সকালে ঘুমাতে গিয়েছি, সারারাত কান্না থামাতে পারিনি: নেইমার
ছবি: সংগৃহীত
০৩:০০ পিএম | ২৫ মে, ২০২৬
কার্লো আনচেলত্তির হাতে বিশ্বকাপ স্কোয়াডের তালিকা। একে একে নাম বলে যাচ্ছেন। নেইমার কান খাড়া করে বসে আছেন তার নাম শোনার জন্য। কয়েক সেকেন্ডের অপেক্ষা শেষে শুনতে পেলেন ‘নেইমার’ নামটি। ২৬ জনের স্কোয়াডে টিকে গিয়ে তার অনুভূতি এতটাই তীব্র ছিল যে রাত কেটেছে নির্ঘুম। সারা রাত কেঁদেছেন সান্তোস তারকা।
ব্রাজিলিয়ান জাতীয় দলে প্রায় আড়াই বছর পর নিজের ফেরার খবর শুনে আবেগে ভেসেছেন ১০ নম্বর জার্সিধারী। সাও পাওলোতে একটি প্রচারণামূলক ইভেন্টে নেইমার জানালেন, চূড়ান্ত দল ঘোষণার পর তার প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল। দলে ডাক পাওয়ার বিষয়টি উপলব্ধি করতে বেশ সময় লেগেছে তারা এবং এর প্রভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জেগে ছিলেন আর ভাবছিলেন দলে ফেরার জন্য তার কঠিন পথচলার কথা।
স্ত্রী ব্রুনা বিয়ানকার্দি ও সন্তানদের সঙ্গে তার এক আবেগঘন রাত কেটেছে। নেইমার বললেন, ‘আমি সকাল সাড়ে ৬টা বা সাতটার দিকে ঘুমাতে গিয়েছিলাম, সব ভিডিও দেখছিলাম। আমি সারা রাত কান্না থামাতে পারিনি। আমি আমার স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে ছিলাম, একই বিছানায় ছিলাম। তারা ঘুমাচ্ছিল এবং আমি প্রত্যেকটি ভিডিও দেখে কেঁদেছি, কারণ এটা সহজ ছিল না।’
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শারীরিক চ্যালেঞ্জ ও অনিশ্চয়তার পর ব্রাজিলকে আরেকটি বিশ্বকাপে প্রতিনিধিত্ব করতে পারা নেইমারের জন্য অনেক তাৎপর্যময়। ফেরার প্রক্রিয়া যে বেদনাদায়ক ছিল তা লুকাননি তিনি। শেষ পর্যন্ত কষ্টের ফসল হিসেবে লক্ষ্য অর্জনের আনন্দ তার মনে।
ব্রাজিলের শীর্ষ গোলদাতা বললেন, ‘এটা ছিল কঠিন, অনেক কষ্টের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এর ফল ভালো হছে। এই ভালোবাসা, আবেগ ও ব্রাজিলিয়ান হওয়ার এই অনুভূতি এবং বিশ্বকাপে আপনাদের প্রত্যেকের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য এই কষ্ট সার্থক হয়েছে।
এখন পুরোপুরি শারীরিক ও কৌশলগত প্রস্তুতির দিকে মনোযোগ নেইমারের। সমর্থন দেওয়ার জন্য লাখ লাখ ফলোয়ারকে ধন্যবাদ জানালেন। আর এই দলে ডাক পাওয়াকে তার জীবনের অন্যতম বড় মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন তিনি। ইতালিয়ান কোচের কাছ থেকে পাওয়া সুযোগের মর্যাদা রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
নেইমার শেষ করলেন, ‘আমি ব্রাজিলের সবাইকে তাদের চমৎকার সমর্থন, উৎসাহ আর প্রতিক্রিয়ার জন্য ধন্যবাদ জানাই। এটা হতে যাচ্ছে খুবই বিশেষ একটি দিন, যেটা আমি সারাজীবন মনে রাখব।’
বিশ্বকাপের জন্য ডাক পাওয়া ফুটবলারদের নিয়ে আগামী ২৭ মে ব্রাজিলের প্রস্তুতি ক্যাম্প শুরুর কথা রয়েছে। এরপর ৩১ মে মারাকানায় পানামার বিপক্ষে একটি বিদায়ী প্রীতি ম্যাচ খেলবে আনচেলত্তির দল। ১ জুন পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা রওনা দেবে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে। সেখানে বিশ্বকাপের আগে আরও একটি প্রীতি ম্যাচে ৬ জুন মিশরের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। ১৩ জুন নিউ জার্সিতে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান।
এমআর/টিকে