অনিশ্চয়তার মুখে সালমান খানের ‘মাতৃভূমি’!
ছবি: সংগৃহীত
০৮:৫৩ পিএম | ২৩ মে, ২০২৬
বলিউড ভাইজান সালমান খানের বহু প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘মাতৃভূমি’। এটিকে ঘিরে অনিশ্চয়তা ক্রমেই বাড়ছে।
প্রথমে ১৭ এপ্রিল মুক্তির কথা থাকলেও, এখনও পর্যন্ত মুক্তি পায়নি। শোনা যাচ্ছে, সিনেমাটির একাধিক অংশ নতুন করে শুটিংও করা হচ্ছে।
তবে শুধু এই সিনেমাই নয়, ভারত-চীন সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে তৈরি আরও কয়েকটি সিনেমাও নাকি একই সমস্যার মুখে পড়েছে।
অভিনেত্রী ভাগ্যশ্রীর স্বামী এবং প্রযোজক হিমালয় দাসানি তার ছেলে অভিনেতা অভিমুন্য দাসানিকে নিয়ে ‘দ্য লায়ন অফ গালওয়ান’ নামে একটি সিনেমা তৈরি করার পরিকল্পনা করেছিলেন।

২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষে শহীদ হওয়া বীর চক্র প্রাপক সেপাই গুরতেজ সিংয়ের জীবনের উপর ভিত্তি করে তৈরি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আপাতত সেই সিনেমার কাজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে হিমালয় দাসানি জানান, এখন ভারত-চীন সম্পর্ক আগের তুলনায় অনেক ভালো। তাই গল্পটা নতুন করে ভাবতে হবে। স্ক্রিপ্ট তৈরি হওয়ার পরে শুটিংয়ের আগে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে। সেখান থেকে আমাদের জানানো হয়েছে,সিনেমাতে চীন-বিরোধী কোনও বিষয় রাখা যাবে না।
তিনি আরও বলেন, যদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্রই না পাই, তাহলে গালওয়ানের গল্প বলার কোনও মানে হয় না। কারণ সংঘর্ষের আসল কারণ বা লড়াইয়ের বাস্তব দিকই যদি দেখানো না যায়, তা হলে সেই সিনেমা বানানোর উদ্দেশ্য কোথায়? তাই আপাতত প্রোজেক্টটা স্থগিত রাখা হয়েছে।
গত বছরের শেষ দিকে নিজের জন্মদিনে সিনেমার প্রথম ঝলক প্রকাশ করেছিলেন সালমান খান। সেখানে তাকে লাদাখ সীমান্তে সেনা অফিসারের চরিত্রে দেখা যায়। কিন্তু টিজার প্রকাশের পরেই চীনের সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবাল টাইমস’ অভিযোগ তোলে, তথ্য বিকৃত করা হয়েছে। পরে ভারতের পর্যটন মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এই ধরনের সিনেমা তৈরির সঙ্গে তাদের কোনও সম্পর্ক নেই।
এখন শোনা যাচ্ছে, সিনেমার বেশ কিছু অংশ নতুন করে শুটিং করা হচ্ছে। একটি সূত্র জানিয়েছে, গালওয়ানের উল্লেখ নিয়েই এত বিতর্ক তৈরি হয়েছে যে, নির্মাতারা আর কোনও ঝামেলায় যেতে চাইছেন না। তাই সিনেমাতে সরাসরি চীনের নামও রাখা হচ্ছে না। আগে যেমন পাকিস্তানকে ‘পড়শি দেশ’ বলা হতো, এখানেও তেমন কৌশল নেওয়া হচ্ছে।
সূত্রের দাবি, ‘মাতৃভূমি’ এখনও সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পায়নি। তবে নির্মাতারা ওটিটে-তে মুক্তি দেওয়ার বদলে প্রেক্ষাগৃহেই সিনেমাটি আনতে চান। যদিও সেন্সর ছাড়াও ভারতীয় সেনা এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন হবে বলেই জানা গেছে।
পিআরি/টিকে