর সব টুর্নামেন্টের সঙ্গে এর পার্থক্য হচ্ছে, এখানে শতকরা প্রাপ্ত পয়েন্টের হার হিসেব করা হয়, প্রাপ্ত পয়েন্ট নয়। ২০২৭ সালের জুনে শেষ হবে এই চক্র। তার আগে ফাইনালে নাম লেখাতে হলে বাংলাদেশকে মেলাতে হবে কিছু কঠিন সমীকরণ।

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলতে হলে বাংলাদেশকে শতকরা প্রাপ্ত পয়েন্টের হারের দিক থেকে আরও ভালো অবস্থানে যেতে হবে। বর্তমানে ৫ নম্বরে থাকা বাংলাদেশকে শীর্ষ দুইয়ে পৌঁছাতে হলে এই ৫৮.৩৩% পয়েন্টকে টেনে অন্তত ৭০% থেকে ৭৫%-এর ওপরে নিয়ে যেতে হবে। ফলে ফাইনালে যাওয়ার রাস্তাটা বাংলাদেশের জন্য মোটেও সহজ নয়।
শান্তদের পরবর্তী দুটি সিরিজ ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে কঠিন কন্ডিশনে— আগস্টে অস্ট্রেলিয়া এবং নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে। এরপর ঘরের মাঠে ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেও সিরিজ খেলার কথা রয়েছে টাইগারদের। ফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখতে হলে ঘরের মাঠে ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারানোর পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো বাউন্সি ট্র্যাকেও অন্তত টেস্ট ড্র বা জয় ছিনিয়ে আনতে হবে। কোনো সিরিজেই বড় ব্যবধানে হারা চলবে না।
পেসারদের দুর্দান্ত ফর্ম এবং লোয়ার-অর্ডার ব্যাটারদের দৃঢ়তা আশা জাগালেও, চার পরাশক্তির বিরুদ্ধে এই চার সিরিজই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের ভাগ্য। দীর্ঘ ও কঠিন এই পথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল প্রথমবারের মতো লর্ডসের ফাইনালের টিকিট কাটতে পারবে কি না—সেই উত্তরটা আপাতত সময়ের হাতেই তোলা থাক।
আইকে/টিএ