© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

অবশেষে বাজারে আসছে ‘ট্রাম্প মোবাইল’

শেয়ার করুন:
অবশেষে বাজারে আসছে ‘ট্রাম্প মোবাইল’

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:২০ পিএম | ২০ মে, ২০২৬
প্রায় এক বছর অপেক্ষার পর অবশেষে বাজারে আসতে যাচ্ছে বহু আলোচিত ‘ট্রাম্প মোবাইল’। গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিবারের মালিকানাধীন ট্রাম্প অর্গানাইজেশন ফোনটি বাজারে আনার ঘোষণা দিয়েছিল। তখন বলা হয়েছিল, ২০২৫ সালের আগস্ট থেকেই গ্রাহকদের হাতে পৌঁছাবে ডিভাইসটি।

ঘোষণার পর থেকেই আগ্রহীদের কাছ থেকে ১০০ ডলার করে অগ্রিম জামানত নেয়া শুরু হয়। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ফোনটির অগ্রগতি নিয়ে তেমন কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। অবশেষে জানানো হয়েছে, চলতি সপ্তাহ থেকেই স্বর্ণালি ডিজাইনের ‘ট্রাম্প মোবাইল টি১’ গ্রাহকদের কাছে পাঠানো শুরু হবে।

বুধবার (২০ মে) এই তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

সিএনএন জানায়, ফোনটির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৯৯ ডলার। তবে ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রি-অর্ডার করলেই সবাই ফোন পাবেন এমন নিশ্চয়তা নেই। ১০০ ডলারের জামানত কেবল একটি ‘বিশেষ সুযোগ’ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ডেলিভারি দেয়া হবে।

এ বিষয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে ট্রাম্প অর্গানাইজেশন জানায়, যারা আগে থেকে অর্ডার করেছিলেন তারা খুব শিগগিরই ইমেইলে আপডেট পাবেন এবং ধাপে ধাপে ফোন পাঠানো শুরু হবে।

ট্রাম্প মোবাইলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্যাট ও’ব্রায়েন সিএনএনকে জানান, ‘গুণগত মান ঠিক রাখতে দীর্ঘ সময় ধরে ফোনটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে।’

‘ফোনটির চাহিদা অনেক বেশি থাকা সত্ত্বেও ধাপে ধাপে অর্ডার অনুযায়ী ডেলিভারি দেয়া হচ্ছে। আমরা আশা করছি, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সবাই আরাধ্য ফোনটি হাতে পেয়ে যাবেন’, বলেও জানান তিনি।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, ফোনটি দেখতে অনেকটাই চীনে তৈরি টি-মোবাইল রেভেল ৭ প্রো ৫জি মডেলের মতো। অথচ ট্রাম্প মোবাইলের দাম প্রায় দ্বিগুণেরও বেশি।

প্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্রিয়েটিভ স্ট্র্যাটেজিস-এর বিশ্লেষক ম্যাক্স ওয়েইনবাখ সিএনএনকে বলেন, ‘অ্যান্ড্রয়েড ফোন বাজারে আনতে কমপক্ষে ১৮ মাস সময় লাগে। সফটওয়্যার চূড়ান্ত করা, উৎপাদনকারী ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সই করতেই অনেক সময় লেগে যায়।’

ফোনটি নিয়ে শুরু থেকেই নানা সমালোচনা রয়েছে। প্রাথমিক ঘোষণায় একে ‘মেইড ইন ইউএসএ’ বলা হলেও পরে সেই দাবি থেকে সরে আসে ট্রাম্প অর্গানাইজেশন। পরবর্তীতে তারা জানায়, ফোনটি ‘মার্কিন মূল্যবোধকে সামনে রেখে’ তৈরি করা হয়েছে।

মোবাইল ফোন খাতের বিশ্লেষকরা শুরুতেই ‘মেইড ইন ইউএসএ’ দাবি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন।

বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করেন, ফোনটির ডিজাইন ও ফিচারের সঙ্গে চীনে নির্মিত কিছু অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের মিল রয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল ডেটা কর্পোরেশনের ওয়ার্ল্ডওয়াইড ডিভাইস ট্র্যাকার বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট রায়ান রেইথ সিএনএনকে বলেন, ‘এ ধরনের শব্দগুলো বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার জন্য ব্যবহার করা হয়।’

প্রযুক্তি খাতের বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করিয়ে দিয়েছেন, বর্তমানে বিশ্বের বেশিরভাগ স্মার্টফোনের নকশা এক দেশে তৈরি হলেও যন্ত্রাংশ ও উৎপাদন প্রক্রিয়া বিভিন্ন দেশে সম্পন্ন হয়। উদাহরণ হিসেবে অ্যাপল- এর আইফোনের কথা বলা হয়, যার ডিজাইন যুক্তরাষ্ট্রে হলেও উৎপাদন হয় মূলত চীন ও ভারতে।

এদিকে ফোনটি ঘিরে নৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে। কারণ, ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায় তার নাম ব্যবহার করে পণ্য বিপণন করা কতটা গ্রহণযোগ্য- তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সমালোচকরা। যদিও ফোন ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রয়েছেন তার দুই ছেলে এরিক ও ডোনাল্ড জুনিয়র।

ফোনটির ভয়েস ও ডেটা প্যাকেজের মূল্য রাখা হয়েছে ৪৭ ডলার ৪৫ সেন্ট। সংখ্যাটি ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম ও ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হওয়ার বিষয়টিকে ইঙ্গিত করেই নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এসকে/টিএ

মন্তব্য করুন