© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

৪ মাস পর বাড়ি ফিরল ইরাকে নিহত রমজানের নিথর দেহ

শেয়ার করুন:
৪ মাস পর বাড়ি ফিরল ইরাকে নিহত রমজানের নিথর দেহ

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৫:৩২ এএম | ২২ মে, ২০২৬
১২ বছর পর ঈদে বাড়ি ফেরার কথা ছিল রমজান আলীর। মাত্র আট মাস আগে পরিবারের পছন্দে মোবাইল ফোনে বিয়ে করেছিলেন তিনি। স্বপ্ন ছিল দেশে ফিরে নববধূকে নিয়ে নতুন জীবনের শুরু করবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। দুর্ঘটনায় নিহতের চার মাস পর ইরাক থেকে কফিনবন্দী মরদেহ হয়ে গ্রামের বাড়িতে ফিরলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুর ১২টার দিকে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে রমজানের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে সেখানে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। শেষবারের মতো এক নজর দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন স্থানীয়রা। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

নিহত রমজান আলী (৩৫) জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার আগপয়লা ঠেঙ্গেপাড়া এলাকার মো. রহিম বাদশার ছেলে। তিন ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন মেঝো।

পরিবার জানায়, অসুস্থ বাবার সংসারের হাল ধরতে ১২ বছর আগে জীবিকার সন্ধানে ইরাকে পাড়ি জমান রমজান। দীর্ঘ প্রবাস জীবনে কঠোর পরিশ্রম করে পরিবারের জন্য একটি বাড়ি নির্মাণ করেন। বাবা-মায়ের প্রতি ভালোবাসা থেকে বাড়িটির নাম রাখেন ‘মা-বাবা ভিলা’। কিন্তু গত ৩ জানুয়ারি ইরাকে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান রমজান আলী। দীর্ঘ চার মাসেও তার মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হয়নি। এতে অনিশ্চয়তা ও মানসিক কষ্টে দিন কাটছিল পরিবারের সদস্যদের।

এদিকে, বিষয়টি নজরে আসে জেলা গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সহ-সভাপতি আরিফুল ইসলাম তুহিনের। তিনি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে মরদেহ দেশে আনতে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেন।


মরদেহ দেশে ফেরানোর বিষয়ে আরিফুল ইসলাম তুহিন বলেন, ‘দীর্ঘদিন মরদেহ দেশে না আসায় পরিবারটি অনেক কষ্টে ছিল। পরে বিষয়টি জানতে পেরে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করি। সবার সহযোগিতায় অবশেষে মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হয়েছে।’

স্থানীয়রা জানান, ছোটবেলা থেকেই রমজান আলী ছিলেন শান্ত, ভদ্র ও পরিশ্রমী। পরিবারের প্রতি তার দায়িত্ববোধ ছিল প্রবল। অসুস্থ বাবার সংসারের হাল ধরতেই অল্প বয়সে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন। সবসময় পরিবারের খোঁজখবর রাখতেন তিনি।

পরে দুপুর ৩টায় বাড়িতে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে বাড়ির পাশেই তাকে দাফন করা হয়।

টিজে/টিএ 

মন্তব্য করুন