মেসিদের নকল জার্সিতে আর্জেন্টিনার মার্কেটে নতুন সংকট
ছবি: সংগৃহীত
০৪:০৩ এএম | ৩০ মে, ২০২৬
বিশ্বকাপ জ্বর এখন ছড়িয়ে পড়েছে আর্জেন্টিনাজুড়ে। বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের দেশে এখন রাস্তাঘাট, দোকানপাট- সবখানেই ফুটবলের উন্মাদনা। এই উন্মাদনার মাঝেই বেড়েছে নকল আর্জেন্টিনা জার্সি ও ফুটবল স্টিকার কার্ডের বিক্রি।
আর এতে ক্ষুব্ধ স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইয়ের বাজার উন্মুক্ত নীতির চাপে এমনিতে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে, তার ওপর নকল পণ্যের দৌরাত্ম্য নতুন সংকট তৈরি করেছে।
বুয়েনস এইরেসের প্রধান সড়কগুলো এখন সেজেছে আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা রঙে। পতাকা, টুপি, টি-শার্ট, এমনকি জনপ্রিয় পানীয় ‘মাতে’ খাওয়ার পাত্রেও ফুটে উঠছে বিশ্বকাপের আবহ।
বুয়েনস এইরেস বণিক সমিতির প্রধান ফাবিয়ান কাস্তিয়োর ভাষায়, ‘২০২২ সালের বিশ্বকাপ জয়ের পর এমন মানুষও ফুটবলের আবেগে ভাসছে, যারা সাধারণত ফুটবল পছন্দ করে না।’

তবে তার ধারণা, রাস্তায় বিক্রি হওয়া আর্জেন্টিনা দলের জার্সির ৭০ শতাংশেরও বেশিই নকল। যদিও অনেক ক্রেতাই কম দামের কারণে মূলত জেনেশুনে এসব জার্সি কিনছেন। আসল জার্সির উচ্চমূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ায় নকল পণ্যের বাজার জমজমাট।
বিশেষ করে আর্জেন্টিনার অর্থনৈতিক সংকট এই প্রবণতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না মানুষের আয়। ফলে ক্রয়ক্ষমতা কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। এছাড়া সরকারের আমদানি নীতির কারণে কারখানায়ও বিদেশি সস্তা পোশাক ঢুকে পড়ায় স্থানীয় টেক্সটাইল শিল্পও চাপে পড়েছে। অনেক কারখানা এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে।
বুয়েনস এইরেস প্রদেশের পোশাক ব্যবসায়ী লুকাস আরান্দা জাতীয় দলের একেকটি জার্সি বিক্রি করছেন ৪০ হাজার পেসোয়, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় সাড়ে ৩ হাজার টাকা। যা আসল জার্সির দামের মাত্র চার ভাগের এক ভাগ।
শুধু জার্সিই নয়, বিশ্বকাপ উপলক্ষে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা ফুটবল স্টিকার কার্ডেও ছড়িয়েছে নকলের বাজার। শিশুরা তো বটেই, বড়দের মধ্যেও বিশ্বকাপ অ্যালবাম পূরণের আগ্রহ ব্যাপক। দোকানে আসল স্টিকার মিললেও অনলাইনে কম দামে বিক্রি হচ্ছে নানা ‘বিকল্প’ সংস্করণ।
আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় শুরু হবে ফুটবল বিশ্বকাপ। শিরোপাধারী আর্জেন্টিনা নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলবে ১৬ জুন, আলজেরিয়ার বিপক্ষে।
একেএস/ টিএ