© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

প্রেম-বিচ্ছেদ নিয়ে কী বললেন বলিউড তারকারা?

শেয়ার করুন:
প্রেম-বিচ্ছেদ নিয়ে কী বললেন বলিউড তারকারা?

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:১৬ এএম | ২২ মে, ২০২৬
প্রেম ও বিচ্ছেদের মতো স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে নানা সময়ে অকপট হয়েছেন বলিউড তারকারা। তাদের প্রেম-বিচ্ছেদ বরাবরই চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। বিচ্ছেদের পর নিজেদের মানসিক যন্ত্রণা, ভুল বোঝাবুঝি এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা খোলামেলাভাবে শেয়ার করে নেন তারা।

গ্ল্যামারের আড়ালে যে তারকারাও সাধারণ মানুষের মতোই ভালোবাসেন, ভাঙেন, কষ্ট পান এবং আবার নতুন করে শুরু করেন— সে কথাই যেন বারবার মনে করিয়ে দেয় কিছু স্মৃতি। আর তাই হয়তো তাদের এই অকপট স্বীকারোক্তি দর্শকদের কাছেও বাস্তব মনে হয়।

বলিউডের বিনোদন দুনিয়ায় প্রেম যেমন দ্রুত শিরোনামে আসে, ঠিক তেমনই সম্পর্ক ভাঙার খবরও মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। তবে বিচ্ছেদের পর অনেকেই মুখ বন্ধ রাখতেই পছন্দ করেন বেশি। আবার কেউ কেউ নিজের কষ্ট, হতাশা থেকে নেওয়া শিক্ষার অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রকাশ্যেই কথা বলেন। তারকাদের এমন কিছু আলোচিত ও বক্তব্য তুলে ধরা হলো—

তালিকায় নতুন করে উঠে এসেছে দক্ষিণী জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাকুলপ্রিত সিংয়ের নাম। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রাকুলপ্রিত সিং, সারা আলি খান এবং আয়ুষ্মান খুরানার সঙ্গে সম্পর্ক ও প্রতারণা নিয়ে আলোচনা করেন।



সেখানে ‘চিটিং’ কোনো পরিস্থিতিতে ক্ষমা করা যায় কিনা, সেই প্রশ্ন উঠতেই রাকুলপ্রিত বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে প্রতারণাকে সমর্থন করেন না। জীবন এত বড় যে একটা ভুলের জন্য কাউকে সারাজীবন ক্ষমা না করে থাকা যায় না। যদিও সঙ্গে সঙ্গেই তিনি পরিষ্কার করে দেন, এই মন্তব্য তার ব্যক্তিগত সম্পর্কের সঙ্গে জড়িত নয়।

রাকুলপ্রিত এ মন্তব্য সামনে আসতেই সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মাঝে শুরু হয় গুঞ্জন। কারণ এর কয়েক দিন আগেই স্বামী জ্যাকি ভগনানি তাদের সম্পর্ককে ‘সিচুয়েশনশিপ’ বলায় নেটদুনিয়ায় নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল। পরে অবশ্য রাকুলপ্রিত ও জ্যাকি দুজনেই মজার ছলে সেই বিতর্ক সামলে নেন।

তবে বলিউডে সম্পর্ক ভাঙা নিয়ে অকপট হওয়ার ঘটনা নতুন কিছু নয়। অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন এবং অভিনেতা রণবীর কাপুরের সম্পর্ক ও বিচ্ছেদ আজও বলিপাড়ার অন্যতম চর্চিত অধ্যায়। বিচ্ছেদের পর দীপিকা এক সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছিলেন, তিনি রণবীরকে দ্বিতীয় সুযোগ দিয়েছিলেন। কারণ অভিনেতা নাকি তার কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন। কিন্তু পরে হাতেনাতে প্রতারণার প্রমাণ পান তিনি। দীপিকা বলেন, সেই সম্পর্ক ভাঙা তাকে ভেতর থেকে ভেঙে দিয়েছিল। তবে সেই অভিজ্ঞতাই তাকে আরও শক্ত মানুষ করে তুলেছে।

অন্যদিকে রণবীর কাপুরও নিজের ভুল স্বীকার করতে পিছপা হননি। প্রকাশ্যেই তিনি মেনে নিয়েছিলেন যে অপরিণত মানসিকতা এবং দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কারণেই তিনি সম্পর্কে ভুল করেছিলেন। অভিনেতা বলেন, কোনো সম্পর্কে থাকলে প্রতিশ্রুতির মূল্য বোঝা খুব জরুরি।

এদিকে শহিদ কাপুর ও কারিনা কাপুর খানের সম্পর্কও একসময়ে ছিল বলিউডের ‘হট টপিক’। পাঁচ বছরের সম্পর্ক ভাঙার পর শহিদ বলেন, সময়টা তার কাছে অত্যন্ত কঠিন ছিল। ব্যক্তিগত অনুভূতি আর পেশাদার জীবনের মধ্যে ভারসাম্য রাখা সহজ ছিল না।

অন্যদিকে কারিনা কাপুর এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ভাগ্যের নিজস্ব পরিকল্পনা থাকে। ‘জব উই মেট’ সিনেমার সময়ে তাদের সম্পর্ক ভাঙলেও সেই অভিজ্ঞতা থেকেই নাকি তৈরি হয়েছে সিনেমার আবেগ।

রণবীর সিং ও আনুশকা শর্মার সম্পর্কও খুব বেশি দিন টেকেনি। কিন্তু বিচ্ছেদের পরও দুজনের মধ্যে তিক্ততা দেখা যায়নি। ‘দিল ধড়কনে দো’ সিনেমার সময়ে রণবীর বলেছিলেন-  আনুশকা শর্মা তার জীবনের বিশেষ মানুষ হয়েই থাকবেন। অন্যদিকে আনুশকা শর্মা বলেন, বহুদিন পর দেখা হলেও তাদের বন্ধুত্বের জায়গাটা অটুট ছিল।

অভিনেতা জন আব্রাহাম ও বিপাশা বসুর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ভাঙার খবর একসময়ে ভক্ত-অনুরাগীদের হতাশ করেছিল। বিচ্ছেদের পর জন আব্রাহাম বলেন, দুজনের ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা হয়ে গিয়েছিল। তিনি তখন হয়তো সেই সম্পর্ককে পরিণতির দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলেন না।

অন্যদিকে বিপাশা বসু বলেন, প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গ ক্ষমা করা খুব কঠিন। তাই সেই সম্পর্কের পর আর বন্ধুত্ব সম্ভব নয়। অভিনেত্রী শিল্পা শেঠিও সম্পর্ক ভাঙার কষ্ট নিয়ে সরাসরি কথা বলেছিলেন। অক্ষয় কুমারের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর অভিনেত্রী অভিযোগ করেছিলেন, তাকে প্রতারণার মুখে পড়তে হয়েছিল। যদিও তিনি এটাও বলেছিলেন যে, অন্য কোনো নারীকে দোষ দেওয়ার কোনো মানে হয় না। কারণ ভুলটা করেছিলেন তার সঙ্গীই।

সম্প্রতি সাইফ আলি খানও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এক পুরোনো ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আনেন। অভিনেত্রী অমৃতা সিংকে বিয়ের সময় এক প্রবীণ অভিনেতা নাকি তাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন বিয়ের খবর গোপন রাখতে। কারণ তাতে নাকি তার জনপ্রিয়তা কমে যেতে পারে। তবে সাইফ সেই পরামর্শ মানেননি। অভিনেতা বলেন, ব্যক্তিগত জীবন লুকিয়ে রাখার কোনো প্রয়োজন নেই।


এসএ/এসএন

মন্তব্য করুন