© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ-মরক্কো বি-টু-বি প্ল্যাটফর্ম চালু

শেয়ার করুন:
প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ-মরক্কো বি-টু-বি প্ল্যাটফর্ম চালু

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০১:৫৮ এএম | ২১ মে, ২০২৬
বাণিজ্যে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে মরক্কোর রাবাতে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের সঙ্গে দেশটির বি-টু-বি (বিজনেস-টু-বিজনেস) মিটিং প্ল্যাটফর্ম উদ্বোধন করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

এর মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার সঙ্গে আফ্রিকা, ইউরোপ ও অন্যান্য অঞ্চলের প্রবেশদ্বার মরক্কোর মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং সবুজ উদ্ভাবনের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হলো। প্রতিমন্ত্রীর দুদিনের সফরের এটি ছিল প্রধান আয়োজন এবং অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, ‘এই প্ল্যাটফর্মের লক্ষ্য হলো উচ্চমূল্যসম্পন্ন, উদ্ভাবননির্ভর এবং মানুষকেন্দ্রিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা। শুধু বাণিজ্যের জন্য বাণিজ্য নয়, বরং এমন বাণিজ্য যা শিল্প গড়ে তুলবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, প্রযুক্তি হস্তান্তর ত্বরান্বিত করবে এবং উভয় দেশের টেকসই প্রবৃদ্ধিকে এগিয়ে নেবে।’

দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যবর্তী কৌশলগত অবস্থানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রফতানিকারক দেশ, ১৫০টিরও বেশি দেশে ওষুধ সরবরাহকারী এবং তথ্যপ্রযুক্তি, চামড়া, সিরামিক, হালকা প্রকৌশল ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পে দ্রুত বিকাশমান একটি কেন্দ্র।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে মরক্কোর ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।

নতুন এই প্ল্যাটফর্মের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে উঠে আসে বাংলাদেশের পাট ও পাটজাত পণ্যের প্রসার। পরিবেশবান্ধব ও কার্বন শোষণক্ষম পণ্য উৎপাদনে আধুনিকায়িত বাংলাদেশের পাটশিল্প বর্তমানে অটোমোবাইল ও ফ্যাশন শিল্পেও ব্যবহৃত হচ্ছে, যা মরক্কোর সম্প্রসারিত শিল্পখাতের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

এ বিষয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘আফ্রিকার দেশগুলো যখন একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার সীমিত করার দিকে এগোচ্ছে, তখন পাটভিত্তিক পরিবেশবান্ধব বিকল্পের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। এতে বাংলাদেশ একটি প্রধান সরবরাহকারী হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার সুযোগ পাবে।’

অনুষ্ঠানস্থলে বাংলাদেশের পাটজাত পণ্যের একটি প্রদর্শনীও আয়োজন করা হয়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং মরক্কো চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি হাসান সাখি যৌথভাবে ফিতা কেটে এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন।

বাংলাদেশ দূতাবাস, রাবাত এবং মরক্কো চেম্বার অব কমার্স, ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড সার্ভিসেসের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ বি-টু-বি অনুষ্ঠানে প্রায় ৩০ জন শীর্ষ মরক্কান ব্যবসায়ী এবং সাত সদস্যের বাংলাদেশি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল অংশ নেয়।

এ প্ল্যাটফর্মকে আরও গতিশীল করতে ২০২৬ সালের নভেম্বরে মরক্কোর একটি উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের বাংলাদেশ সফরের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিনিধি দলটি বাংলাদেশে অর্থনৈতিক অঞ্চল, শিল্প হাব এবং উদ্ভাবন কেন্দ্র পরিদর্শন করবে, যা যৌথ বিনিয়োগ ও অংশীদারিত্বের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।

অনুষ্ঠানে মরক্কোয় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সাদিয়া ফাইজুন্নেসাও বক্তব্য দেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের পাট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ মো. নুরুল বশির, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আফ্রিকা অনুবিভাগের মহাপরিচালক আব্দুর রউফ মণ্ডল এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব সাহেলা আক্তার।

পরে বিকেলে প্রতিমন্ত্রী রাবাতে মরক্কান ইনস্টিটিউট ফর ট্রেনিং, রিসার্চ অ্যান্ড ডিপ্লোম্যাটিক স্টাডিজে ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি: আফ্রিকা ফোকাস’ শীর্ষক একটি বক্তব্য দেন। তিনি বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের দূরদর্শী, মূল্যবোধভিত্তিক এবং জনমুখী পররাষ্ট্রনীতির কথা তুলে ধরেন, যা ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির ভিত্তিতে জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ ও গঠনমূলক আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা জোরদারে কাজ করছে।

বাংলাদেশ-আফ্রিকা সহযোগিতার বিপুল সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি শান্তি, সমৃদ্ধি, টেকসই উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে উভয় অঞ্চলের জনগণের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এ সেশনে কূটনীতিক, সাবেক রাষ্ট্রদূত, প্রশিক্ষণার্থী কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ এবং পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষকরা অংশ নেন। পুরো অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন রাষ্ট্রদূত সাদিয়া ফাইজুন্নেসা।

টিজে/টিএ 

মন্তব্য করুন