বিশ্বকাপ দেখতে বাড়ি বিক্রি করবেন ‘সুপারফ্যান’ অ্যান্ডি
ছবি: সংগৃহীত
০২:৩২ পিএম | ২৯ মে, ২০২৬
ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনা মানুষকে কতটা বুঁদ করে রাখতে পারে, তার এক অনন্য ও অবিশ্বাস্য নজির গড়লেন অ্যান্ডি মিলনে (ফুটবলপ্রেমীদের কাছে ‘মিলন’ নামেও পরিচিত)। প্রিয় দল ইংল্যান্ডের খেলা মাঠে বসে দেখার খরচ জোগাতে এবার নিজের বাড়িই বিক্রি করে দিচ্ছেন ৬২ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত এই শিক্ষক।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে আসন্ন বিশ্বকাপে দলের প্রতিটি ম্যাচ গ্যালারিতে বসে দেখার স্বপ্নপূরণের জন্যই এই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এ সুপারফ্যান।
৬২ বছর বয়সী অ্যান্ডি মিলনে বিশ্বজুড়ে ফুটবল সমর্থকদের কাছে অত্যন্ত পরিচিত মুখ। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের সময় গায়ে ইংল্যান্ডের জার্সি এবং হাতে বিশ্বকাপের একটি রেপ্লিকা ট্রফি নিয়ে তার উচ্ছ্বসিত ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল ভাইরাল হয়েছিল।
বর্তমানে থাইল্যান্ডে বসবাসরত অবসরপ্রাপ্ত এই ব্রিটিশ শিক্ষক ২০২৪ সালে বিবিসির মর্যাদাপূর্ণ ‘স্পোর্টস পারসোনালিটি অব দ্য ইয়ার’ অনুষ্ঠানেও অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত হয়েছিলেন।
এ পর্যন্ত তিনি পুরুষ ও নারী দল মিলিয়ে মোট ৯টি বিশ্বকাপ সরাসরি মাঠে বসে উপভোগ করেছেন।
আসন্ন মেগা টুর্নামেন্টের বিপুল খরচ মেটাতে ইংল্যান্ডের চেশায়ারের নর্থউইচ এলাকায় থাকা তার দ্বিতীয় বাড়িটি বিক্রির জন্য বাজারে তুলেছেন মিলনে। বাড়িটির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা কয়েক কোটি টাকা)।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘মিরর’-কে মিলনে বলেন, ‘আমি মূলত বিশ্বকাপে যাওয়ার খরচ জোগাতেই বাড়িটি বিক্রি করছি। কাতার বিশ্বকাপ ছিল নিজের জমানো টাকায় নিজেকে দেওয়া এক উপহার। আর চেশায়ারের এই বাড়িটি আমাদের কাছে দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে রয়েছে। আমার মনে হয়েছে, বড় একটি স্বপ্নের জন্য এটি বিক্রি করার এটাই সঠিক সময়।’
১৯৮২ সালে স্পেনে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে প্রথমবার গ্যালারিতে বসে খেলা দেখেছিলেন মিলনে। এবার তিনি প্রায় সাত সপ্তাহ যুক্তরাষ্ট্রে থাকবেন এবং ফাইনাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের প্রতিটি ম্যাচের টিকিট ইতিমধ্যেই সংগ্রহ করে ফেলেছেন।
তবে বাড়ি বিক্রি করলেও খরচ কমাতে মেক্সিকো, ডালাস ও ভ্যাঙ্কুভারে বন্ধুদের বাসায় ‘কাউচ সার্ফিং’ বা অতিথি হিসেবে থাকার পরিকল্পনা রয়েছে তার।
মিলনের এই অবিশ্বাস্য ত্যাগের খবরের মাঝেই আসন্ন বিশ্বকাপের টিকিটের আকাশচুম্বী মূল্য নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনা ঝড় বইছে। ইউরোপভিত্তিক সংগঠন ‘ফুটবল সাপোর্টার্স ইউরোপ’ অতিরিক্ত মূল্যের কারণে ফিফার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগও দায়ের করেছে।
হিসাব অনুযায়ী, একজন দর্শক যদি গ্রুপ পর্ব থেকে ফাইনাল পর্যন্ত মোট ৮টি ম্যাচ মাঠে বসে দেখতে চান, তবে তার টিকিট খরচ হবে—সর্বনিম্ন শ্রেণির প্রায় ৫,২২৫ পাউন্ড, মধ্যম শ্রেণির টিকিট—প্রায় ৮,৫৮০ পাউন্ড এবং সর্বোচ্চ শ্রেণির টিকিট প্রায় ১২,৩৫০ পাউন্ড।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো টিকিটের এই চড়া দামকে ‘অস্বাভাবিক চাহিদার প্রতিফলন’ বলে দাবি করলেও ফুটবলপ্রেমীদের ক্ষোভ কমছে না। তা ছাড়া অতীতে ফ্যান জোনগুলো সবার জন্য উন্মুক্ত ও বিনা মূল্যে হলেও এবার কিছু আয়োজক শহরে ফ্যান জোনে ঢোকার জন্যও টাকা নেওয়া হবে।
দি অ্যাথলেটিকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বকাপ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনের মতো আয়োজক শহরগুলোতে ট্রেনের ভাড়া চার গুণ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে, যা সাধারণ সমর্থকদের জন্য এক বড় ধাক্কা। এর আগে কাতার বিশ্বকাপে টিকিটধারীদের জন্য মেট্রো ভ্রমণ ছিল সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে।
কেএন/এসএন