আমায় ভয় দেখাতে চায় বিজেপি: সায়নী
ছবি: সংগৃহীত
০৯:৪০ পিএম | ২২ মে, ২০২৬
সায়নী ঘোষ-এর ২০১৫ সালের একটি বিতর্কিত টুইট আবারও সামাজিক মাধ্যমে আলোচনায় এসেছে। ‘শিবলিঙ্গে কন্ডোম’ মন্তব্যসংবলিত পুরোনো পোস্ট ঘিরে নতুন করে সমালোচনা শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে সায়নী ঘোষ দাবি করেছেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে যাতে তিনি মুখ না খোলেন, সে জন্য তাকে ভয় দেখিয়ে চুপ করানোর চেষ্টা করছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।
২০১৫ সালে সায়নীর এক্স হ্যান্ডল (সাবেক টুইটার) থেকে একটি গ্রাফিক শেয়ার করা হয়। যেখানে দেখা যায় যে, দেখা যায়, একজন নারী একটি শিবলিঙ্গের ওপর কন্ডোম পরাচ্ছেন এবং ছবির ভেতরে লেখা ছিল, 'বুলাদির শিবরাত্রি'। যদিও ব্যাপরটা নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত হয় ২০২১ সালে। অভিনেত্রীর সাফাই ছিল, ওই ছবিটি তিনি নিজে তৈরি বা পোস্ট করেননি। ওই সময় তাঁর অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি দাবি করেন। এবার পাঁচ বছর পর ফের চর্চায় সেই পোস্টটি। সায়নীর উর ফের খচে লাল হিন্দুদের বড় একটা অংশ। কিছু ভাইরাল পোস্ট থেকে তো সায়নীর মাথার দাম ‘১ কোটি টাকা’ বলে ধার্য করা হয়েছে।
এবার বিতর্কে মুখ খুললেন তৃণমূলের সাংসদ। সংবাদমাধ্যমের সামনে সায়নী বললেন, ‘প্রথমত এটা আমি করিনি। আমি বহুবার এটা বলেছি। শুধু তাই নয়, জনসম্মুখে আমি ক্ষমাও চেয়েছিলাম সেই ২০২১ সালেই। কেউ চায় না কারও ধর্মকে অপমান করতে। আমি নিজেও তো হিন্দু। ২০১৫ সাল নাগাদ ২২ বছর বয়স ছিল আমার। সবে সবে টুইটার এসেছিল। না আমি আমার হ্যান্ডেল থেকে পোস্ট করেছিলাম, না কার্টুনটা আমি বানিয়েছিলাম। কারও পিছনে যেতে হলে, যে কার্টুন বানিয়েছে তাঁর পিছনে যাও। যখন আমার সামনে এই ব্যাপারটা এল, ২০২১ সালে ৭ বছর বাদে। সঙ্গে সঙ্গে ওই পোস্টটা সরানো হল। আমি ক্ষমাও চাইলাম।’

সায়নীর এখন দাবি, তাঁকে ভয় পাইয়ে রাখার জন্য ফের এই বিতর্কিত পোস্টটি সামনে আনা হয়েছে। যাতে তিনি সাম্প্রতিক কোনো ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে না পারেন, সেই চেষ্টা করা হচ্ছে। সায়নীর পালটা অভিযোগ, ‘আপনাদের কাছে যদি অন্য কোনো মুদ্দা (বিষয়) না থাকে, আমি সেই ২০২১ সালে রাজনীতিতে এসেছি, তারপর থেকে আমার কোনো মন্তব্য কারও ধর্মীয় বিশ্বাসে কোনোভাবে আঘাত আনেনি। এখন এত বছর পর, আমাকে ভয় দেখিয়ে রাখার চেষ্টা হচ্ছে, যাতে আমি দরকারি বিষয় নিয়ে কথা না বলি। জনসম্মুখে বলছে সায়নী ঘোষের মাথা কাটলে ১ কোটি টাকা, বিজেপির চেয়ারম্যানই বলছে। এদিকে বিজেপি মুখে নারীদের সম্মানের কথা বলছে! আমার নাম জুড়ছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের সঙ্গে। যদিও আমার কাছে কোনো নোটিসই কিন্তু আসেনি। কীভাবে আসবে, এরকম কিছুই তো নেই। বিজেপির আইটি সেল আসলে উঠে পড়ে লেগেছে।’
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালে প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায় এই টুইটটি নিয়ে রবীন্দ্র সরোবর থানায় সায়নী ঘোষের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। তারপর অবশ্য গঙ্গা থেকে অনেক জলই গড়িয়েছে। ২০২১ সালের নির্বাচনে তাঁকে আসানসোল দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে দলের প্রার্থী করা হয়। তবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর তিনি বিজেপির প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পালের কাছে পরাজিত হন। এরপর অন্য তারকাদের মতো রাজনীতি থেকে সরে যাননি। বরং দল তাঁকে দেয় বিশাল এক গুরু দায়িত্ব। ২০২১ সালের জুন মাসে তাঁকে পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল যুব কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। যে দায়িত্ব তার আগে অবধি ছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে। এরপর ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে সায়নী যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হয়ে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন।
পিআর/টিকে