এসকোবার, যার প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল বিশ্বকাপ
ছবি: সংগৃহীত
০৭:১২ পিএম | ২৬ মে, ২০২৬
জুন থেকে শুরু হচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপ। এবারই প্রথমবার ৪৮ দল নিয়ে মাতোয়ারা হবে ফুটবলের সবচেয়ে বড় ইভেন্ট। কানাডা-মেক্সিকোর সাথে মিলে বিশ্বকাপ আয়োজন করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তিন দশক আগে এই মার্কিন মুলুকেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল 'গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ'। সেই বিশ্বকাপ কেড়ে নিয়েছিল এক কলম্বিয়ান কিংবদন্তির প্রাণ। আনন্দের মহাযজ্ঞ কখনও যে 'প্রাণঘাতী' হয়ে উঠতে পারে, বিপুল বিস্ময়ে তা প্রত্যক্ষ করেছিল বিশ্ব।
কলম্বিয়া ১৯৯৪ বিশ্বকাপ খেলতে যায় দারুণ সম্ভাবনা নিয়ে। ওই সময়ে দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটির গায়ে জুটেছিল হট ফেবারিটের তকমা। কারণ তাদের ভাণ্ডারে ছিল অস্কার কর্ডোভা, কার্লোস ভালদেরামা, ভ্যালেন্সিয়া, এসকোবারদের মতো দুর্দান্ত সব ফুটবলার। আর দলের হেড কোচ ছিলেন ফ্রান্সিসকো মাতুরানা।
কিন্তু প্রথম ম্যাচে রোমানিয়ার কাছে হার মানে কলম্বিয়া। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচটা হয়ে দাঁড়ায় মাতুরানার শিষ্যদের জন্য বাঁচা-মরার ম্যাচ। কিন্তু আন্দ্রে এসকোবারের আত্মঘাতী এক গোলের কারণে ম্যাচটা তারা ২-১ ব্যবধানে হেরে যায়। অপ্রত্যাশিতভাবে গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়ে বিশ্বকাপ শেষ হয়ে যায় ল্যাতিন দেশটির।
দেশে ফিরে যাওয়ার পর এসকোবারকে মেডেলিনের রাস্তায় প্রকাশ্য দিবালোকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। কলম্বিয়ার সর্বকালের শ্রেষ্ঠ সেন্টারব্যাককে এভাবে জীবন দিতে হয় শুধুমাত্র একটা আত্মঘাতী গোল দেবার কারণে। এসকোবার সেদিন নিজের দলের জালে বল ঠেলে দেননি, তিনি যেন সপে দিয়েছিলেন যমদুয়ারে সাধের জীবন। ব্যর্থতার মাশুল যে এভাবে চুকাতে হবে, সেটা সম্ভবত ঘুণাক্ষরেও তিনি ভাবেননি।
এসকোবারকে গুলি করে হয়তো নিজের ক্ষোভ উগড়ে দিতে চেয়েছিল উগ্র আততায়ী। গুলি করার সময় উন্মাদের মতো চিৎকার করে সে বলছিল– 'গোল গোল!' 'আত্মঘাতী গোলের জন্য ধন্যবাদ!’ ফুটবল কখনও কখনও আপনাকে এমন কিছু মুহূর্ত উপহার দেবে, যা আপনার দুরন্তপনার ডানা ছেটে ফেলে নিমিষে! ফুটবল এমন কিছু গল্পের ডালা সাজাবে, যা এক তুড়িতে আপনাকে নিয়ে যাবে কুয়াশাচ্ছন্ন ভুল স্টেশনে..
এই হৃদয় বিদারক ঘটনা নিয়ে নির্মিত হয় 'দ্য টু এসকোবারস' নামে এক ডকুমেন্টারি ফিল্ম। শুধু ট্র্যাজিক নায়ক আন্দ্রে এসকোবারের হত্যার ইস্যু নয়, বরং সেই সময়ের মাফিয়াসম্রাট 'ফুটবলপ্রেমী' পাবলো এসকোবারও (যার অবিশ্বাস্য জীবনী অবলম্বনে একাধিক টিভিসিরিজ ও সিনেমা বানানো হয়েছে) এতে রয়েছে। দুজনের যাপিত জীবন ছিল বিপরীত মেরুতে কিন্তু খুন হওয়ার ঘটনার মাঝে কোথাও যেন পাখির মতো সূক্ষ্ম মিল! দুই এসকোবারই সাধারণ মানুষের কাছে নমস্য। আবার কারও কারও কাছে তারা ছিল চক্ষুশূল। এ যেন চিরন্তন সেই রবিনহুডের গল্প।
সিনেমাটা অপরাধ ও খেলার মাঠের মধ্যে এক অনিবার্য যোগসূত্র স্থাপন করে দেয় এবং উন্মোচন করে এসকোবারদ্বয়ের অপ্রকাশিত অন্তর্যাত্রা। ফুটবল তারকা এসকোবার মাত্র ২৭ বছর পৃথিবীর আলো দেখেছিলেন, বাতাস কেটে দৌড়েছিলেন। তার হত্যাকাণ্ডের পর কেটে গেছে ৩২ বছর। বিশ্বকাপ ফিরেছে ৩২ বছর পর ফের মার্কিন মুলুকে। কিন্তু এসকোবারের হত্যাকাণ্ডের কোনো কিনারা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ফুটবল কখনও কখনও আপনাকে নির্বাক করে দেবে।
এবি/টিএ