পিয়া সেনগুপ্তকে ঘিরে টলিপাড়ায় নতুন বিতর্ক
ছবি: সংগৃহীত
০৭:৩৫ পিএম | ২২ মে, ২০২৬
টলিউডের প্রযোজক সংগঠন ইমপার অন্দরমহলে চলছিল টানাপোড়েন। সেই অশান্তি এবার প্রকাশ্যে বিস্ফোরণের রূপ নিল। সভাপতি পিয়া সেনগুপ্তকে ঘিরে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে শুক্রবারের সাধারণ বৈঠক একপ্রকার ভেস্তেই গেল। বৈঠক শুরুর আগেই ইমপার কার্যালয়ে তৈরি হয় উত্তপ্ত পরিস্থিতি। অভিযোগ, বচসা থেকে শুরু করে অপমান, এমনকি তেড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে সেখানে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই প্রযোজকদের একাংশ পিয়া সেনগুপ্তের পদত্যাগের দাবিতে সরব ছিলেন। তাঁদের অন্যতম মুখ পরিবেশক শতদীপ সাহা। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই ২২ মে সমস্ত সদস্যকে নিয়ে সাধারণ বৈঠকের ডাক দিয়েছিলেন পিয়া। কিন্তু বৈঠক শুরু হওয়ার আগেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় বলে অভিযোগ।
পিয়ার দাবি, যাঁরা সংগঠনের সদস্য নন, তাঁরাও বৈঠকে উপস্থিত হন। এরপরই শুরু হয় তুমুল বচসা। তাঁকে অপমান করা হয়েছে এবং কয়েকজন তাঁর দিকে তেড়ে আসেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বিশেষ করে পরিচালক অতনু বোসের নাম উল্লেখ করে পিয়া জানান, এই ঘটনায় তিনি প্রশাসনের দ্বারস্থ হবেন। তাঁর কথায়, এতদিন অনেক কিছু সহ্য করেছেন, কিন্তু এবার আর চুপ করে থাকার জায়গায় নেই।
অন্যদিকে বিরোধীপক্ষের প্রযোজকদের দাবি, তাঁরা কেবল বৈঠক শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে চেয়েছিলেন। শতদীপ সাহা বারবার আলোচনায় বসার অনুরোধ জানিয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে তাঁদের তরফে।
রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই ইমপার ভেতরে বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রযোজকদের একাংশের অভিযোগ ছিল, সংগঠনটি একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রভাবাধীন হয়ে পড়েছিল। নতুন সরকার গঠনের পর ইমপার কার্যালয়ে গঙ্গাজল ছিটিয়ে শুদ্ধিকরণের ঘটনাও সেই বিতর্ককে আরও উসকে দেয়।

শুধু পদত্যাগের দাবিই নয়, পিয়া সেনগুপ্তের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও তুলেছেন বিরোধীপক্ষের সদস্যরা। পাশাপাশি প্রাক্তন ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যদিও এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে এসেছেন পিয়া।
এদিনের বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পর টলিউডের অন্দরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, প্রযোজকদের এই সংঘাত কি এবার সরকারি হস্তক্ষেপ ছাড়া মেটানো সম্ভব? ইমপার ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা এখন আরও ঘনীভূত।
পিআর/টিকে