মহেশকে কেন কটাক্ষ করেছিলেন অনুপম খের?
ছবি: সংগৃহীত
০৯:১০ এএম | ২২ মে, ২০২৬
বলিউডে নিজের জায়গা তৈরি করতে আজকের তারকাদের মতো সহজ পথ পাড়ি দিতে হয়নি অনুপম খেরকে। সংগ্রাম, অনিশ্চয়তা আর হতাশার বহু গল্প ছড়িয়ে আছে তার দীর্ঘ অভিনয়জীবনে। তবে সেইসব অভিজ্ঞতার মধ্যেও একটি ঘটনার কথা এখনও গভীর আবেগ নিয়ে মনে করেন এই বর্ষীয়ান অভিনেতা। আর সেই ঘটনার কেন্দ্রেই ছিলেন নির্মাতা মহেশ ভট্ট।
সম্প্রতি নিজের অভিনয়জীবনের শুরুর দিকের এক তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন অনুপম খের। তিনি জানান, মহেশ ভাট্ট পরিচালিত ‘সারাংশ’ ছিল তার প্রথম সিনেমা। সেই ছবির জন্য টানা ছয় মাস নিজেকে প্রস্তুত করেছিলেন তিনি। বয়সে তরুণ হলেও পর্দায় এক বৃদ্ধ মানুষের চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে প্রতিদিন অনুশীলন করেছেন। হাঁটা, কথা বলা, শরীরের ভঙ্গি, এমনকি লাঠি নিয়ে চলাফেরার অভ্যাসও করেছিলেন নিয়মিত।
কিন্তু সব প্রস্তুতির পর আচমকাই আসে বড় ধাক্কা। শুটিং শুরুর কয়েক দিন আগে অনুপম জানতে পারেন, তাকে বাদ দিয়ে সেই চরিত্রে নেওয়া হচ্ছে বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা সঞ্জীব কুমারকে। খবরটি শুনে পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। মনে হয়েছিল, শুরু হওয়ার আগেই শেষ হয়ে যাচ্ছে তার স্বপ্ন।

সেই সময় মুম্বাই ছেড়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছিলেন অনুপম। তবে শহর ছাড়ার আগে শেষবারের মতো মহেশ ভাট্টের বাড়িতে যান তিনি। আর সেখানেই জমে থাকা ক্ষোভ উগরে দেন অভিনেতা। রাগ আর হতাশা থেকে মহেশ ভাট্টকে কটাক্ষ করে তিনি বলেছিলেন, বাস্তবতা নিয়ে ছবি বানালেও নির্মাতার নিজের মধ্যেই কোনো সত্যতা নেই। এমনকি তাকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রতারক’ বলেও মন্তব্য করেছিলেন অনুপম।
তবে সেই আবেগঘন মুহূর্তই বদলে দেয় পুরো পরিস্থিতি। অনুপমের কষ্ট আর দৃঢ়তা দেখে শেষ পর্যন্ত নিজের সিদ্ধান্ত বদলান মহেশ ভাট্ট। পরে প্রযোজকদের স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই চরিত্রে অভিনয় করবেন শুধু অনুপম খেরই।
এরপর মুক্তি পায় ১৯৮৪ সালের ‘সারাংশ’। ছবিটি যেমন প্রশংসা কুড়িয়েছিল, তেমনি অনুপম খেরের অভিনয়ও দর্শক ও সমালোচকদের নজর কাড়ে। সেই সিনেমাই পরবর্তীতে তার অভিনয়জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
আজ বহু বছর পর সেই স্মৃতি মনে করে অনুপম বুঝিয়ে দিলেন, কখনও কখনও জীবনের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তই একজন শিল্পীর ভাগ্য বদলে দেয়।
এসএ/এসএন